বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »‘হামার সোয়ামি আজনিতি করে না’
‘হামার সোয়ামি আজনিতি করে না’

Sunday, 8 May, 2016 11:33pm  
A-
A+
‘হামার সোয়ামি আজনিতি করে না’
বাংলাদেশ টাইম: বৃদ্ধা মা আর স্ত্রী সাহিদা বেগমের বুকফাটা আর্তনাদ আর দুই মেয়ের দৃষ্টি দেখে সবারই চোখ ভিজে যাবে। একদিন আগেও যে বাড়িতে ছিল প্রাণের স্পন্দন, একজনের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে সেই বাড়িতেই এখন শোকের মাতম।

রোববার বিকালে গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে জামদানি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ফাইভ স্টার মোড়ে শনিবার রাতে নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহত লেবু মণ্ডলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

বিকালেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লেবু মণ্ডলের লাশ বাড়িতে পৌঁছে। বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়।

নিহতের স্বজনরা জানালেন, লেবু মণ্ডল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জামদানি গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের মণ্ডলের ছেলে। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পীরগঞ্জ ক্ষেজমতপুর শাখায় অস্থায়ী নৈশ্প্রহরী ছিলেন।

ছয়জনের সংসারে লেবুর সুমনা নামের একটি পালিত মেয়েও আছে। বড় মেয়ে লিমা খাতুন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট মেয়ে বৃষ্টি খাতুন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে সুমনার।

শনিবার চতুর্থ দফায় সাদুল্যাপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভোট হয়। নির্বাচনে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০টির ফল কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হয়। নজপাড়া ও আরাজি ছত্রগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফল ঘোষণা না করে উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থকরা রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফাইভ স্টার মোড়ে শুয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে।

রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  আবু রায়হান দোলনের নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় অবরোধকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি ছুড়লে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ক্ষেজমতপুর শাখার দোতালা থেকে মহাসড়কে নামার সময় ভবনের বারান্দায় লেবু মণ্ডলের মাথায় গুলি লাগে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান বলে জানান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

রোববার বিকালে লেবু মণ্ডলের লাশ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। স্ত্রী সাহিদা বেগম মাটিতে মাথা আছড়ে আহাজারি করছেন। পাশে তার দুই মেয়ে লিমা ও বৃষ্টি নির্বাক হয়ে বসেছিল।

সাহিদা থেকে থেকে বলে উঠছিলেন, “হামার সোয়ামি আজনিতি (রাজনীতি) করে না। কালক্যা আইতোত (শনিবার) ব্যাংক থাকি বাড়িত অ্যাসবের ধরি পুলিশের গুলি নাগি মরি গ্যাচে। হামরা এর বিচার চাই।”

লেবু মণ্ডলের মা আয়শা বেওয়াও আহাজারি করছেন।

মায়ের পাশে বসে নিহতের লিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা কী অপরাধ করেছিল? তাকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো? আমরা এই হত্যার বিচার চাই।”

এদিকে ওই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে ধাপেরহাট ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) রফিকুল ইসলামসহ ৪১ জনের নামে রোববার মামলা হয়েছে।

মামলায় অজ্ঞাত আরও ৩/৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।  

আরও দুটি মামলা হবে জানিয়ে সাদুল্যাপুর থানায় ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, এ পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP