বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বেরিবাঁধ নির্মাণ, তৎপর দালাল চক্র শরণখোলায় ক্ষতিপুরণ বঞ্চিত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বেরিবাঁধ নির্মাণ, তৎপর দালাল চক্র শরণখোলায় ক্ষতিপুরণ বঞ্চিত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা

Thursday, 15 March, 2018 09:37pm  
A-
A+
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বেরিবাঁধ নির্মাণ, তৎপর দালাল চক্র শরণখোলায় ক্ষতিপুরণ বঞ্চিত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা
 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় ৩৫/১ পোল্ডারে বেরিবাঁধ নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা থেকে শতাধিক পরিবার বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বঞ্চিতদের পক্ষে জেলা প্রশাসক কাছে অভিযোগ  করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. সোবাহান মুন্সী।
অভিযোগ ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সম্প্রতি  বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫/১ পোল্ডারের টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন চায়নার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে বসত বাড়ী ও গাছপালা সহ ক্ষতির মুখে পড়ে উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার পরিবার। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী শুরু হয়। এ সুযোগে স্থানীয় দালাল চক্র কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়ে। বেরিবাঁধের কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে ক্ষতিগ্রস্থদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ বাণিজ্য শুরু করে। যাদের বসতবাড়ী বা গাছপালা কিছুই নেই তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ক্ষতিপুরণের তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করান। অপরদিকে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা দালাল চক্রের মন যোগাতে না পারায় ক্ষতিপুরণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা আ. সোবাহান মুন্সী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা চুন্নু ফকির বেরিবাঁধের কাজে নিয়োজিত কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে জমিজমা ও গাছপালা পরিমাপের মধ্যে না পড়লেও স্ত্রী-পুত্রসহ নিজস্ব ৬টি নাম অর্ন্তভূক্ত করিয়ে কয়েক লাখ টাকার চেক গ্রহণের পায়তারা শুরু করে। এ অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করতে গত ৭ মার্চ বাগেরহাটের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সরেজমিনে সত্যতা না পেয়ে ক্ষতিপুরণের তালিকা থেকে চুন্নু ফকিরের ৬টি নাম বাতিল করে দেয়। তিনি আরো বলেন, দালাল চক্রকে খুশি করতে পারলে মাটির ঘর দেখানো হয় বিল্ডিং। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থদের চেক গ্রহণ করতে হলে জেলা প্রশাসকের এল.এ শাখায় অগ্রিম ১০% হারে উৎকোচ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আঃ হাকিম তালুকদারের ছেলে মো. হাফেজ তালুকদারের জমি, গাছপালা ও বসত ঘরের ক্ষতিপূরণের তালিকা ভুলবশত: একই গ্রামের আউয়াল হাওলাদারের ছেলে হানিফ হাওলাদার ও রত্তন হাওলাদারের স্ত্রী খালেদা বেগম নামে বরাদ্দ দেখিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল.এ শাখা থেকে ৭ ধারার নোটিশ জারি করে। এতে জমির প্রকৃত মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়া ওই এলাকার বাসিন্দা আঃ করিম পহলানের ছেলে মো. ফজলু পহলান (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯৫) ও আসাদুল পহলান (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯৬), মৃত: হামিদ পেয়াদার ছেলে আনোয়ার পেয়াদা (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯২), আঃ বারেক পঞ্চায়েতের ছেলে আসাদুল পঞ্চায়েত, মৃত: আবুল হাসেম তালুকদারের ছেলে মনির তালুকদার (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯৮), দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া তালুকদার বাড়ী জামে মসজিদ (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯৪), আ. গণি তালুকদারের ছেলে হবি তালুকদার, মৃত: আমির আলী ফরাজীর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক ফরাজী (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯৭), আনোয়ার পেয়াদার ছেলে মন্টু পেয়াদা (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯৩), নুর মোহাম্মদ আকনের ছেলে জাকির হোসেন পান্না (এ্যাওয়ার্ড- ১০৯১) নং এ্যাওয়ার্ডভূক্ত হলেও তারা এপর্যন্ত ক্ষতিপূরণের ৭ ধারার নোটিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর সাউথখালী গ্রামের ইঙ্গুল উদ্দিনের ছেলে আফজাল হোসেন, মোক্তার ফকিরের পুত্র শাহজাহান ফকির, মোতালেব ফকিরের ছেলে ইউনুচ ফকির, মৃত সুন্দর আলী শেখের ছেলে কামাল শেখ, লোকমান হাওলাদারের ছেলে মাসুম হাওলাদার, দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসেম কাজীর ছেলে হেমায়েত কাজী, লাহু মদ্দিন তালুকদারের ছেলে ফজলু ক্বারী সহ একাধিক ব্যক্তিদের ঘর ও গাছপালা পরিমাপের মধ্যে না থাকলেও স্থানীয় একটি দালাল চক্র ক্ষতিপূরণের তালিকায় তাদের নাম অর্ন্তভূক্ত করিয়ে দেন। এ ছাড়া এদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তির ঘর নেই, আবার কারও ১টি ঘর থাকলেও ক্ষতিপূরণের তালিকায় একাধিক ঘর দেখানো হয়েছে বলে স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, বেরিবাঁধে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরীতে কোন ধরণের অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। #

    

 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP