বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» অপরাধ »সে রাতে ৩২ মিনিট কি কথা হয়েছিল ?
সে রাতে ৩২ মিনিট কি কথা হয়েছিল ?

Wednesday, 19 November, 2014 08:44  
A-
A+
সে রাতে ৩২ মিনিট কি কথা হয়েছিল ?
নিহত হওয়ার দুই দিন আগে ডাক্তার শামারুখ মাহজাবীন তার বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ৩২ মিনিট কি কথা বলেছিলেন, তা উদঘাটন করতে ব্যস্ত এখন পুলিশ। এরই মধ্যে কলরেকর্ড চেয়ে ওই ফোন কোম্পানির কাছে আবেদন করা হয়েছে।

 পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কি কথা হয়েছিলো ১১ নভেম্বর রাতে বাবার সঙ্গে মাহজাবীনের। ৩২ মিনিটের কলরেকর্ড হাতে পেলেই রহস্য উদঘাটনে কিছুটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

 ওই রাতে মোবাইল ফোনে কি কথা হয়েছিলো তা জানতে প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ওই রাতে মুলত: খান টিপু সুলতানের অন্যায় কর্ম নিয়ে কথা হয়েছে। মেয়ের কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা তিনি চেয়েছিলেন। মেয়েকে কি কি অত্যাচার করতেন তা নিয়ে কথা হয়েছে। একসময় মেয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেছে, বাবা তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। টিপু সুলতান ভালো মানুষ না।’

 

‘হুমায়ুন তো ভালো, নাকি ! - এ কথার উত্তরে মেয়ে বলেছে, বাবা সাপের পেটে সাপই জন্ম নেয়।’

 এদিকে চিকিৎসক শামারুখ মাহজাবীন নিহত হওয়ার ৬ দিন পর পুলিশ দাবি করেছে, তার একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, ডায়েরিটি মাহজাবীনের নয়। পুলিশ এটি তৈরি করে টিপুর পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। ডায়েরিতে সুইসাইড নোটের কথা উল্লেখ করে পুলিশ মামলাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে ডায়েরি ও তাতে লেখা সুইসাইড নোটের কথা গণমাধ্যমকে বলে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা করছেন।

 ওই ডায়েরি থেকে কিছু উক্তি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন মাহজাবীনের বাবা নুরুল ইসলাম। বুধবার বিকালে ফোনে কথা বলার সময় রাইজিংবিডির কাছে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ডায়েরিতে লেখা যে সুইসাইড নোটের কথা বলা হচ্ছে তা তিনি দেখেননি। ডায়েরির লেখা তার মেয়ের কিনা সে বিষয়টি প্রমাণ না করেই পুলিশ মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সুইসাইড নোট সম্পর্কে অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

 তিনি বলেন, ‘তথাকথিত এই ডায়েরির নোটটি তার মেয়ের হাতের লেখা কিনা তা যাচাই করার জন্য কেউ তার স্মরণাপন্ন হননি। বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়নি এমনকি এ ব্যাপারে কোন টেলিফোনও করা হয়নি।’

 তিনি আরো বলেন, ‘ডায়েরিটি মাহজাবীনের মামা কাজী ফিরোজুর রহমানকে দেখিয়েছে পুলিশ। ফিরোজুর রহমান সে সময় পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছেন, এটি মাহজাবীনের হাতের লেখা নয় । এরপরও কিভাবে একটি জাতীয় দৈনিক তথাকথিত ডায়েরির সুইসাইডাল নোটের লেখা প্রকাশ করেছে- এটা আমার বোধগম্য নয়।’

 নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মাহজাবীনের শ্বশুর খান টিপু সুলতান সাবেক সংসদ সদস্য এবং শাশুড়ি জেসমিন আরা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের চিকিৎসক। তারা প্রভাব খাটিয়ে মামলার গতি নষ্ট করতে পুলিশের সহায়তায় এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছেন।’

 তিনি আরো বলেন, ‘এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তথাকথিত ডায়েরির সুইসাইডাল নোটের বিষয়েও কোন ফয়সালা হয়নি। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক বিচার দাবি করেন।’  

 এদিকে ডায়েরিটি আসলেই মাহজাবীনের কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত কর্তৃপক্ষও বলছে, তারা একটি ডায়েরি এবং এতে কিছু লেখা পেয়েছে তবে তা মাহজাবীনের কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

 মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, তারা নিহতের হাতের লেখার বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করবেন। এরপর তা নিয়ে ডায়রির লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। তারপর ডায়রিতে লেখা সুইসাইড নোটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাতের লেখার নমুনা ও ডায়েরি সিআইডির বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে।’

 বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ডায়েরি ও সুইসাইড নোটের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো গণমাধ্যমকে ডায়েরি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সংবাদপত্রগুলো কোথা থেকে এই তথ্য পেয়েছে তা তারাই ভালো জানে।’

 অন্যদিকে শামারুখ মাহজাবীনের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও মাহজাবীনের পরিবারের সদস্যরা। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মাহজাবীনের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।
 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP