বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »ডুমুরিয়ার শোভনায় পানির সংকটে হাহাকার
ডুমুরিয়ার শোভনায় পানির সংকটে হাহাকার

Sunday, 22 April, 2018 07:59pm  
A-
A+
ডুমুরিয়ার শোভনায় পানির সংকটে হাহাকার
সাব্বির খান ডালিম, ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকেঃ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নে গরম কালের শুরুতেই হঠাৎ করে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ গভীর নলকুপে পানি উঠছে না । আর যা একটা-দু’টায় খুব সামান্য পরিমানে উঠছে সেখানেই সারা গ্রামের মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন দিয়ে পানি নিচ্ছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে এ জন্য অপরিকল্পিত সেচ-পাম্প-কেই দায়ি করা হচ্ছে।
পানির কষ্টে ভূক্তভোগি শোভনা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌষুমের শুরুতে উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রায় সকল গভীর নলকুপ থেকে আর পানি উঠছে না। হাতেগোনা ১-২টায় খুব সামান্য পরিমান পানি উঠছে। দিনে দিনে এই অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করায় গত ৩ এপ্রিল এলাকার গণ্যমান্য মানুষরা ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেক হাসান উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেন। তার প্রেক্ষিতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রথ্বীশ মন্ডল ওই এলাকায় যেয়ে বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরীক্ষা করে গভীর নলকুপে পানি না ওঠার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শোভনা পশ্চিমপাড়ার গৃহবধু আয়শা বিবি ও দিপালী মন্ডল বলেন, আমাদের দুই গ্রামের মধ্যে একমাত্র শহীদুল সরদারের টিউবওয়েলে পানি উঠছে। আর ওই টিউবওয়েলে পানি আনতে গেলে অনেক পথ হেঁটে যেয়ে লাইন দিতে হয়। ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত এভাবেই মানুষ পানি আনছে। পশ্চিমপাড়া এলাকার এস.এম হাবিবুর রহমান বলেন, মার্চ মাসের শুরুতেই আমাদের গ্রাম-সহ আশপাশের কুলতলা, মাঝেরপাড়া, জিয়েলতলা, শিবপুর, বাদুরগাছা অঞ্চলের টিউবয়েল গুলোতে আর তেমন পানি উঠছে না। বর্তমানে খুবই ভয়াবহ অবস্থা। গ্রামের মা-বোনদের অনেক দুর থেকে লাইনে দাড়িয়ে এক কলস করে পানি আনতে হচ্ছে। শোভনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মনিন্দ্রনাথ মল্লিক বলেন, আমাদের এলাকায় ধান চাষের জন্য যত্র-তত্র বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প বসিয়ে বিপুল পরিমান ভূগর্ভস্থ পানি তুলে আনার ফলে পানির লেয়ার(স্তর) নেমে যাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।
পানি সংকটের প্রেক্ষিতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রথ্বীশ মন্ডল বলেন, ওই এলাকায় পানির স্তর ৪২-৪৪ ফুট নেমে গেছে। ওখানকার ডিপ বোরিং গুলোই খুব ক্ষতি করছে। ৮০০ ফুট দূরত্বের আইন থাকলেও ওখানে ১ থেকে দেড়’শ ফুটের মধ্যেই বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকুপ আছে। তাছাড়া উপজেলার মধ্যে বেশির ভাগ সেচপাম্পই সেখানে অবস্থিত। ওইসব সাবমার্সিবাল পাম্পেই পানির স্তর শুণ্য করে দিচ্ছে। আর যত্র-তত্র ওইসব পাম্পের কারণেই এলাকার টিউবয়েলগুলো পানি পাচ্ছে না। তাই পল্লী বিদ্যুৎ-কে সেখানে আর নতুন নলকুপ স্থাপনের সুযোগ না দিয়ে বরং অপরিকল্পিত পাম্পগুলো বন্ধ করে দিলে পানি সংকট দূর হবে। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, পানি সংকটের প্রেক্ষিতে ইতোপূর্বে কয়েকটির সংযোগ দেইনি। তাছাড়া ইতোমধ্যে নতুন সেচ পাম্প সংযোগও বন্ধ করেছি। শোভনা ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্যা বলেন, অপরিকল্পিত বোরিং-এর ফলে শোভনাঞ্চলে পানির লেয়ার নেমে গেছে। ৫-৬’শ ফুটের টিউবয়েলে লেয়ার ফেল করেছে। তবে ৮’শ ফুটের বেশি লেয়ার যাদের তারা কিছু পানি পাচ্ছে। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় অবিলম্বে ১৫টি ডিপটিউবয়েল বসিয়ে মানুষের খাওয়ার পানির সংকট দূর করার উদ্যোগ নিয়েছি। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেক হাসান বলেন, এলাকাবাসীর আবেদনের আগেই আমাদের কমিটি গত মার্চ মাস পর্যন্ত যেসব গভীর সেচপাম্প বসানোর আবেদন ছিলো, তা বন্ধ করে দিয়েছি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে সেচপাম্প বসানোর জন্য একটি আইন করে পূর্বের কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করায় আমরা আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছি না।



এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP