বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »আকাশচুম্বি মাটির দালান
আকাশচুম্বি মাটির দালান

Monday, 9 February, 2015 11:44  
A-
A+
আকাশচুম্বি মাটির দালান
বাংলাদেশ টাইমঃ মরুভূমির শহরই বলা যায় একে। সারি সারি দালান আর তার চারদিকে ধূসর মরভূমি। পুরো শহরে প্রায় পাঁচ শতাধিক ভবন। এগুলোর মধ্যে ছোটটি পাঁচ তলার আর বড়গুলি ১১ তলার। তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে সাড়ে চারশ বছর আগে গড়ে ওঠা শহরটির ভবনগুলো সব কাঁদামাটির। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, আজও দিব্যি টিকে আছে ওই মাটির দালানগুলো। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ এই ক্ষুদে শহরটিকে দেখতে ইয়েমেনে যান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে ইয়েমেনের পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে।

ইয়েমেনের শিবাম শহরটিকে ইউরোপে ডাকা হয় মরুভূমির ম্যানহাটান নামে। শহরটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সংযোগস্থাপনকারী রাস্তার ঠিক পাশেই অবস্থিত। বিভিন্ন দলিল দস্তাবেজ ঘেটে জানা যায়, এক প্রলয়ঙ্কারি বন্যার পর ১৫৩০ সালের দিকে পাহাড়ের ওপরে শহরটি নির্মান করা হয়। এর প্রতিটি বাড়িই কাঁদামাটি আর ভুষি দিয়ে তৈরী। ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত তাপসহনীয় ভবনগুলোর কাঠামো তৈরী হয়েছে পাতাহীন নাবাক গাছ দিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রায় আকাশচুম্বি এসব ভবনগুলিতে সাধারনত একটি পরিবার বাস করে থাকে। এর নিচতলা ব্যবহার করা হয় গবাদি পশুর খোঁয়ার হিসেবে। প্রথম তলাটি ব্যবহৃত হয় খাদ্যগুদাম হিসেবে।এর পরের তলাগুলোতে রয়েছে রান্নাঘর ও থাকার ঘর।

প্রায় সাড়ে চারশ বছর ধরে টিকে থাকা ভবনগুলিতে নিয়মিত সংস্কার কাজও চলে। তবে সংস্কার বলতে আমাদের দেশে মাটির ঘরগুলিতে যেমন প্রলেপ দেয়া হয় এখানে ঠিক সেই কাজটিই করা হয়। ২০০৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় শহরটির বেশ কিছু বাড়ি ধ্বসে পড়েছিল। পরের বছর আল কায়েদার হামলায়ও বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সাত হাজার বাসিন্দার এই শহরটিকে ইউনেস্কো তার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির তালিকায় ঠাঁই দিয়েছে।

মুসলিম সাম্রাজ্যের সেই শুরুর দিককার বানানো মাটির মসজিদ আজও অক্ষুন্ন আছে সেখানে। ৯০৪ সালের দিকে বানানো হয়েছিল ওই মসজিদটি এবং ১২২০ সালে বানানো হয়েছিল একটি প্রাসাদ। যেখানে তৎকালীন সময়কার শাসক থাকতেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক রাস্তা পরির্বতন হয় যাওয়ার কারণে একটা সময় এই শহরটি তার জৌলুস হারায়। শহরটি সেই সাবেকি ঢংয়েই রয়ে যায়। নতুন করে কোনো বাড়ি তৈরি হয়নি, উল্টো যেসমস্ত দালান ভেঙ্গে অথবা ধ্বংস হয়ে গেছে সেগুলো আর মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে এই শহরে প্রায় সাত হাজার মানুষ বাস করেন। আধুনিক সময়ের ছোয়া এই শহরে এখনও লাগেনি। এখনও এই শহরের বাসিন্দারা পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করে।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP