বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »নওগাঁয় ভেজাল ও নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য
নওগাঁয় ভেজাল ও নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

Thursday, 10 May, 2018 07:37pm  
A-
A+
নওগাঁয়  ভেজাল ও নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য
মোঃ খালেদ বিন ফিরোজ, নওগাঁ প্রতিনিধি :
 নওগাঁর মহাদেবপুরে নামে বেনামে গড়ে উঠেছে প্রায় ৮টি বেকারি। এদের মধ্যে অধিকাংশ বেকারির বিরুদ্ধে নীতিমালা না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল ও নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে খাদ্যসামগ্রী তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেকারি মালিকরা অবাধে ব্যবসা করছে। একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করলেও কোন ক্রমেই বন্ধ করা যাচ্ছে না অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন। মান নিয়ন্ত্রণহীন ও নোংরা পরিবেশে উৎপাদিত বেকারির খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। পাড়া, মহল্লা, স্কুল, কলেজের সামনে, বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে বিক্রি হয় এসব বেকারি খাদ্য পণ্য। অনেক জায়গায় পচা ও বাসী খাদ্য বিক্রি হয়। ফলে বেকারি খাদ্য খেয়ে সব বয়সী মানুষ বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা পেটের পীড়াসহ নানা  রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খাদ্য নীতিমালা অনুযায়ী বিএসটিআই ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বেকারি চালু করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানছেন না কেউ। এছাড়া প্যাকেটের গায়ে বাধ্যতামূলক পণ্যের উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে পণ্য উৎপাদনের কথা থাকলেও কোনো মালিকই এসবের তোয়াক্কা করছেন না। বিএসটিআই এর দ্বারস্থ না হওয়ায় এসব বেকারির উৎপন্ন খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা নেই। টেকনিশিয়ান না থাকায় নিজেদের কলাকৌশলে আটা, ময়দা, চিনি, ডালডা, সোডা, রং ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন ক্যামিকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার চান্দাস ইউনিয়নের বাগডোব বাজারের জহুরার মোড় এলাকার রুপালি বেকারিতে গিয়ে দেখা যায়, এ কারখানার বিএসটিআই এর কোন অনুমোদন নেই। খাদ্যের গুণগতমান নষ্ট করে স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে অদক্ষ কারিগর দ্বারা ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে এসব বেকারি সামগ্রী। দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশ পাশে। কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, টোস্টসহ নানা রকমের খাবার ট্রে গুলোতে যখন সাজিয়ে রাখা হয় তখন দেখা গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করার কড়াইগুলো অপরিস্কার ও নোংরা। শ্রমিকরা খালি গায়ে ও হাতে এসব পণ্যের কাচামাল বানাচ্ছে এবং খালি পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করছে। সেই সাথে খালি গায়ে থাকার ফলে শ্রমিকদের শরীরের ঘাম এসে পড়ছে আটার উপর। কারখানার ভিতরের একটি হাউজে নোংরা পানিতে করা হচ্ছে মাছ চাষ। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই বাহারি রকমের আকর্ষণীয় মোড়কে বাজার জাতের জন্য প্যাকেট করা হচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে বসত বাড়ির ভেতরে হওয়ায় বছরের পর বছর অনুমোদনহীন কারখানা চালানোর পরেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উক্ত বেকারিতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে গত ৯ মে বুধবার বিকেলে বেকারি মালিক ছামাদ ও তার সহযোগিরা সংবাদ সংগ্রহে বাধাদেন এবং সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরন দিয়ে তৈরি করা এসব খাবার  খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। পেটব্যাথা, শরীর দূর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোবারক হোসেন জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম নীতি না মেনে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করছে অতি দ্রæত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP