বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »‘শিগগিরই ভারতের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ শুরু’
‘শিগগিরই ভারতের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ শুরু’

Monday, 2 April, 2018 10:19pm  
A-
A+
‘শিগগিরই ভারতের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ শুরু’
 রাজশাহী প্রতিনিধি : ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় রাজশাহীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। এসময় রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন-সমকাল


বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, আমরা এরইমধ্যে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলেছি। খুব শিগগিরই রাজশাহীর সাথে ভারতের ট্রেন যোগাযোগ শুরু হবে বলে আশা করছি। যেটি রাজশাহীর সাথে কোলকাতা, মালদাসহ বিভিন্ন এলাকাকে সংযুক্ত করবে।

সোমবার ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় রাজশাহীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, এই বিষয়ক প্রস্তাবনা এরইমধ্যে দুই দেশের রেলমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখন দুই দেশের পার্লামেন্টে আলোচনা হবে। তবে এরইমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এই যোগাযোগটা খুবই জরুরি। কেননা এটি রাজশাহী ও ভারতের মধ্যকার যোগাযোগটা আরও সহজ ও বৃদ্ধি করবে। এতে ব্যবসা, ভ্রমণ ও একে অপরের সাথে যোগাযোগের মাত্রায় নতুনত্ব আনবে। 

ভারত সরকার রাজশাহীর জনগণের জন্য উন্নয়নপ্রকল্প গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসবের মধ্যে আছে পদ্মা লাইব্রেরি নির্মাণ, জলাশয় সংরক্ষণ, ফুটপাত নির্মাণ, মন্দির সংরক্ষণ ইত্যাদি। আমি এই জায়গাগুলো পরিদর্শন করে দেখেছি এবং কাজ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। আমি আশা করছি এই উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহীবাসী উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা লাইব্রেরি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বেশ ভালো কাজে দেবে, দুটো দিঘী তৈরি করা হচ্ছে যা রাজশাহীর সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করবে। এখানে দুটি অনেক পুরাতন মন্দির আছে যেগুলো সংস্কার করা হবে। এছাড়াও আরও সাতটি পুরাতন মন্দিরও সংস্কার করা হবে। এটি রাজশাহীর ট্যুরিজম, আন্তঃসংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বেশ ভালো কাজে দেবে। 

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, আরও সাতটি প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে, যার মধ্যে একটি হলো ফুটপাত। এছাড়া বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজশাহী শহরটি আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটি ভারতের একদম প্রতিবেশী শহর। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানকার সহকারী হাই কমিশন অফিস বেশ ভালো কাজ করে যাচ্ছে। সিটি মেয়রও ভালো সহযোগীতা করছেন। গতবছর আমরা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি এবং এবছরই তার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে পেয়েছি। যা খুবই আশাব্যঞ্জক। রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার সহযোগীতা দিয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়নে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আশা করছি রাজশাহী সিটি ভারতের পার্টনার সিটি হবে। ১৯৭১ সালে বাংলদেশী মুক্তিযোদ্ধারা ও ভারতীয় সেনারা একসাথে যুদ্ধ করেছিলো, রক্ত দিয়েছিলো। সেই সময় থেকেই ভারত বাংলাদেশের সাথে আছে। সুসময় ও দুঃসময়ে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগটা আরও বৃদ্ধি পাক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যোৎসবে ভারত ও বাংলাদেশের যে নাটক প্রদর্শিত হচ্ছে তা বেশ চমৎকার। আমরা চাই বাংলাদেশ দলের নাটক ভারতে প্রদর্শিত হোক।

আসাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আসাম, মেঘালয়  অঞ্চলে গিয়েছিলেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং ওই অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন। তাই এটা ছিলো তার জন্য আবেগপ্রবণ সফর। তিনি আসামের মূখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন। এসময় বেশ কিছু কথা হয়েছে। সেগুলো মিডিয়াতে এসেছে, আমি নতুন করে কিছু বলতে চাই না। তিনি বলেছেন, সেখানকার মানুষ আগেও বেশ বন্ধুভাবাপন্নভাবে বসবাস করেছে, এখন বেশ সুন্দরভাবে বসবাস করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

এসময় ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অভিজিৎ চট্টপাধ্যায়, ফাস্ট সেক্রেটারি নমিনিতা ভট্টাচার্য, সেকেন্ড সেক্রেটারি একে মিশ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । 

উল্লেখ্য, ভারতের অর্থায়নে রাজশাহীতে ২২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে ৫টি পুরাতন মট সংস্কার, ২৮ কিলোমিটার ফুটপাতের সৌন্দর্য বর্ধন, টাইলস নির্মাণ ও আলোকসজ্জার জন্য নতুন ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন, পদ্মা আবাসিকে পারিজাত লেক সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধণ এবং ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য দর্শণীয় স্থানে রুপান্তর করা, সপুরা মট সংলগ্ন দীঘি সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধণ এবং হাটার পথ তৈরি করণ, তিনটি মোড়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য ভাস্কর্য ও ফোয়ারা স্থাপন এবং দুটি লাইব্রেরি ভবন পুনঃনির্মাণ।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP