বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» টেক »সাইবার অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ
সাইবার অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ

Wednesday, 11 April, 2018 11:03am  
A-
A+
সাইবার অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ
বাংলাদেশ টাইম : বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর গত ৩ মাস আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয় মেয়েটির। আগে থেকেই ফেসবুকে একটি একাউন্ট ছিল। বিয়ের এক সপ্তাহ পর মেয়েটির নামে আরেকটি একাউন্ট খুলে নানা ধরনের অশ্লীল ছবি পোস্ট করা শুরু হয়। পরিচিতদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটি মুষড়ে পড়ে। ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় সংসার। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে স্বামীকে কোনোভাবে রাজি করিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। দেড় মাসেরও বেশি সময় চেষ্টা করে পুলিশ ভুয়া আইডি বানানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। তিনি ওই মেয়েটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। এসব করার কারণ হিসেবে তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাকে অনেক পছন্দ করে, কখনো বলতে পারেনি। কিন্তু বিয়ে হওয়ার খবর জানার পর সে মেনে নিতে পারছে না।

এই ধরনের অভিযোগের সুরাহা করতে পুলিশকে অনেক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। তারপরও সব অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তে যেতে পারছে না। ফলে কিভাবে এই ফেসবুক সমস্যার প্রতিকার করবে তা নিয়েই উদ্বিগ্ন পুলিশ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০ জনের একটি গ্রুপ করে তিন দিনের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় ২০ জনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে গত সোমবার। গতকাল থেকে নতুন গ্রুপের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্ক।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের উপ-কমিশনার আলীমুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের কাছে যত অভিযোগ আসছে তার অধিকাংশই ফেসবুক নিয়ে। কিছু ই-মেইল সংক্রান্ত। আমরাও সবাইকে এটেন্ড করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এক-একটি অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে অনেক সময় লাগে। তারপরও গত ৩ মাসে আমরা ৬টি মামলার চার্জশিট দিয়েছি। আরো একটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। গত বছর আমাদের কাছে সরাসরি এসে অভিযোগ করেছিল ৫৬৬ জন। এর মধ্যে ২৩৩টি ঘটনার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপসের মাধ্যমে অভিযোগ এসেছে ৫ হাজার ৮৪২টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই অভিযোগগুলোর বাইরেও রাজধানীর ৪৯টি থানায় (একটি আদেশ হলেও চালু হয়নি, সেটা ধরলে ৫০টি) গড়ে প্রতিদিন ২টা থেকে ৩টা করে ফেসবুকে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ আসছে। সে হিসেবে শুধু রাজধানীর থানাগুলোতেও মাসে ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার অভিযোগ আসছে। বছরে যেটার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার অভিযোগ। এর বাইরে সারাদেশের থানা তো আছেই। এই ধরনের অভিযোগ শুধু পুলিশের কাছেই যাচ্ছে তা নয়, বিটিআরসি ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের হেল্প ডেস্কেও অভিযোগ হচ্ছে। পুলিশ নিজেদের মতো করে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের প্রধান মাধ্যম হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, শতকরা ৭০ ভাগ অভিযোগই আসে নারীদের থেকে। সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে পুলিশের পাশাপাশি আইসিটি বিভাগে একটি সাইবার হেল্প ডেস্ক রয়েছে। অন্যের ছবিতে ছবি জুড়ে দেওয়া (সুপার ইম্পোজ) এবং পর্নোগ্রাফি। তা ছাড়া ইউটিউব ও বিভিন্ন সাইটে এসব পর্নোগ্রাফি ও ছবি ‘আপ’ করার হারও বেড়েছে।

গত ৩ মাসে সাইবার অপরাধে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত বছর এই একই অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিল ৭২ জন। সাইবার ক্রাইম ইউনিট গত বছর চার্জশিট দিয়েছে ২৯টি মামলার। এখন পর্যন্ত ১১৯টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। দেশে উগ্রপন্থি এবং জঙ্গিরা ব্যাপকভাবে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও, তাদের অনেককেই আইনের আওতায় আনা বা চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

এদিকে কোনো তথ্যের ব্যাপারে ফেসবুকের কাছে ই-মেইল করা হলে তার জবাব আসতে সময় লাগে। আগে অধিকাংশ মেইলেরই জবাব দিত না ফেসবুক। বর্তমানে তারা সাড়া দিচ্ছে বলে জানালেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিশুক চাকমা। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, গত তিন মাসে তিনি ২২টি মেইল করেছিলেন। এর মধ্যে ফেসবুক জবাব দিয়েছে ১৭টি মেইলের। গেল বছর তিনি ৪৪টি মেইল পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে জবাব পেয়েছেন ২৩টি মেইলের। অপরাধীরা যখন বুঝতে পারবে এখানে অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না, তখন অপরাধের প্রবণতাও অনেক কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP