বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »তনুর নৃশংস মৃত্যুতে তারা এখন কি বলবেন?
তনুর নৃশংস মৃত্যুতে তারা এখন কি বলবেন?

Thursday, 24 March, 2016 02:12pm  
A-
A+
তনুর নৃশংস মৃত্যুতে তারা এখন কি বলবেন?
খুজিস্তা নূর ই নাহারিন মুন্নী:

সোহাগী জাহান তনু ১৯ বছর বয়সের একটি মেয়ে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। যে বয়সে একটি মেয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখে, রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে উড়ে বেড়াতে চায় সেই বয়সে মেয়েটিকে নিজের পড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য টিউশনিতে যেতে হতো প্রতি সন্ধ্যায় । চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি দরিদ্র পিতার কন্যা বলে তাঁর কোন আক্ষেপ ছিল না । বরং দারিদ্রতাকে ভ্রুকুটি করে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের জীবনকে জয় করার অদম্য চেষ্টা।

মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে চা বাগানের সামনে তোলা নিষ্পাপ প্রাণোচ্ছল ছবিটি বুকের ভিতর কামড়ে ধরে। আমার ছেলেরই বয়সীই তো ! কি অন্যায় ছিল তনুর? উদার মনা থিয়েটার কর্মী হলেও ইসলামিক রীতি-নীতিতে শ্রদ্ধাশীল তনু নিজেকে সবসময় হিজাবে আবৃত করেই শান্ত এবং নম্রভাবে উপস্থাপন করতো। কোথাও বিন্দুমাত্র বাহুল্য কিংবা উগ্রতার লেশ মাত্র ছিল না। তবে কি কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো তাঁকে ? কেবল মাত্র নারী শরীরের জন্য এমন হিংস্রতা! যারা এতদিন নারীর উত্তেজক পোশাককেই ধর্ষণের স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করেছেন তাঁরা এখন কি উত্তর দিবেন ?

তনুদের বাসস্থান এবং তাঁর টিউশনির স্থান দুটোই কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের ভিতরে। অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি স্থান, সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার যেখানে সংরক্ষিত। অথচ সেখানেই তনুর গলাকাটা মৃতদেহ নগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর পড়েছিলো। নাকে রক্ত, মুখের বাঁপাশে আঁচড়, কানে নখের দাগ, একটু দূরে এক গুচ্ছ মাথার চুল। পুরো দৃশ্যটা জুড়েই ধর্ষণের আলামত। সেনানিবাসে রাস্তার প্রতিটি বাঁকে লুকানো ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং থাকার কথা, নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকার কথা । এত কড়া নিরাপত্তার ভিতর কীভাবে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হল ? কেন দুষ্কৃতীকারীর অবয়ব একটি ক্যামেরাতেও ধরা পড়লো না ?

তনুর পিতাকে কেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা দিতে হল? অনেক গুলো প্রশ্ন এখন সবার মনে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে । প্রতিদিন কত শত মেয়ে টিউশনি করে নিজেদের পড়াশুনার খরচ চালাচ্ছে। এটাতো কোন অন্যায় নয় । তবে তনুকে কেন এমন নিষ্ঠুর নিয়তি বরণ করতে হল ! অন্যরাও কি এখন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নিজেদের গুঁটিয়ে নিতে বাধ্য হবে?

আমরা একদিকে নারী স্বাধীনতার কথা বলছি, ঘরের বাইরে নারীর অংশ গ্রহণের কথা বলছি অথচ নারীর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাটুকু নিশ্চিত করতে পারছি না। বিচারহীনতার কারণে অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আত্মাহুতির মাধ্যমে বীভৎস মৃত্যুকে বরণ করা যেন নারীর জীবনের নির্মম পরিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরোতে না পারলে দোষী ব্যক্তিকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে না পারলে নারীরা আবার অবরোধ বাসিনী হতে বাধ্য হবে। অপরাধী যেই হোক যত বড়ই হোক খুঁজে বের করে তাঁকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রমাণ করতে হবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় । নতুবা তনুরা এমন করেই ধর্ষিত হবে নির্যাতিত হবে অভিমান ভরা বুক নিয়ে অকালে ঝরে পরবে ।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP