বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »কঠিন লড়াইয়ে চট্টগ্রামে মুখোমুখি দু'জোট
কঠিন লড়াইয়ে চট্টগ্রামে মুখোমুখি দু'জোট

Thursday, 2 April, 2015 09:31pm  
A-
A+
কঠিন লড়াইয়ে চট্টগ্রামে মুখোমুখি দু'জোট
কঠিন লড়াইয়ে চট্টগ্রামে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বড় এই দুই দলের সাথে শক্তি পরীক্ষায় নেমেছে দুই বড় জোট। তবে দু'জোটেরই রয়েছে বিজয়ের ব্যাপারে পাল্টাপাল্টি আশাবাদ।

নাগরিক কমিটির মনোনীত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের পক্ষে দলের সমর্থন ছাড়াও রয়েছে ক্রীড়াঙ্গন, পেশাজীবী-সুশীল সমাজ ও সনাতনী সমপ্রদায়ের নিরঙ্কুশ সমর্থন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন মনোনীত, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় সমর্থন প্রাপ্ত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের দল বা জোটের বাইরে এখনো তেমন কোনো পক্ষের সমর্থন দৃশ্যমান হয়নি।

উপরন্তু যুদ্ধাপরাধী পক্ষে চট্টগ্রাম বিএনপির অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের বিভক্তি চসিক নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত একাট্টা হতে চাওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে কি-না তা নিয়েই জোর গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে, মেয়র পদের পাশাপাশি ৪১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ১৪টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে কোথাও কোথাও বিএনপির প্রার্থীই নেই। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীতার বিভক্তি মেয়র পদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি-না তা নিয়েও সচেতন দলের শুভার্থীদের মাঝে শঙ্কা রয়েছে। তবে সকল শঙ্কাকে নাকচ করে পেশাজীবী সমপ্রদায়ের পক্ষ থেকে আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ। একই সাথে ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্বশীলরাও জোটবদ্ধ হয়ে নেমেছেন মাঠে।

আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সমর্থক-সংগঠকরা আশা করছেন চট্টগ্রাম জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত উন্নয়ন ধারাবাহিকতার সাথে সমন্বয় রেখে সেবা নিশ্চিতের জন্য প্রধানমন্ত্রী সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। এমন বোধ থেকেই দলের শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতারা জোটবদ্ধ হয়েছেন বলে মনে করেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দিন।

এদিকে, বিএনপিতেও শীর্ষ কয়েক নেতার জোটবদ্ধ সমর্থন দৃশ্যমান এম মনজুর আলমের প্রতি। তবে দলটির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাবেক সভাপতি ও প্রাক্তন মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং বর্তমান মহানগরী বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের নীরবতা, নিষ্ক্রিয়তা খোদ বিএনপি সমর্থকদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করেন বকশিরহাট ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ্ব জামাল হোসেন।

অন্যদিকে বিএনপির আশাবাদ, গত পাঁচ বছরের কর্মকান্ডের কারণেই মিষ্টভাষী সজ্জন মনজুর আলম উত্তরে যাবেন নির্বাচনী যুদ্ধে। মেয়র হিসেবে তার সাথে সহকর্মী কাউন্সিলরদের বোঝাপড়ার প্রভাব পড়তে পারে আগামী নির্বাচনে।

এদিকে, 'মেয়র হিসেবে দায়িত্বপালনকালে এম মনজুরকে সরকার ঠিকমত বরাদ্দ দেয়নি' বলে অভিযোগ তুলে মনজুর পক্ষে মাঠের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বিএনপি সমর্থকরা। এছাড়াও চসিকের গেল নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরদের একাংশ অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে আগামীতেও প্রভাব বিস্তারের আশায় মনজুর প্রতি গোপন সমর্থন দিতে পারেন বলেও আশা করছেন তার সমর্থকরা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মনজুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, চসিক নির্বাচনকেও আন্দোলনের অংশ হিসাবে নিয়েছে বিএনপি। তাই সর্ব শক্তি নিয়ে আমরা মাঠে আছি। তবে দলের আভ্যন্তরীন কোনো বিরোধ বা কারো অসহযোগীতা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে কিনা সে প্রশ্ন অবশ্য নাকচ করে নোমান।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP