বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা
শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

Wednesday, 18 July, 2018 04:15pm  
A-
A+
শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ও ভবনের বাহিরে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। যে কোন সময় কোমলমতি শিশুরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে নতুন ভবন নির্মাণে প্রায় ৬ মাস পূর্বে ডিও লেটার প্রেরণ করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও নতুন করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। শিক্ষাবান্ধব সরকারের মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকবৃন্দ।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার সদ্য সরকারি ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টি বিদ্যালয় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। স্কুলগুলো হচ্ছে, ৩৭নং পশ্চিম বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪১নং উত্তর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৪নং পূর্ব খোন্তাকাটা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬১নং বড় রাজাপুর নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৪নং উত্তর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৭নং বড় রাজাপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৮নং তালতলী নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৪নং উত্তর মালিয়া রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৫নং ছোট রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৫নং রাজাপুর সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৭নং দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৯নং তালতলী উল্লাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬২নং দক্ষিণ ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
শরণখোলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা মোঃ আলমগীর হোসেন, জাকির হোসেন ও মিজানুর রহমান জানান, স্কুল ভবনগুলোর অবস্থা এমন পর্যায় এসে দাড়িয়েছে যে কোন সময় ছাদ, ওয়াল বা পিলারের অংশ ধ্বসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করছেন। কয়েকটি স্কুলের শিক্ষকরা ভবনের বাহিরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছে। ছাদ ও পিলার থেকে খোয়া, সুরকি খসে পড়ছে, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল ধরেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পানি পড়ে। এজন্য আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষকরা। নির্বিঘেœ শিক্ষার্থীদের মাঝে যাতে শিক্ষকরা পাঠদান করতে পারে সে জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক নেতারা।অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এ ১৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মহসিন স্বাক্ষরিত একটি পত্রে শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী সরেজমিন পরিদর্শন করে গত বছরের ২১ জুন সার্বিক চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করলেও কোন অগ্রগতি নেই বলে সূত্র জানায়।
পরবর্তীতে গত ২৫ অক্টোবর বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে জরুরীভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে ডিও লেটার প্রেরণ করেন। কিন্তু প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলেও নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা বলে জানা যায়।
শরণখোলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা ইতিপূর্বে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে ১৩টি বিদ্যালয়ে মান সম্মত শিক্ষা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভবনগুলো জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন গুলো জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী। ছাদ ধ্বসে পড়ছে, প্লাস্টার নেই, ইটের গাঁথুনি ভেঙ্গে পড়ছে, ক্লাস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় কোমলমতি শিশুরা বড় ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এ ব্যাপারে সার্বিক চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ####



এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP