বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» জাতীয় »চোরাকারবারিদের সাথে বিমানের পাঁচ কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকার চুক্তি!
চোরাকারবারিদের সাথে বিমানের পাঁচ কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকার চুক্তি!

Tuesday, 3 February, 2015 01:37  
A-
A+
চোরাকারবারিদের সাথে বিমানের পাঁচ কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকার চুক্তি!
বাংলাদেশ টাইমঃ গতকাল সোমবার ফের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধভাবে আনা ৬১ কেজি ওজনের স্বর্ণের বার ও গহনার একটি বড় চালান ধড়া পড়েছে। শুল্ক গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এ চোরাচালানের সাথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল শাখার পাঁচ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা আছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা বলেছেন, ওই পাঁচ কর্মকর্তার সঙ্গে চোরাকারবারিদের ৩০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। এই টাকার বিনিময়ে তারা স্বর্ণের চালানটি বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছিলেন।

সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর হয়ে আসা উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই শাহজালালে অবতরণ করে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডিং ব্রিজে না ভিড়িয়ে উড়োজাহাজটি নেওয়া হয় বে-তে। এ সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানটিতে তল্লাশি চালায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটক স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। এর আগে গত দুই বছরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় এক হাজার কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান গণমাধ্যমকে জানান, চোরাচালানের স্বর্ণবাহী উড়োজাহাজটি কাস্টমস আইনে জব্দ করা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে উড়োজাহাজটি তাদের জিম্মায় দেওয়া হবে। তবে তদন্তের প্রয়োজনে যে কোনো সময় বিমানটি হাজির করতে তারা বাধ্য থাকবেন।

স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল দুপুরে বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, তল্লাশির একপর্যায়ে বিমানের মাঝখানের একটি শৌচাগার ও আয়নার পেছনে বিমানের লাইফ জ্যাকেট রাখার একটি বাক্স থেকে ৪৮১টি স্বর্ণবার ও ১১৪টি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ৬১ কেজির কিছু বেশি। এর মধ্যে এক কেজি ওজনের চারটি ও ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি স্বর্ণবার রয়েছে। অন্য বারগুলো ১০ গ্রাম ওজনের।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিমানটি হ্যাঙ্গারে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময় স্বর্ণগুলো বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। স্বর্ণ পাচারের এ ঘটনায় বিমানের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এই চোরাচালানের সঙ্গে কোনো জঙ্গি বা উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানে স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

তথ্যসূত্র: সমকাল

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP