বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »চিতলমারীতে মেধাবী আফসানা-মরিয়মের লেখাপড়ায় বাদ সেধেছে আর্থিক দৈন্যতা
চিতলমারীতে মেধাবী আফসানা-মরিয়মের লেখাপড়ায় বাদ সেধেছে আর্থিক দৈন্যতা

Saturday, 21 April, 2018 09:36pm  
A-
A+
চিতলমারীতে মেধাবী আফসানা-মরিয়মের লেখাপড়ায়  বাদ সেধেছে  আর্থিক দৈন্যতা
এস এম তাজউদ্দিন, বাগেরহাট থেকে
দশম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে মরিয়ম। তার বোন আফসানা পড়ে সপ্তম শেণীতে। দু'বোনই মেধাবী। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল মরিয়ম। এছাড়া ৮ম শ্রেণীতেও বৃত্তি লাভ করেছিল। ছোটবোন আফসানা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছিল। অথচ টাকার অভাবে মেধাবী এই দুইবোনের ভবিষ্যত আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। পড়াশুনাতো দূরের কথা, দিনের তিন বেলা ঠিকমত খাবারও জুটছেনা তাদের। এমনই দুদর্শা এখন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামের বশির মল্লিকের মেয়ে মরিয়ম ও আফসানার ভাগ্যে। মরিয়ম ও আফসানা  দু’জনে উপজেলা সদরের হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
তাদের বাবা বশির মল্লিক জানান, মরিয়ম ও আফসানাসহ ৪ মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে চিতলমারী সদর বাজার সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের পাশে এবাদত আলী ফরাজীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নিজের বাস্তুভিটা টুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। সহায়-সম্বল সব বিক্রি করে গত বছর বিদেশ গিয়ে ছিলেন ভাগ্য বদলানোর জন্য। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ  থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন। ইচ্ছা ছিলো বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে ধার শোধ করবেন এবং মেয়েদের লেখাপড়া করাবেন। কিন্তু বিদেশ যাওয়াটাই এখন তার জন্য বড় কাল হয়েছে। দালালদের খপ্পড়ে পড়ে  বিদেশ গিয়ে এখন সর্বশান্ত হয়ে কোন রকম জীবন নিয়ে দেশে ফিরেছেন। এখন আর বেঁচে থাকার মতো কোন অবলম্বন নেই। মেয়েদের পড়াশুনা করানোর ব্যাপারে চরম হতাশা প্রকাশ করে বশির মল্লিক আরো জানান, ভাগ্যে এমনটি হবে কখনো ভাবতে পারিনি। তার মেয়েরা মেধাবী ছাত্রী  হওয়া সত্বেও এখন আর তাদের পড়াশুনা করানোর মতো কোন সামর্থ নেই। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ পোদ্দার জানান, মরিয়ম ও আফসানা খুবই মেধাবি ছাত্রী। বর্তমানে তাদের যে অবস্থা এতে করে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের পড়াশুনা করানোটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বশির মল্লিকের স্ত্রী রুমিছা বেগম সংসারের অভাবের কথা বলতে গিয়ে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ব্র্যাক, আশা, উদ্দীপন ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে কয়েক লাখ টাকা লোন নিয়ে স্বামীকে বিদেশ পাঠান। কিন্তু এখন কিস্তির টাকা শোধ করতে পারছেন না। অন্যদিকে সন্তানদের কিভাবে পড়াশুনা করাবেন। অন্যের আশ্রয়ে আছেন বর্তমানে। এ পরিস্থিতিতে মেয়েদের  পড়াশুনা করানো দূরে থাক দু'বেলা ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে পারছেন না তাদের মুখে।
এ ব্যাপারে হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানান, মরিয়ম ও আফসানা মেধাবি ছাত্রী। নানা অভাব অনটনের মধ্যে থেকেও খুব ভালো রেজাল্ট করে তারা বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাদের পড়াশুনা যাতে চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য তিনি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি বিত্তবান ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP