বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »ছোট্ট কোঠরে বন্দী শাহেদের জীবন
ছোট্ট কোঠরে বন্দী শাহেদের জীবন

Friday, 3 April, 2015 07:57pm  
A-
A+
ছোট্ট কোঠরে বন্দী শাহেদের জীবন
বাংলাদেশ টাইমঃ দেখতে ফর্সা ছিপছাপ গড়নের সুন্দর ফুটফুটে ৬ বছরের শিশু শাহেদ। প্রতিবন্ধী হিসেব জন্মগ্রহণ না  করেও চিকিৎসার অভাবে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে ৬ বছর বয়সেই দরিদ্র বাবা-মায়ের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে সে।

শাহেদ সারাক্ষণ হাসে আর এটা ওটা ভাঙচুর করে। যা সামনে পায় তাই খেতে চায়। এমনকি নিজের মলমূত্র পর্যন্ত খেয়ে ফেলে। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে শাহেদ আজ প্রতিবন্ধী হিসেবে মা-বাবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে শাহেদ দ্বিতীয়। জন্ম নেয়ার তিনদিন পরই সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।

সারাক্ষণ কান্নাকাটি করার কারণে মা-বাবা তাকে কুমিল্লার একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করে। ঢাকা নিয়ে যাওয়া হলেও প্রযোজনীয় অর্থের অভাবে তার তেমন চিকিৎসা করাতে পারেনি তার দরিদ্র বাবা-মা। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাকে আবার কুমিল্লায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তার আর কোনো চিকিৎসা করানো হয়নি। দেখতে দেখতে শাহেদ পার করলো ৬ বছর। এখনো সে কথা বলতে পারে না।

কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর চান বাদশা ও গৃহিনী শাহিদা আক্তারের ছেলে শাহেদ। চান বাদশা সারাদিন কাজ করে যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে পরিবার চালানোই কষ্টকর। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে শাহেদের উন্নত চিকিৎসা করানোও অসম্ভব।

শাহেদের মা শাহিদা আক্তার জানান, তাকে স্বাধীনভাবে চলতে দিলে সে ঘরের সবকিছুই নষ্ট করে ফেলে এবং যেদিকে খুশি সেদিকে চলে যায়। নিজের ইচ্ছায় কোথাও যদি সে চলে যায় পরবর্তীতে আর ফিরে আসতে পারে না। আর সে কারণে তাকে খাঁচার মতো চারদিকে আবদ্ধ একটি কোঠরে বন্দী করে রাখা হচ্ছে।

শাহেদকে যেখানে রাখা হচ্ছে সে জায়গার পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা। মা-বাবা অনেকটাই নিরুপায় হয়ে তাকে এই পরিস্থিতির মধ্যে রাখছেন।

শাহেদের চিকিৎসার কথা বলতে গিয়ে তার মা জানান, ডাক্তার বলেছে তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হলে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ শাহেদ সবকিছু ভাঙচুর করলেও তার ছোট ভাই তৌফিকের সঙ্গে যখন খেলাধুলা করে তখন তার ছোট ভাইকে সে কোনো ধরনের আঘাত করে না। বরং তৌফিক তার পিঠে চড়ে, অনেক সময় আঘাতও করে। ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করার সময় শাহেদের আচরণ অনেকটাই স্বাভাবিক থাকে। তাই ডাক্তারের আশ্বাসে বাবা-মা তার সুস্থ হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখেন।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP