বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» বিশ্ব »রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ১৩ ভিসির বিবৃতি
রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ১৩ ভিসির বিবৃতি

Saturday, 28 February, 2015 09:28pm  
A-
A+
রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ১৩ ভিসির বিবৃতি

বাংলাদেশ টাইম 

চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ১৩ জন ভিসি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশব্যাপী গুম, খুন, অপহরণ, সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, নির্বিচারে গণ-গ্রেফতারসহ বিভিন্ন রকম অন্যায় অত্যাচারে দেশ ছেয়ে গেছে।

৫ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ভোটারবিহীন, জনগণের অংশগ্রহণহীন, অগ্রহণযোগ্য এই নির্বাচনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিয়মরক্ষার নির্বাচন বললেও বর্তমানে তারা বেমালুম ভুলে গিয়ে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

যে নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার, ডেপুটি-স্পিকার, মন্ত্রী, এমপি ও দেশের সাধারণ জনগণ ভোট দিতে পারে নাই, সেই সরকার কিভাবে ৫বছর ক্ষমতায় থাকতে চায় তা দেশের সাধারণ জনগণ বুঝতে পারে না।

জনসাধারণের এই রাজনৈতিক ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দমনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে সরকার বলে মনে করেন তারা।

বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান।

তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাসী, সুবিধাভোগি, দুর্নীতি পরায়ন, দলবাজ কর্মকর্তাকে দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে দেশের সাধারণ জনগণের ওপর গুম, খুন, অপহরণ, সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- চালানো হচ্ছে। হাজার-হাজার সাধারণ জনগণকে গুলি করে পঙ্গু করা হয়েছে।

গণপিটুনির নামে গুলি করে মানুষ হত্যা, গাড়ীর চাকায় পৃষ্ট করে মানুষ হত্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন সংযোজন বলেন তারা।

গাড়ীতে পেট্রল বোমা মেরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের হাতে ধরা পরছে সরকার দলীয় ক্যাডাররা। কিন্তু গ্রেফতার করা হচ্ছে ২০ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে।

বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ২ দিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জাকির হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদককে পেট্রল বোমাসহ আটকের সাজানো সাংবাদিক সম্মেলন  করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলে উল্লেখ করেন বিবৃতিতে।

আরো উল্লেখ করা হয়, মাহমুদূর রহমান মান্নাকে রাত ৩টায় আত্মীয়ের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাক ধারীরা(পারিবারিক সূত্র)। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রেস ব্রিফিং করে জানান তারা গ্রেফতার করেন নি।

এর ১ দিন পর আবারও প্রেস ব্রিফিং করে মান্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার দিশেহারা হয়ে ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই এ ধরনের অপকৌশল করে টিকে থাকা যায় না। দেশের কোটি-কোটি জনগণ আজ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়।

মেনডেট বিহীন কোন সরকারকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা চাই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক, আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, বন্ধ মিডিয়া খুলে দেওয়া হোক, সকল গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করুক।

এই শিক্ষাবিদরা বলেন, আমরা সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাই, দেশব্যাপী অস্থিরতা বিরাজ করছে। হাজার-হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে তা সকলে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুক।

দেশের সাধারণ জনগণ, সুধী সমাজ, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থাসমূহ, বন্ধু রাষ্ট্রসহ সকল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করতে প্রতিনিয়ত আহ্বান জানাচ্ছে।

আমরাও তাদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করছি। আমরা চাই, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হউক।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সাবেক ভিসিদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক ভিসি ঢাবি, অধ্যাপক ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, সাবেক ভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান, সাবেক ভিসি মাওলানা ভাসানি বিশ্ববিদ্যালয়।

অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ ফারুক, সাবেক ভিসি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. উমর ফারুক, সাবেক ভিসি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. এ এস এম ফায়েজ, সাবেক ভিসি ঢাবি, অধ্যাপক ডা. তাহির, সাবেক ভিসি বিএসএমএমইউ।

অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, সাবেক ভিসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক ভিসি হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক, সাবেক ভিসি।

এছাড়াও অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহম্মেদ, সাবেক ভিসি, অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সাবেক প্রো-ভিসি, ঢাবি, অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া, বিএসএমএমইউর সাবেক প্রো ভিসি প্রমুখ।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP