বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »পান্তা আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?
পান্তা আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

Tuesday, 14 April, 2015 03:51pm  
A-
A+
পান্তা আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?
পান্তা এখন বৈশাখি স্মারক। পান্তা এখন পয়লা বৈশাখের স্টাইল। যারা শহুরে জীবন-যাপন করছেন, প্রতি পয়লা বৈশাখে তাদের মনে ঘুরপাক খায়- পান্তা কি স্বাস্থ্যসম্মত! বৈশাখের পান্তা উৎসবে শরিক হতে গিয়ে এমন ভাবাটাই স্বাভাবিক।

এ কথা নিঃসন্দেহে সত্যি যে, পান্তা ভাত বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি জনপ্রিয় খাবার। রান্না করা ভাত প্রায় একদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তাকে পান্তা ভাত বলা হয়। সাধারণত লবণ, মরিচ মিশিয়ে পান্তা ভাত খাওয়া হয়। পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছ বাঙালি সংস্কৃতির একধরনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখে পান্তা উৎসবের মাধ্যমে অনেকেই নতুন বছরকে বরণ করে নেন।

এখানে আমরা দেখতে পাই, নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতকে পানিতে প্রায় একদিন ডুবিয়ে রাখলেই তা পান্তায় পরিণত হয়। ভাত মূলত পুরোটাই শর্করা (Carbohydrate)। ভাতে পানি দিয়ে রাখলে বিভিন্ন গাজনকারি (Fermentation) ব্যাক্টেরিয়া (Bacteria) বা ইস্ট (Yeast) শর্করা ভেঙে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই ইথানলই পান্তা ভাতের ভিন্ন রকম স্বাদের জন্য দায়ী।

মূলত পান্তা ভাত, ভাত সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। ভাত বেশিক্ষণ রেখে দিলে তা পচে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু পানি দিয়ে রাখলে গাজনকারি ব্যাক্টেরিয়া সেখানে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে যার ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায়। তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।

পান্তা ভাতের উপকার ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হসপিটালের ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, পান্তা গ্যাস্টিক রোগীর জন্য কিছুটা উপকারী হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকারক। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া বয়স্কদের জন্যও পান্তা মোটেই ভালো নয়।

মজার কথা হচ্ছে, ভারতের প্রথম মিস্টার ইউনিভার্স (১৯৫২) ও শরীর চর্চাবিদ মনোহর আইচ ২০১২ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডেকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি দিনে চারবার পান্তা ভাত খেতেন। তার মতে, ‘ পান্তা ভাতের জল, তিন পুরুষের বল’।

শতবছর পূর্ণ উপলক্ষে এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিল ‘ইন্ডিয়া টুডে’। এই দীর্ঘ জীবনের রহস্যের কথা বলতে গিয়ে শরীরচর্চায় এশিয়ান গেমসে তিন-তিনবার স্বর্ণপদক জয়ী মনোহর আইচ বলেন, ‘সকাল বেলা দুধ দিয়ে এক কাপ চিড়া খাই, এরপর এক কাপ কফি। দুপুরে ভাত-ডালের সঙ্গে সবজি অথবা মাছ। বিকেলে এক কাপ কফি। রাতের বেলায় যথারীতি আবারও ভাত। তবে মাঝে মধ্যে এক গ্লাস করে ফলের রস খান।’

মনোহর আইচ আদিতে বাংলাদেশেরই সন্তান। জন্ম ১৭ মার্চ ১৯১২ সালে কুমিল্লায়। লেখাপড়া করেছেন ঢাকার জুবলি স্কুলে। উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি। তবে কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই তিনি প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যায়াম করেন। ধূমপান, পান খাওয়া পরিহার করেছেন। সমসময় ‘জাঙ্ক’ খাবার (ফাস্ট ফুড, ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার) এড়িয়ে চলতেন। অথচ ইন্ডিয়া টুডেকে জোশের সঙ্গেই তিনি বলেন, ‘আগে আমি দিনে চারবার পান্তা ভাত খেতাম।’

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP