বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» ভিডিও »‘শবে-বরাত হাদিস কুরআনে না থাকলেও অস্বীকার করা যাবে না’ (ভিডিও)
‘শবে-বরাত হাদিস কুরআনে না থাকলেও অস্বীকার করা যাবে না’ (ভিডিও)

Thursday, 3 May, 2018 09:49am  
A-
A+
‘শবে-বরাত হাদিস কুরআনে না থাকলেও অস্বীকার করা যাবে না’ (ভিডিও)
চ্যানেল ১৯ : মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ, বাংলাদেশ সরকারের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশনের সহ সভাপতি, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম, জমিয়াতুল ওলামা ও ইকরা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। শবে-বরাত ও তার তাৎপর্য এবং শবে-বরাত নিয়ে কেন বির্তক হচ্ছে, এছাড়া রাজনীতির সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক এবং নারী নেতৃত্ব বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: শবে-বরাত কেউ মানছে কেউ মানছে না, এটি নিয়ে বিতর্ক কেন?

উত্তর: সহিহ হাদিস ও কুরআনে শবে-বরাতের কথা উল্লেখ না থাকলেও শবে-বরাতকে অস্বীকার করা যাবে না। হাদিসে শবে-বরাত শব্দটি এভাবে না আসলেও শাবন মাসের মধ্যম রজনীকে বরকতময় বলা হয়েছে। একইভাবে কুরআনেও বলা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছে ইরান মাধ্যমে তাই এখানে ফার্সি শব্দের প্রভাব রয়েছে। আর শবে-বরাত শব্দটি ফার্সি থেকেই এসেছে।

তবে যারা সালাফি ও আহলে হাদিস তারা যেহেতু সিহাহ সিত্তার বাইরে অন্য হাদিসকে আমলে নেন না তাই শবে-বরাত পালন করেন না। আর যারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী তারা মনে করেন, আমল বা ফজিলতের ক্ষেত্রে সিহাহ সিত্তার বাইরেও যেসব সহিহ হাদিস আছে তা পালন করা যাবে।

কুরআনে সুস্পষ্টভাবে লাইতুমমুবারাকাহ বা বরকতময় রজনীর কথা বলা হয়েছে। এবিষয়ে অনেক মুফাসিসরে কুরআনগণ মনে করেন লাইতুমমুবারাকাহ বলতে শবে-কদরকে বলা হয়েছে। আবার অনেক মুফাসিসরে কুরআন বলেন, যেহেতু কুরাআনে সরাসরি শবে-কদরের বিষয়ে বলা আছে ও একটি সুরাও আছে তাই লাইতুমমুবারাকাহ অন্য কোন রাতকেই বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: শবে-বরাত সমগ্র মুসলিম বিশ্বে পালন না হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে হচ্ছে কেন?

উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.)এর পরবর্তী যুগে ওই অঞ্চলে সালাফিদের প্রভাব বেড়ে যায়। আর যেহেতু সালাফিরা এসব হাদিস মানেন না তাই আরব ও কিছু কিছু অঞ্চলে শবে-বরাত পালন করা হয় না। অন্যদিকে ইরাক, ইরান, পাকিস্তান, ভারত ও আমাদের এখানকার আলেমগণ শবে-বরাতের পক্ষের হাদিসগুলো মানেন তাই এই অঞ্চলে শবে-বরাত পালন করা হয়।

প্রশ্ন: শিয়া মাজহাবের অনুসারীরা বলে থাকেন যে, শবে-বরাত ইমাম মাহদির জন্মদিন। আর এজন্যই হালুয়া রুটি ও আতশবাজী পোড়ানো হয়?

উত্তর: এটি অবসম্ভব না। ইরানের অধিকাংশই শিয়া। তারা ১২ ইমামে বিশ্বাসী। তারা এই দিনকে ১২ ইমামের শেষ ইমামের জন্মদিন হিসেবে পালন করতে পারে। আর এজন্য হালুয়া রুটি ও আতশবাজীর প্রচলনও হতে পারে। এটি আমি অস্বীকার বা স্বীকার কোনটাই করি না। কিন্তু আমাদের এখানে ইমাম মাহদির জন্মদিন হিসেবে হালুয়া রুটি ও আতশবাজী পোড়ানো হয় না। এদিন যে ইমাম মাহদির জন্মদিন তা অনেকেই জানেও না। তবে এসব বেদআত।

প্রশ্ন: কুরআনে জাকাতরে বাইরেও সম্পদের এক পঞ্চমাংশ খুমস দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি কী?

উত্তর: খুমস হচ্ছে জিহাদ থেকে পাওয়া সম্পদের এক পঞ্চমাংশ সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও পরবর্তী ফলিফাদের সময়ে তা দেওয়া হতো। শিয়ারা যেহেতু ইমামতে বিশ্বাসী । তারা মনে করেন আলেমরা ইমামের প্রতিনিধি তাই তারা সম্পদের এক পঞ্চমাংশ আলেমদের তহবিলে দান করেন। এই সম্পদ দান করা এখন ফরজ না। তবে যদি এখনো কোন শরিয়াত সম্মত জিহাদ হয় এবং খলিফা থাকে তাহলে খমসের বিধান জারি হতে পারে।

প্রশ্ন: ইসলামে রাজনীতি ও ধর্মকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে? আর নারী নেতৃত্বের বিষয়ে কী বলা হয়েছে?

উত্তর: মুসলমানের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালিত হবে ইসলামের বিধান মেনে। যারা প্রগতিশীল তারা বলছেন রাষ্ট্র আলাদা ও ধর্ম আলাদা। এটি তাদের ব্যক্তিগত মতামত কোন ধর্মীয় কথা নয়। আবার যারা মনে করেন রাষ্ট্রই হলো ইসলামের চালিকা শক্তি। জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য অনেক ইসলামী দল সেটি মনে করে। এটিও আরেকটি পক্ষ। আসলে বিষয়টি হচ্ছে যদি কোন রাষ্ট্র মুসলমানদের ক্ষমতায় আসে তাহলে ইসলামের কল্যাণময় বিধানগুলো বাস্তবায়িত হবে। যদি সেটি না হয় তাহলে সে যেই অবস্থানে আছে সেখানেই আল্লাহর বিধান বাস্তবায়িত করবে।

নারী নেতৃত্ব নিয়ে আলেমদের মাঝে দুইটি মত আছে। একটি মতের অনুসারীরা মনে করে যেহেতু হজরত সুলাইমান (আ.) এর সময়ে রানী বিলকিসের শাসন নিয়ে কুরআনে ভালোভাবেই বর্ণনা আছে ও হজরত আয়েশা (রা.) জঙ্গেজামালে যুদ্ধের নেতৃত্বের বিষয়টি আছে তাই মহিলারা নেতৃত্বে আসতে পারবে। তবে আরেকটি মতের অনুসারীরা মনে করেন পারবে না। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম হজরত আশরাফ আলী থানবী (রাহ.) ফতোয়া দিয়েছেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় মহিলারা নেতৃত্ব দিতে পারবে। তবে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিতে পারবে না।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP