বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »বই মেলায় মাদরাসা পড়ুয়ারা, এগিয়ে যাচ্ছে কওমী মাদরাসা - নাসরুল্লাহ বদর
বই মেলায় মাদরাসা পড়ুয়ারা, এগিয়ে যাচ্ছে কওমী মাদরাসা - নাসরুল্লাহ বদর

Sunday, 22 February, 2015 03:13  
A-
A+
বই মেলায় মাদরাসা পড়ুয়ারা, এগিয়ে যাচ্ছে কওমী মাদরাসা - নাসরুল্লাহ বদর
বাংলাদেশ টাইমঃ বর্তমান বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধের ধর্মীয় ভাবাবেগে মানুষের হ্নদয়ে যে প্রতিষ্ঠানের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়, তা হল কওমী মাদরাসা। ইসলামী আদর্শভিত্তিক প্রতিটি সাচ্চা মুসলমানের বিশুদ্ধ ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা ও জ্ঞানার্জনের প্রাণকেন্দ্র এই কওমী মাদরাসা। এ দেশের কওমী মাদরাসাগুলো দেশ ও জাতির গর্ব। কওমের [জাতির] খেদমতে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এসব কওমী মাদরাসা। জ্ঞানের ক্ষেত্রে সামগ্রিকতা অর্জন, দ্বীনের ব্যাপারে অনমনীয় উপলব্ধি, অনুভূতি, এবং মতামত ব্যক্ত করাসহ সর্বক্ষেত্রে কোন ধরনের লোভ-লালসার শিকার না হয়ে নির্ধারিত সীমারেখা যথাযথ সংরক্ষণ করা এই শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। এই চিন্তাধারাকে ধারন করেই পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান কওমী মাদরাসাগুলো। 

বর্তমান সমাজের সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে এ ধারার শিক্ষিতদের অনস্বীকার্য অবদান। দ্বীনের দাওয়াত থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, রাজনীতির মাঠে, সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে, অনুকরণীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়, ভাষা সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে, সামাজিক নানা অবক্ষয় রোধে কওমী শিক্ষিতদের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। দেশ-জাতির সংকট ও দুর্যোগ মূহুর্তে এ দেশের উলামায়ে কেরামের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। এ ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, লেখালেখি ও গবেষণা মোট কথা দেশ ও জাতিস্বত্তা বিকাশের সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে তাদের স্বরব পদচারনা।

এতদসত্বেও এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীরা অহেতুক তির্যক মন্তব্য করেই যাচ্ছেন। এসব ইসলাম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবীদের উদ্ভট সমালোচনার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হলে কওমী শিক্ষিতদের মাতৃভাষা তথা বাংলাভাষায় আরো দক্ষ ও পরিপক্ক হতে হবে। ভাষা-সাহিত্যে তাদের পদচারনা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। কওমী অঙ্গনের বহুল এই চাহিদাটি বাস্তবায়নে এক দুঃসাহসী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন বর্তমান সময়ের একজন তারুণ্যদীপ্ত সাংবাদিক মুফতি আহসান শরিফ। প্রতিষ্ঠা করেছেন মাদরাসাতুল বালাগ ঢাকা নামে একটি যুগোপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যা বর্তমান সমাজের চাহিদা পূরণ তথা স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার সমন্বয়ে সুচারুরূপে, নিরলসভাবে জাতির খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। উভয় ধারায় বারবার অর্জন করছে ঈর্ষনীয় সাফল্য। কোমলমতি শিক্ষার্থিদের মেধাবিকাশ ও নতুনত্ব আনার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সফল। কওমী মাদরাসা শিক্ষিত এ নবীন আলেম সংবাদ পত্রে কাজ করে পাঠক সমাজে ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা সাক্ষাৎকারনির্ভর কিছু কাজে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন।

আলোকিত এ লেখক বর্তমান বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর পরিচিত মুখ। যুগান্তর, আলোকিত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন পত্রিকা তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলো প্রকাশ করে থাকে। আধুনিক শিক্ষিত সমাজের দুনিয়াবী সাফল্যের পাশাপাশি আধ্যাত্বিক চাহিদা মিটাতে মুফতি আহসান শরিফ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। মাদরাসাতুল বালাগ ঢাকা তার অক্লান্ত পরিশ্রমের একটি জ্বলন্ত উপমা। অর্থ, শ্রম, সময় এমনকি জীবনের ঝুকি নিয়ে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আলোকিত মানুষ গড়ার এই কারিগর। আপন আলোয় আলোকিত করতে চাইছেন তার প্রতিটি শিষ্যকে। ছাত্রদের মেধাবিকাশের অংশ হিসেবেই গত ১৪/০২/২০১৫ মাদরাসার সকল ছাত্রদেরকে নিয়ে এসেছিলেন বাঙালির ঐতিহ্যখ্যাত বাংলা একাডেমীর বই মেলায়। দেখে কী যে দারুন লাগছে! যে কোন দর্শকেরই আকর্ষিত হওয়ার মত। প্রায় ৩৫জন ছাত্র একই রঙের ড্রেস পরে বই মেলার দিকে যাচ্ছে। দৃশ্যটা অন্যরকম।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল। এক স্টল থেকে আরেক স্টল। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। কিন্তু আগ্রহে কোন ভাটা পরছেনা। তাদেরই একজন আরমান হাবিব। বয়স ১২ কি ১৩। কথা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। কেমন লাগছে মেলা? দারুন! এককথায় অসাধারণ!! প্রতি বছর তোমরা বই মেলায় আস নাকি? জি, হাস্যজ্ব্যল মুখে স্বাভাবিক উত্তর। কেন এসেছো? বই কিনতে বই দেখতে। কী হবে বই দিয়ে? কেন? দেখুন আমাদের ব্যানার! জাতীয় কবি নজরুল বলেছেন, পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই, অন্ধকারে রই। তা বই কেনার টাকা পেয়েছো কোথায়? দৈনন্দিন নাস্তা থেকে কিছু কিছু করে সঞ্চয় করেছি। আর তা দিয়েই বই কেনা। চমৎকার উপলব্ধি! একেবারে অভিভূত হওয়ার মত!

এভাবে যদি আলেম সমাজ মাতৃভাষা চর্চার প্রতি আরো বেশি যত্নবান হয়ে উঠে, তাহলে দেশে ইসলাম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবীদের উদ্ভট সমালোচনার জবাব দেয়া সহজ হয়ে যাবে। সরবোপরি এই মহৎ উদ্যোগ কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানকে উন্নতির উচ্চশিখরে উপনীত করবে।

লেখক: নাসরুল্লাহ বদর, শিক্ষা সচিব,মাদরাসাতুল বালাগ ঢাকা (মতামত একান্তই লেখকের নিজস্ব)

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP