বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »জাপানের অনাবিষ্কৃত এক আদিবাসী গোষ্ঠি
জাপানের অনাবিষ্কৃত এক আদিবাসী গোষ্ঠি

Thursday, 12 February, 2015 11:39  
A-
A+
জাপানের অনাবিষ্কৃত এক আদিবাসী গোষ্ঠি
বাংলাদেশ টাইমঃ রাতে পাহাড়ে উঠতে সচরাচর কেউ চাইবে না। বিপদসঙ্কুল পথ ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে পাহাড় পাড়ি দেয়া চাট্টিখানি কথাও নয়। কিন্তু আজ আমরা এমন এক আদিবাসী গোষ্ঠির কথা তুলে ধরবো, যাদের কাছে রাতে পাহাড়ে চড়া দিনের আলোতে পাহাড়ে চড়ার চেয়ে সোজা। শুধু তাই নয়, জাপানের মতো আধুনিক একটি দেশে এই আদিবাসী গোষ্ঠিটি আজও তাদের স্বকীয়তা ধারণ করে আছে এবং তাদের সম্পর্কে খুব বেশি একটা আধুনিক বিশ্ব জানেও না। সম্প্রতি জাপানের এক সাংবাদিকের স্বদিচ্ছা ও ঐকান্তিক চেষ্টায় ‘আইনু’ নামের এই আদিবাসী গোষ্ঠি সম্পর্কে জানা গেছে।

জাপানের ক্রমশ উত্তরের প্রদেশ হোক্কাইদো। এই প্রদেশে গেলে ‘আইনু মিউজিয়াম অ্যান্ড কালচারাল ভিলেজ’ নামের একটি স্থান দেখতে পাওয়া যাবে। অধিকাংশ জাপানিই মনে করে তাদের পূর্বপুরুষদের রক্তবাহী আইনু জাতিগোষ্ঠি এখন আর টিকে নেই। তাই তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে তৈরি হয়েছিল এই জাদুঘর। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে জাপানে আইনু গোষ্ঠির প্রায় চব্বিশ হাজার মানুষ বাস করছেন। যদিও তাদের মধ্যে মাত্র দশজন প্রচলিত জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে, অন্যরা সবাই তাদের পুরনো ভাষাতেই কথা বলে।

আইনু জাতিগোষ্ঠির রীতি অনুযায়ী তাদের ঘর বাড়ির দেয়াল সজ্জিত থাকে রংবেরংয়ের নকশা করা কাপড় দিয়ে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ঘর-বাড়ির বাইরে উজ্জ্বল রং না থাকলে পশু-পাখি আকৃষ্ট হয় না। আর পশু-পাখি আকৃষ্ট না হলে শিকারের দেবতা আইনুদের উপর রুষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি, আইনু তরুনদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ঘোষণা দেয়ারও কিছু রীতি আছে। রীতি অনুযায়ী তরুনদের প্রাপ্তবয়ষ্ক হতে গেলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয় তাকে বড় কোনো প্রাণী শিকার কিংবা বড় কোনো মাছ শিকার করতে হবে। এই শিকার করতে পারলেই তবে আইনু তরুণটি প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সমাজে স্বীকৃত হয়।
হোক্কাইডোতে এক দশক আগেও আইনুদের পক্ষে টিকে থাকা মুশকিল ছিল। তেমনি জাপানে এখনও আইনুদের জন্য টিকে থাকা মুশকিল। ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত জাপান সরকার আইনু জাতিগোষ্ঠিকে সরকারিভাবে আদিবাসী গোষ্ঠি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৮৬৮ সাল থেকে ১৯১২ সাল মধ্যবর্তী সময়ে মেইজি সাম্রাজ্যের আমলে আইনুরা সবচেয়ে বেশি জাতিগত হুমকির মুখে পরে। সেই সময় জাপানের মূলধারার সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের একাত্ম করার জন্য অনেক প্রয়াস চালানো হয়।

জাপানের ওপেন ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক সুনুয়া হোন্ডার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আইনুদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। জাপানের কথিত মূলধারার সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের মেলানোর প্রক্রিয়া মোটেও ভালো নয়। এরফলে আইনুরা তাদের একঘরে করে ফেলেছে এবং সময়ের সঙ্গে নিজেদের উন্নয়ন ঘটায়নি। তবে ভিন্ন চিত্রও আমরা দেখতে পাই। অনেক আইনুই আছেন যারা নিজেদের আইনু হিসেবে পরিচয় দিতে চান না, কারণ তারা দেখেছে যে আইনু হিসেবে পরিচয় দিলে সামাজিকভাবে কোনো সুবিধা তারা পায় না।’

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP