বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »একের পর এক ‘ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে’ লিপ্ত হচ্ছে ছাত্রলীগ। কাউকে পরোয়া করছে না তারা
একের পর এক ‘ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে’ লিপ্ত হচ্ছে ছাত্রলীগ। কাউকে পরোয়া করছে না তারা

Wednesday, 28 February, 2018 06:25pm  
A-
A+
একের পর এক ‘ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে’ লিপ্ত হচ্ছে ছাত্রলীগ। কাউকে পরোয়া করছে না তারা

চট্টগ্রামে একের পর এক ‘ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে’ লিপ্ত হচ্ছে ছাত্রলীগ। কাউকে পরোয়া করছে না তারা। আধিপত্য বিস্তারের জেরে মারামারি-সংঘর্ষে জড়াচ্ছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ওয়ার্ড-থানা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা-মহানগর- সবখানেই কোনো না কোনো ইস্যুতে তারা নিজেদের মধ্যে ‘যুদ্ধে’ জড়াচ্ছে। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে বড় ধরনের তিনটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ। তাদের এমন বেপরোয়া আচরণে বিব্রত আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। এর আগে সোমবার চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় তুমুল সংঘর্ষ ঘটে দুই গ্রুপের মধ্যে।

আর গত ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে রীতিমতো ত্রাসের সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজে প্রায় সময়ই সংঘর্ষ ঘটছে ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম সমকালকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তারা মারামারি-সংঘর্ষে জড়াচ্ছে- এটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। আমরা চাই, হাইকমান্ড এসব বিষয়ে যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়।’

গত সোমবার চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপ। মারামারি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির কারণে একপর্যায়ে সভার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

শোকসভায় এ ধরনের ঘটনায় হতবাক হয়ে যান খোদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই। পরে সভার কার্যক্রম শুরু হলেও ফের উত্তেজনা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে শোকসভা শেষ করা হয়। ওই শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সভায় দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও মারামারির কারণে তারা আর সভাস্থলে যাননি। মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় সংঘর্ষের একদিনের মাথায় গতকাল চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়; দুই পক্ষের মারামারিতে সেটিও পণ্ড হয়ে যায়। সম্মেলনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাকিব হোসেন সুইম বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎ মঞ্চের বাঁ পাশ থেকে বিকট শব্দে ককটেলের বিস্টেম্ফারণ ঘটে।আতঙ্কিত নেতাকর্মীরা দিজ্ঞ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এর মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের কয়েকটি গ্রুপ। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, চেয়ার ছোড়াছুড়ি। এতে আহত হন ছাত্রলীগের ৫/৬ জন কর্মী।

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। তারা ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রক্টর কার্যালয়, ১৬টি গাড়ি, বিভিন্ন বিভাগের ছয়টি কক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেস ও শেখ কামাল ব্যায়ামাগারে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এর মাস তিনেক আগে বিলুপ্ত কমিটির নেতারা ভাংচুর চালায় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে। জানতে চাইলে বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, যারা মারামারি ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। আমরাও চাই তাদের বিরুদ্ধে যেন প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেয়।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP