বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» জাতীয় »এইচএসসি পরীক্ষা: প্রথমপত্রের বদলে দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন
এইচএসসি পরীক্ষা: প্রথমপত্রের বদলে দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন

Monday, 2 April, 2018 10:53pm  
A-
A+
এইচএসসি পরীক্ষা: প্রথমপত্রের বদলে দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন
এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রের ছবি। টঙ্গীর একটি কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্রের বদলে দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন বিলি করা হয়।
গাজীপুর প্রতিনিধি : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর দিন বাংলা প্রথমপত্রের বদলে দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন বিলি করেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। পরে প্রথমপত্রের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টা বেশি লেগেছে।

সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী জানান।

এ ঘটনায় ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও সহকারী কেন্দ্র সচিবকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

বেলা ২টায় পরীক্ষা শেষে ওই কেন্দ্র থেকে বের হওয়া পরীক্ষার্থীরা জানান, সোমবার ছিল বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা দ্বিতীয়পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এ প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পরীক্ষার্থীরা হল পরিদর্শকদের বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক দ্বিতীয়পত্রের ওই প্রশ্নপত্র ফেরত নিয়ে প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র বিলি করা হয়।

পরবর্তীতে পরীক্ষা বেলা ২টা পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া হয় বলে তারা জানান।

সকাল ১০টায় শুরু হয়ে ওই পরীক্ষা বেলা ১টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন থানায় নেওয়ার আগে বাংলা ২য় পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নের প্যাকেটের গায়ে ভুল করে প্রথমপত্র লেখা হয়েছিল।

“পরীক্ষার দিন ওই প্যাকেট খুলে বিতরণ করতে গিয়ে তা ধরা পড়ে। পরে থানায় রাখা প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক থেকে আবার তা পরিবর্তন করে আনা হয়। এতে ওই পরীক্ষা শুরু করতে ৫৫ মিনিট বিলম্ব হয়েছে। পরে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।”

মাকসুদ চৌধুরী বলেন, প্রশ্নপত্র ভুল করার কারণে কেন্দ্র সচিব টঙ্গী পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন এবং সহকারী কেন্দ্র সচিব এম এ ফারুককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তাদের বদলে পাশের টঙ্গী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষকে কেন্দ্র সচিব এবং একজন সহকারী অধ্যাপককে সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে মাকসুদ জানান।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করতে গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

তাদের তিন কার্যদিবসে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা  

এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক মোসাম্মত পলি আক্তার জানান, রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা বেলা ১টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীরা কেউ বের না হওয়ায় কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত অপেক্ষমান অভিভাবকদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মুখ না খোলায় অভিভাবকদের মাঝে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পাশের অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা বেলা ১টায় বেরিয়ে এলেও টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা বের হচ্ছিল না। কর্তৃপক্ষ তাদের গেইট তালাবদ্ধ করে রাখে। পরীক্ষার হলের ভিতরে কী হচ্ছিল তা জানতে অভিভাবকরা কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। 

এ ব্যাপারে জানতে কেন্দ্রের সচিব মো. আলাউদ্দিনকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধারেননি।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP