বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »দেশভেদে দেহব্যবসার রীতিনীতি যেমন হয়
দেশভেদে দেহব্যবসার রীতিনীতি যেমন হয়

Saturday, 2 April, 2016 12:22am  
A-
A+
দেশভেদে দেহব্যবসার রীতিনীতি যেমন হয়
ডেস্ক: দেহের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন। শুনতে কটূ লাগলেও কারও কাছে এই পেশা যেমন বেঁচে থাকার জীবিকা, তেমনই কারও কাছে সন্তানকে মানুষ করার পাথেয়। কিন্তু আজব এই দুনিয়ায় একেক দেশ এই পেশার ওপর এক একরকম আইন করেছে।

হল্যান্ডের পতিতাপল্লী পর্যটকদের মূল আকর্ষণ : নেদারল্যান্ডসে পতিতাবৃত্তি শুধু বৈধ নয়, ইউরোপের এই দ্বীপটির পতিতাপল্লী সত্যিকার অর্থেই বিশ্ববিখ্যাত। রেডলাইট জোন দেখতে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসে আমস্টারডামে। নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপের আরেক দেশ বেলজিয়ামেও দেহব্যবসা সম্পূর্ণ বৈধ।

জার্মানি এবং ফ্রান্সে কঠোর আইন : জার্মানি এবং ফ্রান্সেও দেহব্যবসা বৈধ। তবে এ দুই দেশেই যৌনকর্মীদের এই ব্যবসা করতে হয় কঠোর আইন মেনে। জার্মানির কিছু শহরে এখনও যৌনকর্মীরা রাস্তায় নেমে খদ্দের ডাকতে পারেন না, এভাবে খদ্দের সংগ্রহ করা সেসব জায়গায় আইনত দণ্ডনীয়। ফ্রান্সেও ২০১৪ সালে এমন একটা আইন হয়েছে, যা মেনে যথেচ্ছ দেহব্যবসা করা খুব কঠিন।

সুইডেন আর নরওয়েতেও নিয়ন্ত্রিত পতিতাবৃত্তি : ফ্রান্স ২০১৪ সালে যে আইন প্রবর্তন করে, সেটা প্রথম চালু হয়েছিল সুইডেনে, ১৯৯৯ সালে। এ কারণে আইনটি সুইডিশ মডেল হিসেবে পরিচিত। এ আইনে যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষা করে দালালদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক : সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়াতেও দেহব্যবসা বৈধ। তবে এ দুটি দেশে ১৯ বছর বয়স না হলে কেউ দেহব্যবসায় নামতে পারেন না। যৌনকর্মীদের যাতে কোনো যৌনরোগ না হয়, কিংবা তাঁদের মাধ্যমে খদ্দেরদের মাধ্যে যাতে এইডস বা অন্য কোনো রোগ ছড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যৌনকর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। অবশ্য শুধু সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়াতে নয়, জার্মানিতেও ওই একই নিয়ম।

এশিয়ায় লুকোনো পতিতাবৃত্তি : ভারতেও পতিতাবৃত্তি বৈধ। তারপরও পতিতাবৃত্তি চলে আড়ালে-আবডালে। রাস্তায় নেমে পতিতারা খদ্দের সংগ্রহ করতে পারেন না। খদ্দেররা অর্থের বিনিময়ে যৌন তৃপ্তি মেটাতে যায় রাতের আঁধারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পতিতালয় কমলেও ম্যাসাজ পার্লার এবং আবাসিক হোটেলে প্রায়ই চলে পুলিশি অভিযান। খদ্দেরসহ পতিতা আটকের খবর আসে তখন। থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সে পতিতাবৃত্তি চলে অবাধে। তবে দেশ দুটিতে এই ব্যবসা আইনের চোখে অবৈধ।

দক্ষিণ অ্যামেরিকায় ভিন্নরূপ : দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশেই যৌন ব্যবসা বৈধ। তবে কিছু দেশে মাফিয়া এবং মানবপাচার বড় সমস্যা হয়ে ওঠায়, এই ব্যবসার ওপর কড়াকড়ি এবং তদারকি বেড়েছে। দেহব্যবসাকে মাফিয়া চক্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে ব্রাজিল এবং মেক্সিকোতে রয়েছে কঠোর আইন। তারপরও দেশ দুটিতে মাফিয়া চক্রের আধিপত্য রয়ে গেছে।

গ্রিস এবং তুরস্কে পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রিত : গ্রিস এবং তুরস্কেও পতিতাবৃত্তি পুরোপুরি বৈধ, তবে দেহব্যবসার আইন খুব কঠিন। জার্মানির মতো এই দুটি দেশেও যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া যৌনকর্মীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান কিনা, তা সব সময় তদারক করা হয়। স্বাস্থ্য কার্ডেই লেখা থাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সব তথ্য।

যে দুই দেশের পতিতাপল্লীতে ধীরে চলা মানা : ব্রিটেন আর আয়ারল্যান্ডের পতিতাপল্লী বা 'রেড লাইট জোন'-এর প্রায় সব আইনই জার্মানির মতো ছিল। তবে সম্প্রতি ব্রিটেনে কিছু বেসরকারি সংস্থার দাবিতে এতে নতুন কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। ব্রিটেনের রেড লাইট জোন-এ এখন যেমন ধীরে গাড়ি চালানো নিষেধ।

কাউকে জোর করে পতিতা বানানো যায় না : ইউরোপের সব দেশেই পতিতাবৃত্তি আইনত বৈধ। তবে আইন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেশভেদে একটু হলেও অন্যরকম। যেমন স্পেন এবং পর্তুগালেও দেহব্যবসা বৈধ। কিন্তু স্পেনে কাউকে জোর করে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকর্মী বানানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রতিবেশী হয়েও নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া আলাদা : নিউজিল্যান্ডে যৌন ব্যবসা একেবারেই বৈধ। তবে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার অনেক রাজ্যে এই ব্যবসা এখনো অবৈধ। ২০০৩ সালে আইন করে সব প্রাপ্তবয়স্কের জন্য যৌন ব্যবসাকে বৈধ করে দেয় নিউজিল্যান্ড।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP