বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» অপরাধ »"শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড" গড়ে উঠুক উপযুক্ত পাঠাভ্যাস
"শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড" গড়ে উঠুক উপযুক্ত পাঠাভ্যাস

Tuesday, 3 March, 2015 02:40pm  
A-
A+
বাংলাদেশ টাইমঃ ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ এবং ‘আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’— ফলে শিশুদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে সত্যিকারের মানুষ গড়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, মাতা-পিতার, সমাজের তথা আমাদের সকলের।
আর এ দায়িত্ব পালন বা না পালনের মাঝেই আমাদের উত্তরসূরীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তা ছাড়া মানুষ হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মকে যুগোপযুক্ত মানুষ করে গড়ে তোলার দায় এড়াবার সুযোগও নেই।
শুধু মানুষ নয়, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য যা যা শেখানো দরকার— তা সকল প্রাণীই শিখিয়ে থাকে (সাধ্যমত) তার শিশুকে। আর মানুষ হিসেবে আমাদের সে দায়িত্বটা যে আরও বেশী, ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শিক্ষা মাধ্যমে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রযুক্তির উন্নতি ও নানাবিধ কারণে মানুষের মাঝে প্রতিযোগিতাও দিনকে দিন বাড়ছে। তা ছাড়া প্রযুক্তিগত জ্ঞানে আমরা এমনিতেই কিছুটা পিছিয়ে আছি এবং উন্নত বিশ্বের সাথে সে বৈষম্য আরও বাড়ছে। সে কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষা ও অনুশীলন।
প্রতিবেশী ভারতও যেখানে তাদের মেধা বিক্রি করে বেশ আয় করছে সেখানে আমরা প্রধানত শ্রম বিক্রি করছি। যা কিনা আমাদের দুর্বলতাকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
একজন বাবা বা মা হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সে দায়িত্বের ভিড়ে ভুলে গেলে চলবে না, আপনার সন্তানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় পাঠাভ্যাসের বিষয়টা।
ফলে তাকে খেলা-ধূলার সাথে সাথে পড়তে আগ্রহী করে তুলুন। টেলিভিশন ও কম্পিউটার যেন তার খেলা ও পড়ার জগৎটা গ্রাস না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আপনার শিশুর বয়স ও শ্রেণী অনুসারে তাকে উপযুক্ত বইটি উপহার দিন। সে খুব ছোট হলে ছড়া ও মজার মজার গল্পের বই উপহার দিন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার দেওয়া উপহার অর্থাৎ বইটিও নির্বাচন করুন। তাকে দেশের ইতিহাস, আমাদের সংগ্রামের কথা জানতে দিন। আবার তাকে মজার মজার গল্পসমৃদ্ধ বই উপহার দিয়ে বই পড়ার প্রতি অনুরাগী করে তোলা প্রয়োজন।
এরপর আর একটু বয়স বাড়লে তাকে সমাজের নানা কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত হয়— এমন বই পড়তে দিন। পড়তে দিন দেশ ও মানুষের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছে তাদের বই। এবং পড়তে দিন বিজ্ঞান ও ‍প্রযুক্তির বই, অবশ্য এক্ষেত্রে সহজ-সরল ভাষায় লেখা বইটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে আপনাকে নজর দিতে হবে। ভাষার বই পড়তে দিন, সাহিত্যের বই পড়তে দিন।
আর এই যে পড়তে দিতে বলা হল, এর মানে হচ্ছে আপনি তাকে পথ দেখালেন। কারণ শিশু ও কিশোররা ক্লাসের বইয়ের পাশা-পাশি অন্য বই পড়তে চাই। এবং অনেকের তো অন্য বই পড়াতেই আগ্রহ বেশী। তবে সঠিক বাছাইটা তারা করতে পারে না অধিকাংশ ক্ষেত্রে।
অবশ্য সে যে বিদ্যালয় বা কলেজে পড়ছে— সেই বিদ্যালয় বা কলেজটির শিক্ষক-শিক্ষিকাগণেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব কম নয়। মূলত তারাও পারে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠাভ্যাসে ও উপযুক্ত বই বাছাইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে।
আর একটি বিষয়, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরী, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর শিক্ষাতে গুরুত্ব দেওয়া। তবে দেশের ভাষা, দেশের ইতিহাস, দেশের সোনার মানুষগুলোর ত্যাগ-তিতীক্ষার কথা বাদ দিয়ে এবং নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা বাদ দিয়ে কেবল বিজ্ঞান-প্রযুক্তির শিক্ষা মানবশিশুকে মানব হিসেবে নয়— মায়া-মমতা, স্নেহ-আদর-ভালবাসা ও শ্রদ্ধাহীন যান্ত্রিক দানবই গড়ে তুলতে পারে।
ফলে নতুনপ্রজন্মের প্রয়োজন উপযুক্ত ও উপযোগী শিক্ষা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা। সেখানে যেমন বিজ্ঞান থাকতে, তেমনি অবশ্য-অবশ্যই থাকবে মানবিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP