বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »গরীবের মাংস খাওয়া বন্ধ!
গরীবের মাংস খাওয়া বন্ধ!

Friday, 17 April, 2015 11:13pm  
A-
A+
গরীবের মাংস খাওয়া বন্ধ!
অবরোধে সব কৃষিপণ্যের দাম কমে গেলেও বেড়েছে গরু-মহিষ মাংসের দাম। ভারতীয় গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ এবং চামড়ার দাম না থাকায় মাংসের বাজারে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। গরুর মাংসের দাম বাড়ায় খামারীরা লাভবান হলেও উত্তরাঞ্চলে গরীব ও স্বল্প আয়ের মানুষরা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন মাংস কেনা।

সূত্রমতে, ভারত থেকে উত্তরাঞ্চলের ৮টি করিডোর দিয়ে প্রতিমাসে তিন লাখ ভারতীয় গরু-মহিষ আসতো। ট্রাকে করে এসব গরু-মহিষ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যেত। এখন ভারতীয় গরু-মহিষ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাংসের চাহিদা মেটানো হচ্ছে দেশি গরু-মহিষ দিয়েই ।

বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইদিল মির্জা জানান, ভারতীয় গরু এখন আর আসছে না। অন্যদিকে তিন হাজার টাকার চামড়ার দাম নেমে এসেছে এক হাজার টাকায়। এ কারণেও বেড়ে গেছে গরুর মাংসের দাম। কিছুদিন আগে যে মাংস কেজিতে বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকা দরে তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে তিনশ থেকে তিনশ ৬০ টাকা।

বগুড়া শহর ছাড়াও সান্তাহার, দুপচাঁচিয়া, শেরপুর এলাকার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে থেকে গরু-মহিষের মাংসের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

বগুড়ার গরু ব্যবসায়ী জয়নাল আলী জানান, নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে গরুর দাম খুব কম ছিল। ব্যবসায়ীরা গরু কিনলে তাদের প্রতি কেজি মাংসের দাম পড়ত ১৮০-২০০ টাকা। বিক্রি হতো ২৪০-২৬০ টাকা। এখন গরুর দাম বাড়ার কারণে প্রতি কেজি ২৪০-২৫০ টাকা পড়ছে। ব্যবসায়িরা বিক্রি করছে ২৮০-৩০০ টাকায়। আগে মহিষের মাংস বিক্রি হতো ২০০-২২০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়।

জয়নাল আলী আরো জানান, নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে ৬০ কেজি মাংসের গরু বিক্রি হয়েছে ১১-১২ হাজার টাকায়। এখন সেই গরুর দাম ১৪-১৫ হাজার টাকা। ৮০ কেজি গোশতের গরু বিক্রি হয়েছে ১৫-১৭ হাজার টাকায়। এখন তা ১৯-২০ হাজার টাকা। ১২০ কেজি গরু আগে বিক্রি হয়েছে ২৩-২৫ হাজার টাকায়, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩৫ হাজার টাকায়।

গরু মহিষ ব্যবাসায়ীরা জানিয়েছেন, গরুর চেয়ে মহিষ জবাই করে বিক্রি করলে লাভ বেশি। উত্তরাঞ্চলের শতভাগ মহিষই আসে ভারত থেকে।

বগুড়া জেলা মার্কেটিং অফিস, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও একটি বেসরকারি সংস্থার বাজার জরিপে জানা গেছে, গত তিন মাসের ব্যবধানে গরু ও মহিষের মাংস শত করা ২০ থেকে ২২ ভাগ, ভেড়া ও ছাগল ২৫-৩০ ভাগ ও মুরগীর মাংসের দাম শতকরা বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দেয়া তথ্যমতে, মাংসের দাম কখনও একলাফে এতটা বাড়েনি। অস্বাভাবিকভাবে মাংসের দাম বাড়ার ফলে ক্রেতা কমেছে শতকরা অন্তত ২৫ ভাগ।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP