বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »সিরাজগঞ্জে মধ্যরাতে প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে ‘বিপাকে’ পুলিশ কর্তা!
সিরাজগঞ্জে মধ্যরাতে প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে ‘বিপাকে’ পুলিশ কর্তা!

Monday, 29 August, 2016 09:03pm  
A-
A+
সিরাজগঞ্জে মধ্যরাতে প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে ‘বিপাকে’ পুলিশ কর্তা!
সিরাজগঞ্জ : কনের মুখে বিজয়ের হাসি, গোমড়া বরের মুখ !

কনের বাবা গাড়ি চালক আর বর পুলিশ সার্জেন্ট। পুলিশ সার্জেন্টের সাথে অষ্টাদশী কন্যার বিয়ে। স্থান সিরাগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জের সোনাখাড়া ইউনিয়ন। ‘ব্যাতিক্রমি’ এই বিয়েতে দাওয়াত ছাড়াই আশে পাশের গ্রামের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি!

স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি সহ উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতারাও। আর দশটা বিয়ের চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি থাকলেও বিয়েতে সানাই বাদ্য কিছুই নেই! অন্যদিকে  ভয়ানক মন খারাপ খোদ বরের !  চোখে মুখে রাজ্যের বিরক্তি আর ক্ষোভ নিয়েই বিয়ের পিড়িতে তিনি ! অবশ্য বরের মন ভীষণ খারাপ হলেও কনে সহ উপস্থিত আর সবার মুখেই খুশি ! কেও বা টিপ্পনী কাটছেন! আবার কেও প্রমাদ গুনছেন ‘শেষ মেস হবেটা আসলে কি ? ‘

বর পরিচিতি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মাঝিড়া গ্রামের বাসিন্দা সদ্যবিবাহিত পুলিশ সার্জেন্টের নাম আতিকুর রহমান। শিক্ষানবিশ পুলিশ সার্জেন্ট হিসেবে বর্তমানে তিনি নাটোর জেলার উপর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

কনে পরিচিতি
কনে রানী খাতুন (২০)  রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি বাজার এলাকার গাড়ি চালক সানোয়ার হোসেনের মেয়ে।

পেছনের ঘটনা
জানা গেছে, গত এক বছর পূর্বে ঘটকের মাধ্যমে ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে রানীর বিয়ের কথাবার্তা হয়। এ সময়ই আতিকুর ঘটকের মাধ্যমে রানীর মোবাইল নম্বর নেন। তাদের মধ্যে বিয়ে না হলেও বিভিন্ন সময় দু’জন কথাবার্তা বলতে থাকেন।
এরই জের ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা পরে শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত যায়। এরপর সার্জেন্ট আতিকুর মাঝে মধ্যেই রানীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে রানী ও তার মা বুঝতে পারেন ওই সার্জেন্ট শুধু অনৈতিক সম্পর্কই রাখতে চান, বিয়ে করতে চান না।

এদিন শুক্রবার গভীর রাতে প্রেমিকার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায়  গ্রামবাসীর হাতে আটক হন এক পুলিশ সার্জেন্ট । সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গত শুক্রবার রাতে ওই প্রেমিকার (২০) সঙ্গে আটকের পর শনিবার সার্জেন্টের পরিবারকে ডেকে এনে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে আট লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে দেয়া হয় দুজনের।

বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সদ্যবিবাহিত কনের বাড়ি থেকে পুলিশ সার্জেন্টকে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে গেলেও নতুন বৌকে তাঁর বাবার বাড়িতেই রেখে গেছেন।

পুলিশ সার্জেন্টের পরিবারের অভিযোগ ‘মেয়েটি তাদের ছেলেকে কৌশলে ডেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।”

এদিকে, বিয়ের পরেই কনেকে শ্বশুরালয়ে রেখে যাবার ঘটনায় ঐ মেয়েটির পরিবার ও স্থানীয়রা আশংকা করছেন, ‘হয়তো ক্ষমতাবলে টাকার জোরেই পুলিশ সার্জেন্ট ঐ মেয়েটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলবেন।’

রায়গঞ্জের সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তাঁর ইউনিয়নের এক ড্রাইভারের মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে বগুড়ার মাঝিড়া গ্রামের পুলিশ সার্জেন্ট আতিকুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে আতিকুর দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতে থাকেন। এর মধ্যে উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে মেয়েটি বিয়ের জন্য আতিকুরকে চাপ দেন। কিন্তু আতিকুর বিয়ে করতে দেরি হবে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এভাবে প্রেমিকার বাড়ি আসা-যাওয়া করতে থাকলে গ্রামবাসী বিষয়টি আঁচ করতে পারে। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সার্জেন্ট আতিকুর প্রেমিকার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। তখন তাঁকে হাতেনাতে ধরেন গ্রামের লোকজন।

ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, রাতেই এলাকার বিবাহ নিবন্ধক কাজী রুকনুজ্জামানকে ডেকে এনে ওই মেয়ের সঙ্গে আতিকুরের বিয়ে পড়ানো হয়।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP