বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» »সরকারিভাবে বিএনপি বিরোধী দলে পড়ে না: এইচটি ইমাম
সরকারিভাবে বিএনপি বিরোধী দলে পড়ে না: এইচটি ইমাম

Monday, 17 November, 2014 01:04  
A-
A+
সরকারিভাবে বিএনপি বিরোধী দলে পড়ে না: এইচটি ইমাম
বিএনপির দাবি অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন না প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মিডিয়া তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করেছে। সরকারিভাবে বিএনপি বিরোধী দলে পড়ে না। আওয়ামী লীগ তাকে পদত্যাগ করতে বলেনি।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং বিসিএসে ছাত্রলীগের চাকরির ব্যাপারে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেঁসে যাওয়ার চারদিন পর তিনি মুখ খুললেন।

এইচটি ইমাম বলেন, ‘একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেই সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনের বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি জামায়াতের নাশকতার বর্ণনা দেই। কিন্তু আমার বক্তব্যের পুরো অংশ প্রচার না করে, খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে বানচাল করার নামে ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়া, ভাঙচুর করা, পেট্রোলবোমা থেকে শুরু করে এমন কোনো অঘটন নেই, যা বিএনপি জামায়াত ঘটায়নি। প্রশাসনের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্যদিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এইচটি ইমাম আরো বলেন, ‘আমি প্রশাসনে থাকাকালে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। ভোটগ্রহণ কর্মকতা থেকে শুরু করে সকলেই যে সাহসি ভূমিকা পালন করেছে তা প্রশংসনীয়। নির্বাচনকালে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের অব্যাহত সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জনগণের জানমাল রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছি। তারাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে।’

এইচটি ইমাম বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে ছাত্রলীগকে বলেছি যে, ঠিকমত পড়াশুনা করে লিখিত পরীক্ষা দিয়েই তাদের চাকরি পেতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক যে কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনে আমি তাদের কোচিং করতেও বলি। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার পরামর্শ দিয়েছি তাদের।’

তিনি বলেন, ‘যদি তারেক রহমানের নিয়মে ছাত্রদলের কর্মীদের চাকরি পাইয়ে দেয়ার মতো বর্তমান সরকারেরও ইচ্ছা থাকতো তাহলে আমরা তাদের রাত জেগে পড়াশুনা করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে উপদেশ দিতাম না।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অন্য পরীক্ষার কথা বাদই দিলাম। গত ৬টি বিসিএসে যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের মধ্যে কয়জন আওয়ামী লীগকর্মী আছেন সেটা খতিয়ে দেখতে পারেন। যারা বাংলাদেশকে বিশ্বে জঙ্গিবাদের দেশ হিসেবে পরিচিত করেছেন তারাই আবার জনগণকে আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে।’

তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার বক্তব্য হুবহু প্রকাশের অনুরোধ জানান। দাবি করেন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া পুরো বক্তব্য শুনলে এই ভুল বোঝবুঝির সৃষ্টি হতো না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাদের ( ছাত্রলীগ) বলেছিলাম যেখানে লিখিত পরীক্ষায় ১ হাজার মার্ক। সেখানে পড়াশুনা না করলে কখনোই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না। আমি তাদের কীভাবে ভাইবা দেবে, কীভাবে প্রশ্ন করবে, উত্তর কীভাবে দেবে এসব ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছি।’

বিএনপির দাবি অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিরোধীরা পদত্যাগ করতে বললেই আমি পদত্যাগ করবো? আর সরকারিভাবে বিএনপি বিরোধী দলে পড়ে না। আমাদের দলাতো আর পদত্যাগ করতে বলেনি।’

বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ, তিনি বিশ্রামে আছেন। তার আশপাশের লোকেরা বলছেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) বিশ্রামের প্রয়োজন। আমিও মনে করি অত্যন্ত পরিশ্রম করছেন তিনি। তার বিশ্রামের প্রয়োজন। বিশ্রাম নেয়ার জন্যই তিনি লন্ডন সফর বাতিল করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় কিছুক্ষণের জন্য সংসদে গিয়ে বক্তব্য দিয়ে আবার চলে এসেছেন। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিরক্ত করার মতো মানসিকতা আমার নেই।’

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP