বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» এনজিও »‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করার দাবী জানা
‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করার দাবী জানা

Thursday, 26 July, 2018 04:28pm  
A-
A+
‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করার দাবী জানা

বাংলাদেশ টাইম: তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ে ও বিপণনের জন্য বাংলাদেশে কোন সু-নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এমনকি তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের সাথে সম্পৃক্তদের নির্ধারিত কোন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণের ব্যবস্থা নাই। যে কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের আশেপাশের এলাকা, ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, খাবারের দোকান, রেষ্টুুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তামাকজাত পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। সহজ লভ্যতা ও সহজ প্রাপ্যতার কারণে যত্রতত্র তামাকজাত পণ্যের বিপণন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। উৎকন্ঠার বিষয় এ সকল দোকানের সংখ্যা দিনদিন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এর বিক্রয়ে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রণয়ন করে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এফসিটিসি বাস্তবায়নে একটি কার্যকারী পদক্ষেপ হতে পারে এই লাইসেন্সিং ব্যবস্থা। মদ বিক্রয়ের জন্য যেমন লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়, তেমনি তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য বিশেষ লাইসেন্স দেয়া যেতে পারে।

তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গ্রহণে এইড ফাউন্ডেশন ২০১৫ সাল থেকে অদ্যাবধি কাজ করছে। দেশের বেশ কয়েকটি পৌরসভা (ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও যশোর) তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য আলাদা লাইসেন্স ইস্যু করেছে এবং বর্তমানে করছে। কিন্তু জাতীয় ভাবে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন্দ্রীয় ভাবে দেশের সকল সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভায় তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য পৃথক লাইসেন্স গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র একটি নির্দেশনা বা পরিপত্র জারি করে তবে বাংলাদেশে যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটবে একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ বাসÍবায়নে কার্যকারী ভূমিকা রাখবে।

উপরোক্ত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আজ ২৫ জুলাই ২০১৮ ইং, বুধবার সকাল ১০:০০ টায় এইড ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সম্মিলিত উদ্দোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলনকক্ষ-২ লাউঞ্জ (তৃতীয় তলা) এ ‘যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, আমিনুল ইসলাম বকুল। তারই ধারাবাহিকতায়, তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কারীদের ব্যবসার প্রকৃত পরিস্থিতি অন্বেষণকল্পে, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের-৬ টি পৌরসভায় একটি পর্যবেক্ষণ জরিপের ফলাফল আলোক চিত্রে উপস্থাপন করেন জনাব কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক, সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা, এইড ফাউন্ডেশন। প্রদর্শিত পর্যাবেক্ষনের উপর সকলের সমন্বয়ে এক মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নউত্তর পর্ব গ্রহণ করা হয়। 

উত্থাপিত প্রশ্নের আলোকে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জনাব আবু নাসের খান, সভাপতি, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, এ কে এম খলিল উল্লাহ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, নাটাব, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারন সম্পাদক হেলাল আহমেদ, ড. এ.এফ.এম সরোয়ার, সহযোগি অধ্যাপক, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, শারমিন আক্তার রিনি, প্রকল্প কর্মকর্তা, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ব্যক্তি ও সুশিল সমাজ প্রতিনিধিরা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে তামাক নিয়ন্ত্রন আইনের গুরুত্ব সহ তামাক কোম্পানীর আইন ভঙ্গের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রনে লাইসেন্স তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নের উপর বক্তারা গুরুত্ব আরোপ করেন। যত্রতত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বন্ধে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০০ গজের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বন্ধের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পৌরসভা সমূহ স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা)- ২০০৯ এর ক্ষমতাবলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তামাকজাত পণ্যের বিপণনের উপর লাইসেন্স আরোপ করতে পারে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।

তারই ধারাবাহিকতায়, তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কারীদের ব্যবসার প্রকৃত পরিস্থিতি অন্বেষণকল্পে, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের-৬ টি পৌরসভায় (ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর ও রাজবাড়ী) একটি পর্যবেক্ষণ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপের তথ্য সংগ্রহের জন্য গুণগত এবং পরিমানগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। জরিপে দৈবচয়ন এবং উদ্দেশ্যপ্রোণিত নমুনায়ণের ভিত্তিতে মোট ৬২ টি নমুনা নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যিত ক্ষুদ্র ও মাঝারী তামাকজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী। জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, সামগ্রীকভাবে প্রকল্প চলাকালীন এলাকায় তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ে লাইসেন্স গ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৯%, লাইসেন্স গ্রহণ করেনি ২১%। 

প্রকল্প চলাকালীন এলাকার মধ্যে রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ পৌরসভায় লাইসেন্স গ্রহণের হার ২০.৪%, মেহেরপুরে ২৪.৫%, যশোরে ১৪.৩% এবং কুষ্টিয়া পৌরসভায় ০%। লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ১-৬ মাসে গ্রহণ করেছে ১০.২%, ৭-১২ মাসে গ্রহণ করেছে ৭৩.৫% এবং ১২ মাসের পরে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে ১৬.৩%। তামাকজাত দ্রব্য লাইসেন্সিং নীতিমালা আছে ৬৭.৭% পৌরসভায়, নীতিমালা নাই ৩২.৩% পৌরসভায়। প্রকল্পচলাকালীন এলাকার মধ্যে রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ পৌরসভায় লাইসেন্সিং নীতিমালা প্রদানের হার ২৩.৮০%, মেহেরপুর পৌরসভায় ২৮.৬% এবং যশোর ও কুষ্টিয়া পৌরসভায় হার ০.০%। সামগ্রীকভাবে উল্লেখিত পৌরসভার এলাকা গুলিতে ১৮ বছরের নিচে বয়সের ক্রেতাদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের শতকরা হার ৮৮.৭%, বিক্রয় করে না ১১.৩%। তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭.৮% কোম্পানী কর্তৃক তামাকের বিজ্ঞাপণ দ্বারা সজ্জিত করে ও ১২.২% বিক্রয় কেন্দ্রে বিক্রেতারা নিজেরাই সজ্জিত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের দোকানের উপস্থিতি ৩৩.৯%, আর ৫০০ মিটারের বাইরে ৬৬.১%। 

তামাকজাত দ্রব্য লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জন্য সুবিধা প্রাপ্ত হচ্ছে ৯২.৯% ও কোন সুবিধা পায় না এ ধরণের দোকানের হার ৮%। লাইসেন্স গ্রহণের ফলে বিক্রেতাগণ যে ধরণের সুবিধা ভোগ করেন তার মধ্যে ৪৫.৭% বিক্রেতারা বলছেন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ে তাদের সুবিধা হয়েছে, ২১.৩% বিক্রেতাগণ বলছেন আয়কর সংগ্রহে সুবিধা হচ্ছে এবং ৩৩% বিক্রেতারা বলছেন পাইকারী বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP