বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» »জাতীয়তাবাদী ওলামারা সব উধাও!
জাতীয়তাবাদী ওলামারা সব উধাও!

Tuesday, 18 November, 2014 12:31  
A-
A+
জাতীয়তাবাদী ওলামারা সব উধাও!
বিএনপির সহযোগী সংগঠন ওলামা দল। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া এ সংগঠনের অবস্থা এখন বেহাল। শুধু জানাজা, দোয়া, মিলাদ মাহফিল আর হুটহাট বিবৃতি দেয়া ছাড়া প্রায় এদের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে গঠনের পর থেকে এ সংগঠনের একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত নেই। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই ঢিমেতালে চলছে। শীর্ষ নেতৃত্বের অযোগ্যতায় একের পর এক নিষ্ক্রিয় হচ্ছে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা কমিটি। জেলা কমিটিগুলোর অবস্থাও একই। সংগঠনটিতে যুক্ত হচ্ছে না প্রখ্যাত আলেম-ওলামারা।

বর্তমান কমিটির দীর্ঘ ৯ বছরে কেন্দ্রীয় সম্মেলন তো দূরের কথা একটি বর্ধিত সভা কিংবা পরিচিতি সভাও হয়নি। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামেও তাদের জোরালো কোনো ভূমিকা নেই। ইসলামবিরোধী কোনো ইস্যুতে একটি বিবৃতি দিতেও দেখা যায়নি।

এমনকি দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করলে কোনো প্রস্তুতি সভাও করে না সংগঠনটি। এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে মাথা ঘামান না বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। দলটির গ্রুপিং-কোন্দল নিরসনে উপেক্ষিত হয়েছে চেয়ারপারসনের নির্দেশও।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দলকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ইসলামি চিন্তাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ওলামা দল গঠন করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। নব্বইয়ের দশকে সংগঠনটির প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি মাওলানা এসএম রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন নির্বাচিত হন।

তবে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ১৯৯৭ সালে কমিটি ভেঙে দিয়ে সৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন দলের চেয়ারপারসন। মাইজভান্ডারী বিএনপি থেকে বেরিয়ে নতুন দল গঠন করেন। এরপর ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর হাফেজ আব্দুল মালেককে সভাপতি এবং হাফেজ মাওলানা নেছারুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ওই কমিটির (যা এখনো বর্তমান) অনেকেই মারা গেছেন বা বয়োবৃদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। কর্মী সংখ্যা নেই বললেই চলে। সারা দেশে ৭৫টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে অনেক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম নেই।

অভিযোগ রয়েছে, দলটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা ইচ্ছেমতো সংগঠন চালাচ্ছেন। দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা ছাড়া নিজেরাই কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। অনেক ক্ষেত্রে পদ বাণিজ্য হয়। এর প্রতিবাদ করলে দেয়া হয় বহিষ্কারের হুমকি।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের ৪৯টি থানার মধ্যে নামেমাত্র কমিটি রয়েছে অর্ধেকের। ২০১২ সালের ৩০ জুলাই সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণার লিখিত আবেদন জানান বাড্ডা, গুলশান, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত, রমনাসহ বেশ কয়েকটি থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো উদ্যোগই নেননি দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে ২০১২ সালের ৬ আগস্ট এই অচলাবস্থা নিরসনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে নতুন কমিটি দেয়ার আবেদন জানান সংগঠনের ১১৮ জন নেতা। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংগঠনের নাজুক পরিস্থিতির কথা অবহিত করেন তারা। এরপর মির্জা ফখরুল ওলামা দলের সাংগঠনিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য দায়িত্ব দেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে। তিনিও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কয়েকদফা বৈঠক করেন। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। কিংবা তিনি আদৌ রিপোর্ট জমা দিয়েছেন কি না তাও জানা যায়নি।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, দলীয় কর্মসূচিগুলো ওলামা দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ভাগ করে দেন। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল বা দলীয় কোনো নেতার জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, জানাজাতে গুটি কয়েকজন নেতা হাজির হন।

তিনি বলেন, যোগ্য নেতৃত্বের হাতে সংগঠনটির দায়িত্ব দিলে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা এই দলে অন্তর্ভুক্ত হতেন। এছাড়া সারা দেশে জেলা ও থানা কমিটিগুলো পুনগর্ঠন করতে পারলে জামায়াতের মতো শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে পারতো।

সাংগঠনিক দূর্বলতার কথা স্বীকার করে ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ এম এ মালেক বলেন, ‘সারাদেশের চাইতে রাজধীনীতে আমাদের সংগঠন কিছুটা দুর্বল তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হচ্ছে। খুব দ্রুততার সাথে ঢাকা মহানগরী ও বিভিন্ন জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরপরই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে।’

তবে পদ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এসব অপপ্রচার। দলের অভ্যন্তরের কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব ছড়াচ্ছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদ দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ছোট সংগঠন। আমাদের কোনো অফিস নেই। কোনো সাংগঠনিক সভা থাকলে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তিন তলায় তা করা হয়। অসংখ্যবার অফিস কক্ষ বরাদ্দ দেয়ার জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কিন্তু কক্ষ খালি না থাকার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন নতুন ভবন করা হলে কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হবে।’

সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হকও। তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ছয় বছর হয়ে গেছে। আমরাও চাই কমিটি হোক। তাই গত রমজানে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে নতুন কমিটি দেয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছি। তিনি সংগঠন গোছানোর কথা বলেছেন। আমরা সেভাবে গোছাচ্ছি।’

আন্দোলন কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের কম উপস্থিতির বিষয়ে নেছারুল হক বলেন, ‘যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলের পরে আমাদের ওলামা দলকে গুণতে হবে। তারপরও আমরা কর্মসূচিগুলোতে কর্মী সমাগম করার চেষ্টা করি।’

সংগঠন গোছানোর কর্যক্রম ধীর গতিতে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কমিটিতে যাদেরকে পদ দেয়া হয়েছিল তারা পারতেছে না। আমরা সেগুলো মাথায় রেখে রাজধানীসহ সারাদেশের জেলা কমিটিগুলো করার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু জেলা কমিটি করতে চাইলেও সরকারের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই মুহূর্তে জেলায় ঢাকঢোল পিটিয়ে মিটিং করতে পারি না।’

৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৫০টির কমিটি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওলামা দলকে ভালোভাবে শক্তিশালী করতে পারলে জামায়াতের উপর নির্ভর করতে হতো না বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দলের ভেতরে দুই চারটা লোক আছে যারা আমার বিপক্ষে কথা বলে। তারা আমাদের ও দলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

ওলামা দলের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘আসুন, সাক্ষাতে কথা হবে।’

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP