বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» দেশের খবর »বেপরোয়া মহিলা এমপিপুত্র রুমন বারবার আলোচনায়
বেপরোয়া মহিলা এমপিপুত্র রুমন বারবার আলোচনায়

Sunday, 18 September, 2016 11:47pm  
A-
A+
বেপরোয়া মহিলা এমপিপুত্র রুমন বারবার আলোচনায়
ডেস্ক : মাদক সেবন, মারামারি, চাঁদাবাজি, বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় উঠে আসছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস‌্য রিফাত আমিনের ছেলে রাশেদ সারোয়ার রুমন।

“ওর মাথাটাই খারাপ হয়ে গেছে,” রুমনকে নিয়ে এই মন্তব‌্য সাতক্ষীরার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বর্তমানে আইনজীবী তামিম আহমেদ সোহাগের।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস‌্যের এই ছেলেকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগেরই এক নেতার করা মামলায়।

রুমনের মা সাতক্ষীরা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রিফাত আমিন এবারই প্রথম সংসদ সদস‌্য হয়েছেন। জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে জীবনবৃত্তান্তে এইচএসসি উত্তীর্ণ রিফাতের পেশা লেখা রয়েছে ব‌্যবসায়ী।

রুমনের বাবা সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুরের বাসিন্দা রুহুল আমিন জেলায় বেশ পরিচিত ব‌্যবসায়ী, একটি প্রেক্ষাগৃহের মালিকও তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, অল্প বয়সেই বখে যান রুমন। মাদক সেবন আর মোটর সাইকেল নিয়ে সাতক্ষীরা শহরে বেপরোয়া চলাচলের জন‌্য ব‌্যাপকভাবে সমালোচিত ছিলেন তিনি।

সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ‌্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার চৌকাঠ পার হতে ব‌্যর্থ হওয়ার পর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ‌্যালয় থেকে এই ডিগ্রি নেন তিনি।

মাদকের নেশা ছাড়াতে রুমনকে একবার সৌদি আরবও পাঠিয়েছিলেন তার বাবা-মা। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে এলেও তার আগের আচরণের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে তার নিকটজনদের ভাষ‌্য।  

সাতক্ষীরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বলেন, মা সংসদ সদস‌্য হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ৩৩ বছর বয়সী রুমন, ধরাকে সরা জ্ঞান করতে থাকেন তিনি।  

গত রমজান মাসে সাহেব আলী নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ আসে রুমনের বিরুদ্ধে।

তার কিছুদিন আগে তার মায়ের ব্যবহৃত জাতীয় সংসদের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে তিন তরুণীকে নিয়ে অস্ত্রসহ শ্যামনগরের একটি রিসোর্টে ধরা পড়ে বেশ কিছুদিন কারাগারেও থেকে এসেছিলেন তিনি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ চারজনকে মারপিট করে আবার সংবাদ শিরোনাম হন রুমন। ওই রাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।

পরে জানা যায়, পালানোর সময় গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন‌্য পরিচিত রুমন। তখন শহরের মাগুরার বউ বাজারের ধারে বাঁশতলার মিলন পাল নামে একজনের বাগানবাড়িতে ওঠেন তিনি।

পরদিন ওই বাগানবাড়িতে আড্ডা দেওয়ার সময় গ্রামবাসী বাড়ি ঘিরে মারধর করে রুমনকে। পরে আওয়ামী লীগ নেতারা গিয়ে তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

রুমনের বন্ধু মিলন বর্তমানে সোনা চোরাচালানের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মিলনের স্ত্রী শম্পা রানী পাল বলেন, তাকে না জানিয়েই এক নারীকে নিয়ে তার বাড়িতে উঠেন রুমন। তিনি বেরিয়ে যেতে বললেও তা শোনেনি। তখন তিনি গ্রামবাসীকে খবর দেন।

শম্পা বলেন, “আমার স্বামী জেলে। আমিও কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতে থাকছি। এই সুযোগে রুমন আমার বাড়িতে এসে কমপক্ষে ১৩টি গরু বিক্রি করে দিয়েছে, যার দাম প্রায় ১৩ লাখ টাকা।”

মিলনকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে রুমন ২০ লাখ টাকা নিয়েছে বলেও শম্পার অভিযোগ।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লাবসা ইউপি সদস্য আবদুল হান্নান বলেন, রুমন এক নারীসহ মিলনের বাগানবাড়িতে অবস্থান নিয়েছে খবর পেয়ে এলাকার মানুষ তাকে ঘিরে ফেলে।

“রুমন মারপিটের ভয়ে রুমে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশও আসে, কিন্তু রুমনকে রুম থেকে বের করা যায়নি।”

পরে জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল মান্নান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তামিম আহমেদ সোহাগ ও যুবলীগ পৌর কমিটির আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন অনু গিয়ে রুমনকে বের করে আনেন।

“রুম থেকে বের করতেই শুরু হয়ে যায় এলোপাতাড়ি গণপিটুনি। রুমন মাটিতে পড়ে যান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আহত অবস্থায় মোটর সাইকেলে নিয়ে যান যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান,” বলেন হান্নান।

যুবলীগ নেতা মান্নান তখন বলেছিলেন, “মারপিট একটু-আধটু হয়েছে বৈকি। তা এসব নিয়ে না লিখলে হয় না?”

১০ সেপ্টেম্বর রাতে মারধরের ঘটনায়ই রুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন যুবলীগ নেতা জুলফিকার রহমান উজ্জ্বল। ওই মামলায়ই রোববার দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের একটি বাড়ি থেকে এই এমপিপুত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেদিন মিলন পালের বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল‌্যা বলেছিলেন, “উজ্জ্বলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের ঘটনায় করা মামলায় রুমনকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআই রফিক ও এএসআই পাইক দেলোয়ারকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।”

রুমনের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলেও তা ‘অপপ্রচার’ বলে নাকচ করে আসছেন তার মা সংসদ সদস‌্য রিফাত আমিন।  

উজ্জ্বলের মামলার বিষয়ে তিনি তখন বলেছিলেন, “সে তো কারও সাথে মারামারিও করেনি। মারামারি করেছে যুবলীগের মান্নান গ্রুপ আর উজ্জ্বল গ্রুপ। এ নিয়ে আমার ছেলের বিরুদ্ধে আবার মামলা কিসের?”

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP