বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »ডিম এবং মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়াতে হবে
ডিম এবং মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়াতে হবে

Sunday, 22 February, 2015 07:18  
A-
A+
ডিম এবং মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়াতে হবে
পুষ্টি ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উন্নত বিশ্বের মানুষ গড়ে প্রতিবছর ৬০০টি ডিম এবং ৫০ দশমিক ১ কেজি মাংস খেলেও আমাদের দেশের মানুষ ডিম খাচ্ছে মাত্র ৪৫-৫০টি এবং মাংস মাত্র ৩ দশমিক ৬৩ কেজি। ফলে প্রতিজনের দিনে মুরগির মাংসের ২৬ গ্রাম এবং ডিমে ২৩ গ্রাম ঘাটতি রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যবান মেধাবী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে হলে ডিম এবং মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়াতে হবে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) আয়োজিত ৯ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০১৫ উপলক্ষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষেণা ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘একমাত্র পোল্ট্রিতেই নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদেই ভোক্তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব। উৎপাদনের পর আর ভেজাল করার সম্ভাবনা থাকে না। কম সময়ে, কম দামে দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের বিকল্প নাই।

ওয়াপসা-বিবির সভাপতি মসিউর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক মানের এ আয়োজন ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পর পর করা হচ্ছে। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার আয়োজন বেশি আকর্ষণীয়। এবার শোতে থাকছে ২৯৭টি স্টল। অংশ নিচ্ছে ১৪৭টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. নাজমা শহীন বলেন, ‘প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিম ও মুরুগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ খুবই কম। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল হেলথ- এর সুপারিশ অনুযায়ী একজনের প্রতিদিন ৪০ গ্রাম মাংস এবং ৩০ গ্রাম ডিম গ্রহনের কথা থাকলেও ২০১৩ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ গড়ে ১০ গ্রাম মাংস এবং ৮ গ্রাম ডিম গ্রহণ করছে। এ অবস্থায় আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা ছাড়া পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে শূণ্য থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ খর্বাকৃতির, ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ কম ওজনের এবং ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ ক্ষীণকায়। অপুষ্টির শিকার মা ও শিশুর সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। পাশাপাশি নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পোল্ট্রি ফিডে টেনারির বর্জ্য, ছত্রাক আক্রান্ত গম-ভুট্টাসহ ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার মণ্ডলের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ড. নিতিশ চন্দ্র দেবনাথ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির সিএসও ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP