বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ফিচার »আজ ডুমুরিয়ার রংপুরে- গণহত্যা দিবস
আজ ডুমুরিয়ার রংপুরে- গণহত্যা দিবস

Saturday, 14 April, 2018 01:06am  
A-
A+
আজ ডুমুরিয়ার রংপুরে- গণহত্যা দিবস
সাব্বির খান ডালিম, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
 আজ (১৯৭১ সালে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ, ১৩৭৮ সন ) খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুরে গণগত্যা দিবস পালিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এ দিবসটি রংপুরবাসীরা পালন করে আসছে। এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী দেশীয় দোসরদের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে ১৪ জনকে নির্বিচারে হত্যা এবং ২২ জনকে গুরুতরভাবে জখম করে ।
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কালরাত্রে রাজধানী ঢাকায় যে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় তা ধীরে ধীরে সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের ২০দিন পর পহেলা বৈশাখের দিন খুলনার ডুমুরিয়ার রংপুর হিন্দু অধ্যুশিত এলাকাবাসী ভগবতী পুজা নিয়ে ব্যস্ত থাকে হঠাৎ পাক হানাদার বাহিনী শলুয়া বাজার ও ঘোনা মান্দারডাঙ্গা থেকে রংপুর গ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে । তিল ক্ষেতের মধ্য দিয়ে একপেয়ে পথ ধরে রংপুরের নন্দনকানন পাড়ায় ঢুকে পড়ে এবং ভারি অস্ত্রসহ নিরস্ত্র নিরীহ মানুষের উপর মুহুর্মুহু ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহিলা ও বৃদ্ধরা বাদে সকলেই ঘর ছেড়ে রেরিয়ে পড়ে। তৎকালিন রংপুর ইউনিয়নের  চৌকিদার খোদাবক্স  এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বর, শিক্ষিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এ বলে আশ্বস্থ করে যে, মিলিটারি বাহিনী দ’ুদিন আগে বশিরাবাদে ঘটে যাওয়া লুটপাট ও হত্যাকাÐের তদন্ত করতে আসছে। উল্লেখ্য , রংপুর কালীতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজারঘুটা নিবাসী জগদীশচন্দ্র ঢালীর বলেন, গাড়াখোলার (গোলদারঘাটা) কুখ্যাত লুটেরা লকাই ও রাজ্জাকের নেতৃত্বে বশিরাবাদে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে রংপুর-সাড়াভিটা-বটবেড়া-বারাণসি-কৃষ্ণনগরবাসীর প্রতিরোধের মুখে লকাই গুÐাসহ দুজন মারা যায়। স্থানীয় লোকজন চৌকিদারের কথায় আশ্বস্থ হয়ে ঘরে ফিরতে থাকে কিন্তু মিলিটারীরা গ্রামে ঢুকেই সত্তরোর্ধ ভোÐলকে গুলি করে হত্যা করে। ভোÐলপুত্র কৃষ্ণের ভাষ্যমতে, ‘‘মিলিটারীর ভয়ে আমরা সবাই পালিয়ে যাই, কিন্তু বাবা না পালিয়ে বাঁশের চটা ছাঁচতে থাকে এমতাবস্থায় আমরা বাড়ি ছেড়ে যেতে না যেতেই গুলির শব্দ শুনতে পাই। বাড়ি ফিরে এসে দেখি মিলিটারীর গুলিতে বাবার বুক ঝাজরা হয়ে গেছে।’’ এরপর তারা ঢুকে পড়ে রংপুর গ্রামের বড়বাবু এবং বিএবিটি পাশ, আত্মনিবেদিত শিক্ষাকাÐারী ও সাবেক চেয়ারম্যান (প্রেসিডেন্ট) প্রফুল্লকুমার বিশ্বাসের বাড়িতে। বাড়ি ঢোকার প্রাক্কালে আশপাশের ভীতসন্ত্রস্থ সকল মানুষ তৎকালীন মেম্বর ইন্দুভ’ষণ বিশ্বাসের দালান ঘরে আশ্রয় নেয়। মিলিটারীরা প্রথমে প্রফুল্লর ছোট ছেলে প্রবোধকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। এরপর ঘরের দরজায় গুলি করলে আমরা পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে অনেকেই প্রাণ বাঁচায় । তএলাকার ইউপি সদস্য  ইন্দুভূষন বিশ্বাসসহ অনেককে আটক করে। এদিকে প্রফুল্ল মিলিটারীর সাথে তর্ক করলে তাঁকে ধরে খালের ঘাটে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর আটকৃতদের নিয়ে জোদ্দারবাড়িতে ঢোকে এবং আরো অনেককে দক্ষিণ বিলের দিকে নিয়ে যায়। সবাইকে লাইন দিয়ে শুইয়ে দিয়ে বেয়নট দিয়ে মাথায় , পাছায়, পিঠে , বুকে আঘাত করে। এক পর্যায়ে শিবপদ ঢালী এ মর্মান্তিক দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং মিলিটারীরা গুলি চালালে তার ডান পায়ের হাটুর নিচে লাগলে মৃত্যের ভান করে পড়ে থাকে যার দরুণ সে প্রাণে বেঁচে যায়। পাকবাহিনী রংপুর দক্ষিণপাড়ায় ঢুকে আরো হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকবাহিনীর এই পৈচাশিক নারকীয় হত্যাযজ্ঞে যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন-শিক্ষাবিদ প্রুল্লকুমার বিশ্বাস, ইন্দুভুষণ বিশ্বাস, ভোÐল মÐল, লালচাঁদ বিশ্বাস, অমূল্য জোদ্দার, অমূল্য মÐল, রাইচরণ মÐল, মথুর ঢালী, মহেন্দ্রনাথ ঢালী , নির্মল ঢালী, নীহার ঢালী, রতন ঢালী, চÐীরাম ও বিশ্ব। উল্লেখ্য , বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. সন্দীপক মল্লিকের প্রচেষ্টায় বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত রশীদ হায়দার সম্পাদিত শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ গ্রন্থের ৫৭ পৃষ্ঠায় এ সকল শহীদের তথ্যাবলী লিপিবদ্ধ হয়েছে।  এ দিনটি রংপুর - অঞ্চল শহীদ -স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ প্রভাত ফেরীসহ নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে।

 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP