বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »যেসব কাজে লাগবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
যেসব কাজে লাগবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

Friday, 11 May, 2018 05:36am  
A-
A+
যেসব কাজে লাগবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
বাংলাদেশ টাইম : মহাকাশে যাত্রার শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চপ্যাড থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে। এটি উৎক্ষেপণ সফল হলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। 

টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর মাধ্যমে ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস (ডিটিএউচ) চালু করা যাবে। 

অর্থাৎ এ স্যাটেলাইটের সি ব্যান্ডের মাধ্যমে কাভারেজ এরিয়ার যে কোনো জায়গায় ভিডিও সম্প্রচার করা যাবে। গ্রাহক ছোট থেকে মাঝারি ধরণের এন্টেনার মাধ্যমে এ সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

স্যাটেলাইটের ভিস্যাট সেবার মাধ্যমে যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এ সেবা প্রদান করতে পারবে। 

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিবছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। ফলে বড় অঙ্কের টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। দেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর স্যাটেলাইট ভাড়াবাবদ ব্যয়ও কমে আসবে। 

এছাড়া স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। যেসব জায়গায় অপটিক্যাল ক্যাবল বা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি, এ স্যাটেলাইটের সি ব্যান্ডের মাধ্যমে সেসব দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে টেলি ও মোবাইল কমিউনিকেশন এবং ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া যাবে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উদ্ধারকর্মীরা স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রেখে দুর্গত এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। 

এ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ, ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় এক হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে।

বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার ভুটান, নেপাল ও এশিয়ার অন্য অংশে কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তানের মতো দেশেও ভাড়া দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে সমর্থ হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি পুরো বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশগুলো, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া কাভার করবে। ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে। তবে বিএস ওয়ানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৮ বছর পর্যন্ত।

৩.৭ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি তৈরি ও এর ডিজাইন করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর এটিকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার রকেটটি বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স।

২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পায়। এ সময় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৩১৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এবং বাকি টাকা সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে। তবে প্রকল্প শেষে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা।  আর্থ স্টেশন থেকে ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে যেতে সময় লাগবে ৮ থেকে ১১ দিন। আর তিন মাসের মধ্যে এটি কাজের জন্য প্রস্তুত হবে।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP