বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» অপরাধ »ছাত্রীটি কিভাবে ধর্ষিতা হয়েছে সালিশে তার বর্ণনা শুনলেন মাতবররা!
ছাত্রীটি কিভাবে ধর্ষিতা হয়েছে সালিশে তার বর্ণনা শুনলেন মাতবররা!

Saturday, 24 March, 2018 11:06pm  
A-
A+
ছাত্রীটি কিভাবে ধর্ষিতা হয়েছে সালিশে তার বর্ণনা শুনলেন মাতবররা!
বাংলাদেশ টাইম : সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, বর্তমান ইউপি সদস্য নাজমিন আক্তার প্রিয়শীসহ তিন শতাধিক নারী-পুরুষ। এর মধ্যে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী ছাত্রীকে হাজির করে ধর্ষণের বর্ণনা শুনলেন মাতবররা। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহতও হয়েছেন। ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মামলা না করতেও দফায় দফায় হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার, তাদের স্বজন ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, একই এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে আলামিন গত বুধবার ওই ছাত্রীর ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার শুনে মেয়েটির মা ছুটে এলে পালিয়ে যায় আলামিন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে সালিশ বৈঠকে বসে মাতবররা। সালিশে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে আলামিনের ভগ্নিপতি আক্তার হোসেন, সেলিম হোসেন, চাচা নায়েব আলী, বকস মিয়া, বাবা খোরশেদ আলমসহ স্বজনরা ভুক্তভোগীর স্বজনদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ইমরান, রফিক, রাজু, ওয়াসিম, সাকিব ও শহিদুলসহ ১০ জন আহত হয়। পরে সালিশ পন্ড হয়ে যায়।

শনিবার এ ব্যাপারে আবারও এক ব্যক্তির বাড়িতে সালিশ বসে। এতে স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্যসহ প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত হয়। এ সময় ভুক্তভোগী মেয়ে ও অভিযুক্ত আলামিনকে হাজির করে ধর্ষণের বর্ণনা শুনেন মাতাবররা। পরে আলামিন তার অপরাধের কথা স্বীকার করে। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ মুলতবী রাখা হয় বলে জানান স্থানীয় মাতবর সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন।

ছাত্রীর মা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। এখন ব্যাপারটি চেপে যাওয়ার জন্য দফায় দফায় তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রী জানায়, ভয় দেখিয়ে আলামিন তার সর্বনাশ করেছে। এ সময় জীবন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে সে।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, সালিশে ধর্ষণের কথা আলামিন স্বীকার করেছে। তবে তার স্বজনদের উশৃঙ্খলতার কারণে ছাত্রীর পরিবার আতঙ্কে আছে। আলামিনের বাবা খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) আবু সাঈদ আল মামুন বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সালিশ-অযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP