বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» খেলা »স্বপ্নের অভিষেক একেই বলে
স্বপ্নের অভিষেক একেই বলে

Thursday, 20 October, 2016 11:07pm  
A-
A+
স্বপ্নের অভিষেক একেই বলে
সাকিব হাসছেন, মুশফিক হাসছেন, হাসি সাব্বির-মিরাজ-মুমিনুলদের মুখেও। এর আগে দুবার আউট হয়েও মঈন আলী বেঁচে গেছেন। আরেক দফা তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের আগে মুশফিকদের মুখে তাই এমন বিস্ময়মাখা হাসি। সাকিবের বলে এবারও বেঁচে গেলেন মঈন আলী  
চট্টগ্রাম : এবারের জাতীয় লিগের ঘটনা। বরিশালের বিপক্ষে খুলনার ম্যাচ। কোনো একটা সেশনে বল ভালো হচ্ছিল না মেহেদী হাসান মিরাজের। ‘কী হচ্ছে এসব’ বলে খুলনার অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক একটা বকুনিই দিলেন তাঁকে। পরে কোনো এক বিরতিতে রাজ্জাক অবাক হয়ে দেখলেন, মিরাজ একা একা নেটে বোলিং করছেন। একপর্যায়ে রাজ্জাককে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘দেখেন তো ভাই ঠিক আছে কি না...।’

মিরাজের গোছানো, পরিপাটি স্বভাবের এটা একটা উদাহরণ। অনুশীলন থেকে ড্রেসিংরুম, ড্রেসিংরুম থেকে মাঠ—সর্বত্র এ রকম উদাহরণ আছে আরও। কাল দেখা গেল সংবাদ সম্মেলনের কথাবার্তায়ও দারুণ গোছানো ১৮ বছরের এই তরুণ। অভিষেক টেস্ট খেলার রোমাঞ্চ থাকার কথা তাঁর মধ্যে। সেই টেস্টের প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নিয়ে ভাসতে থাকার কথা আনন্দের ভেলায়। অথচ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মিরাজ স্থির থাকলেন মাটিতে।

চোখেমুখে আনন্দের আভা ছিল। ভালো লাগার কথাটাও গোপন করেননি, ‘এ দিনটার কথা, এ ম্যাচের কথা সারা জীবন মনে থাকবে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৫ উইকেট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’ ৫ উইকেটের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছেন জনি বেয়ারস্টোকে বোল্ড করে, ‘ওই বলটা পড়ে সোজা চলে গেছে। আমিও বুঝিনি কী হয়েছে, সেও (বেয়ারস্টো) বোঝেনি।’

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নতুন বলে বল করার অভিজ্ঞতা ছিল। জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও কাল ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বল তুলে দেন মিরাজের হাতে। সঙ্গে একটা পরামর্শ, ‘বল স্টাম্পে রাখিস। স্টাম্পে বল রাখলে এলবিডব্লু, বোল্ড হওয়ার সুযোগ থাকবে।’ মিরাজের জন্য অধিনায়কের কথা মেনে বল করা কঠিন হয়নি কারণ, ভালো জায়গায় বল ফেলাটা তাঁর বোলিংয়েরই অন্যতম শক্তির জায়গা।

৫ উইকেট পেয়ে অভিষেক টেস্টটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পারবেন, এতটা আশা মিরাজও করেননি। প্রথম ম্যাচে ধাতস্থ হওয়াই ছিল লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, ‘অভিষেক টেস্টে মোটামুটি একটা পারফরম্যান্স করার চিন্তা ছিল। ধরুন এক-দুটি উইকেট, ব্যাটিংয়ে ৩০-এর মতো রান করলাম।’ মিরাজের কাছে দলের প্রত্যাশাও ছিল ও রকম। মোটামুটি একটা পারফরম্যান্স আর বলটা যেন ঠিক জায়গায় ফেলেন।

মিরাজ সবার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেলেন কয়েক গুণ। শুধু উইকেটসংখ্যাতেই আটকে থাকেনি প্রাপ্তি। টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখায় সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাটাও ভালোভাবে পেয়ে গেলেন প্রথম দিনে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক কঠিন। এখানে ধৈর্য রাখতে হয়। খারাপ বল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সব সময় এক জায়গায় বল করে যেতে হয়।’মেহেদী হাসান মিরাজ

কাল তা করে গেলেন চার স্পেলে করা ৩৩টা ওভারেই। এক দিনে ২৫-৩০ ওভার বল করাও অবশ্য নতুন কিছু নয় তাঁর জন্য। সে অভ্যাসই মিরাজের অভিষেক টেস্টের মুকুটে যোগ করেছে আরেকটি পালক। সোহাগ গাজীর ৩২ ওভার ছাড়িয়ে গড়েছেন বাংলাদেশের কোনো বোলারের একদিনে সর্বোচ্চ ওভার বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড। তবে অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট তাঁর আগেও পেয়েছেন ছয়জন।

বল হাতে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। কিন্তু মিরাজ এবার ব্যাট হাতে কী করবেন? তাঁর কাছে আশাটা এখানেও থাকছে, কারণ তিনি মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার। কাল চোখের সামনে বল ও রকম বাঁক খেতে দেখেও তাই সাহস নিয়ে বললেন, ‘আমরা টার্নিং উইকেটে খেলে অভ্যস্ত। প্রস্তুতি অনুযায়ী খেলতে পারলে আশা করি এই উইকেটেও আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারব।’

তার আগে ফেলতে হবে ইংল্যান্ডের আরও তিনটি উইকেট। চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে মিরাজেরও তাই থাকছে আরও কিছু অর্জনের সুযোগ। সেটা অভিষেক টেস্টে দেশের হয়ে সেরা বোলিং পারফরম্যান্সই হবে না কেন!

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP