বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» জাতীয় »আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন
আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

Thursday, 10 May, 2018 10:40pm  
A-
A+
আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফোকাস বাংলা
বাংলাদেশ টাইম : আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। একই সঙ্গে এডিপিতে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে সাত হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা ব্যয় করার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে এনইসি। ফলে আগামী অর্থবছরে এডিপিতে মোট এক লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা নিল সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় আসন্ন অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন পায়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের পর্যালোচনা ও আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপির লক্ষ্য নির্ধারণ করার জন্যই এনইসির এ সভা বসেছিল।

পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম আগামী অর্থবছরের এডিপি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করেন। আর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো সংবলিত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সমস্যা সমাধানে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছে। আইএমইডির পক্ষে এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরকে বেঞ্চ মার্ক হিসেবে ধরে মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি আমলে শেষ বাজেটে এডিপির আকার ছিল ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বর্তমান সরকার অল্প সময়ে অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। এখন এক লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ৯ বছরের প্রথম ছয় বছর সাড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শেষ তিন বছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কোনো দেশে প্রবৃদ্ধি হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে তা হয়নি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এখন তা ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। 

মুস্তফা কামাল বলেন, এতদিন শিক্ষা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও মানুষের আয় বাড়ানোর চেষ্টা ছিল সরকারের। সেগুলো হয়েছে। এখন আর কোনো শিশু নেই যে স্কুলে যায় না। বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াট পার হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল এবং দেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এখন সরকার উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে চায়। শিক্ষা ব্যবস্থাসহ অনেক ক্ষেত্রেই মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। এখন সে পরিবর্তন আনা হবে। এ জন্য অনেক সংস্কার করা হবে। বর্তমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে উন্নয়ন মূল লক্ষ্য। ২০২০ সালে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী শেষ হবে। এর পরের পঞ্চবার্ষিকীতে থাকবে সংস্কার কার্যক্রম। এখন একটা হাসপাতাল তৈরি করতে শিক্ষা, গণপূর্ত, ওয়াসাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত থাকে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আবার দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে বিটুমিন খাপ না খেলেও সড়ক বানানো হচ্ছে বিটুমিন দিয়ে। এ অবস্থা থেকে সরকার বের হয়ে নতুন ব্যবস্থায় কার্যক্রম করতে চায়। এ জন্য সব মন্ত্রণালয়কে একটা আউটলাইন দেওয়া হয়েছে যে, এখন উন্নয়ন কার্যক্রম কোন পর্যায়ে আছে, আগামীতে কোথায় যেতে চায় সরকার। 

পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম জানান, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এক হাজার ৪৫২টি প্রকল্প থাকছে। এর মধ্যে এক হাজার ২২৭টি বিনিয়োগ প্রকল্প। আর ১১৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, দুটি জাপানের সহায়তার প্রকল্প এবং ১০৫টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর প্রকল্প। এ ছাড়া এক হাজার ৩৩৮টি বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত প্রকল্প থাকছে। এর মধ্যে ৩২৬টি বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্প।

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্যে ৭৮টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা সচিব বলেন, আগামী অর্থবছরে ৪৪৬টি প্রকল্প শেষ করা হবে। এর মধ্যে ৪৩০টি প্রকল্প বিনিয়োগ প্রকল্প আর ১৬টি কারিগরি প্রকল্প। ২১০টি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প চিহ্নিত করে আগামী এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ৫২টি প্রকল্প যেগুলো চলতি অর্থবছরে শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু শেষ হয়নি, এসব প্রকল্পকে প্রতীকী বরাদ্দ দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

জিইডি সদস্য শামসুল আলম বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে আইএমইডি সাতটি সমস্যা পেয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে আইএমইডি কিছু সুপারিশ করেছে। এনইসি সভা সুপারিশগুলোকে অনুমোদন করেছে।

তিনি বলেন, সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, স্থানীয় সরকারকে প্রকল্পগুলোকে সম্পৃক্ত না করা, রেকারিং ব্যয়ের বরাদ্দ না থাকা এডিপি বাস্তবায়নের অন্যতম সমস্যা। এ ছাড়া প্রকল্পগুলো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কোন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা প্রকল্প দলিলে থাকে না। এখন থেকে এ বিষয়টিসহ এসডিজির কোনো লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা প্রকল্প দলিলে উল্লেখ করতে হবে। প্রকল্প যে কারণে নেওয়া হয় তা অর্জিত হচ্ছে কি-না সেগুলো দেখতে হবে। 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP