বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »পাটুরিয়া লঞ্চ দুর্ঘটনায় গণশুনানি
পাটুরিয়া লঞ্চ দুর্ঘটনায় গণশুনানি

Saturday, 28 February, 2015 05:54pm  
A-
A+
পাটুরিয়া লঞ্চ দুর্ঘটনায় গণশুনানি
বাংলাদেশ টাইমঃ পাটুরিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মায় এমভি মোস্তফা লঞ্চ দুর্ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় ও স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার বেলা ১২টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রল রুম মোহনায় গণশুনানি শুরু হয়। এতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সাক্ষ্য প্রদান করেন।    
জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১২টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মায় এ দুর্ঘটনায় ৮০ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  হয়। শনিবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটিতে যুগ্ন-সচিব নূরউর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য (ইঞ্জিনিয়র) মফিজুল হক, চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার (লঞ্চ) পাইলট একেএম জসিম উদ্দিন, টিসি’র প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রহিম, মানিকগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল হাসান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঈনুদ্দিন হাসান, বুয়েট অধ্যাপক গৌতম সাহা সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন পৃথক সাক্ষ্য গ্রহণ কালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসলাম হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, ইউএনও একেএম গালিভ খাঁন, টিসি’র এজিএম জিল্লুর রহমান এবং ওসি রকিবুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। কমিটির ১০ কার্যদিবসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা রয়েছে। নাম-পদবী প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, এমভি নার্গিস-১ কার্গো মাস্টার ও অন্যদের গাফিলতি ও অসর্তকতার কারণেই মূলত এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সাক্ষ্য পাওয়া যায়।  
সাক্ষ্য প্রদানকারীরা জানান, শতাধিক যাত্রী নিয়ে বেলা পৌনে ১২টায় এমভি মোস্তফা লঞ্চ পাটুরিয়া থেকে পশ্চিমে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দক্ষিণ দিক থেকে আসা পণ্য বোঝাই কাজীরহাটগামী  কার্গো এমভি নার্গিস-১ সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চটি ততক্ষণাৎ ডুবে যায়। কিছু যাত্রী ঐ কার্গো ও অন্যান্য নৌযানে  উঠে। কর্মকর্তারা জানান, এ দুর্ঘটনায় গত সাত দিনে ৮০ লাশ উদ্ধার ও নিখোঁজ চার ব্যক্তির অনুসন্ধান চলছে।     
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন প্রতি লাশের জন্য ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার কথা থাকলেও অনেকে তা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির সম্পাদক আব্দুর রহিম খাঁন জানান, লাশ নেয়া-দাফন বা সৎকারের জন্য মালিকের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে নগদ অর্থ ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় আরুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান খান মাসুম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন পান্নু নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। নিহতদের স্মরণে নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি, শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকবর শোক ব্যানার স্থাপন করেছেন।
লঞ্চ যাত্রী রাজবাড়ী পাংশা উপজেলার সেকেন আলীর স্ত্রী আমিরুন্নেছা, নড়াইল লোহাগাড়ার হাসেম শেখের কন্যা শাহেদা বেগম, মরাগাতি গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ফরিদপুরের ইউনুছ মোল্লা নিখোঁজ রয়েছেন। কার্গো মাস্টার ইকবাল, লঞ্চ মাস্টার আফজাল, সুকানি নজরুলসহ ঐ দু’ নৌযানের সকল কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মামলা হয়েছে।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP