বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »কেজরিওয়ালকে ‘চোর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (ভারত)
কেজরিওয়ালকে ‘চোর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (ভারত)

Friday, 20 February, 2015 10:23  
A-
A+
কেজরিওয়ালকে ‘চোর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (ভারত)
বাংলাদেশ টাইমঃ ভারতের নয়াদিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপক্ষীয় লড়াই হবে, এ কথা অনেক আগেই জানা গেছে। কিন্তু গত বছর দিল্লিতে চমক দেখানো আম আদামি পার্টির (এএপি) নেতা কেজরিওয়াল ও লোকসভা নির্বাচনে ম্যাজিক ম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি- এই দুজনের মধ্যে কার ওপর আস্থা রাখছে দিল্লিবাসী? নাকি এ দুজনের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পুরোনো শাসক কংগ্রেসের ডাকে সাড়া দেবে তারা? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন গণমাধ্যমকর্মীরা ব্যতিব্যস্ত। 
 
নয়াদিল্লিতে ৭ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। হাতে সময় খুব কম। বলতে গেলে শেষ সময়ের প্রচারে জনগণের সমর্থন জোগাড় করতে খোলামেলা হয়ে উঠেছেন বিজেপি, এএপি ও কংগ্রেসের প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে কথার যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা, যারা এই নির্বাচনের প্রার্থী নন।
 
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলতে গিয়ে কখন কে যে কাকে নগ্ন করে ফেলছেন, তাও তাদের ঠিক মাথায় থাকছে না। যেমন মঙ্গলবারই কেজরিওয়ালকে ‘চোর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এ ধরনের সম্বোধন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে তা জায়েজ করে ফেললেন নির্মলা। আরো কত কী বিদঘুটে, অসঙ্গত ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে দিল্লির অন্দরে-বাহিরে, যারা এই নির্বাচনের খবর রাখছেন তাদের কাছে অজানা নয়।
 
নির্বাচনে এসব ব্যাপার-স্যাপার ঘটেই থাকে। কিন্তু কথা সেখানে নয়। কথা হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ম্যাজিক্যাল অস্তিত্ব’ নিয়ে। এ কথা বলতে এখন আর দ্বিধা নেই, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় প্রভাববলয় মোদির ম্যাজিকে হাওয়ায় মিশে গিয়ে সে জায়গা দখল করেছে বিজেপি। কিছু কিছু রাজ্য, যেখানে বিজেপি কোনোদিন সরকার গঠন করতে পারেনি, মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেসব রাজ্যে তাদের সমর্থক সংখ্যা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও হরিয়ানা উল্লেখযোগ্য। এমনকি জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনে জয় না পেলেও, সেখানে বিজেপির উত্থানই হয়েছে বলতে হয়।
 
এই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লি দখল করতে চান মোদি। কংগ্রেসকে তিনি ‘অথর্ব, সময় অপচয়কারী’ দল হিসেবে অভিহিত করে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তার ভাষায় কেজরিওয়ালের দল এএপি ‘ধরনা ধরা’ পার্টি। তাদের দিয়ে উন্নয়ন হবে না। একমাত্র বিজেপিই পারে উন্নয়ন করতে। প্রধামন্ত্রী মোদির এসব কথা একান্ত রাজনৈতিক। আমার দৃষ্টিতে তিনি দিল্লির উন্নয়নে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি জনগণকে দেননি। তার কথা শুনে মনে হয়েছে, বিজেপিকে ভোট দিলেই উন্নয়ন হয়ে যাবে, আর কেউ উন্নয়ন বোঝে না।
 
নয়াদিল্লির জনগণ কি মোদির ‘উন্নয়নবার্তা’য় কান পাতছেন, নাকি কেজরিওয়ালের দিকে কান খাড়া করে আছেন- তা বিবেচনা করা যেতে পারে। এই বিচেনায় সহায়তা করতে পারে চারটি ভোটার জরিপ। হিন্দুস্তান টাইমস, ইকোনমিক টাইমস ও এবিপি নিউজের জরিপে এগিয়ে রয়েছে এএপি। তবে আজ তাক-সিসেরো জরিপে দেখা যাচ্ছে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিজেপি। তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি। কোনো জরিপেই কংগ্রেস এগিয়ে নেই। এবিপি নিউজের জরিপ মতে, কংগ্রেস ৮টির মতো আসন পেতে পারে। আবার বিজেপি-এএপির কপাল পোড়াতেও পারে কংগ্রেস। তবে এ শুধু সম্ভাবনা। হয়তো তা বাস্তবে রূপ নেবে না।
 
এই অবস্থায় নির্বাচনের তিন দিন আগের চিত্রে মূল লড়াইটা জমে উঠেছে বিজেপি ও এএপির মধ্যে। মোদির ম্যাজিক্যাল উত্থানের পরও কেজরিওয়ালকে যে নয়াদিল্লির মানুষ ভুলে যায়নি, ওই চার জরিপে তা দেখা গেছে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজকোষ ধ্বংসের যে অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় গেলে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করবে তারা। কিন্তু তা নিয়ে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে। উপরন্তু এএপি অভিযোগ তুলেছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিজেপি। যা কিছু হয়েছে, তা কথার ফুলঝুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণাকারী গান্ধীবাদী নেতা আন্না হাজারেও তাই বলেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এবার মোদির বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন তিনি, কারণ মোদি দুর্নীতির বিচারের জন্য দেওয়া কথা ভুলে গেছেন।
 
এই অবস্থায় ম্যাজিক ম্যান মোদিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে ‘জাগরণের নেতা’ কেজরিওয়ালকে। কেজরিওয়ালই প্রমাণ করেছেন, সঠিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সমর্থন পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি সরকার গঠন করলেও পরে তা ভেঙে দেন তিনি। এরপর মনে হয়েছিল, মোদির জনপ্রিয়তার ঝড়ে কেজরিওয়াল হয়তো হারিয়ে যাবেন। কিন্তু না। এখন যুদ্ধ মোদি-কেজরিওয়ালের। এ যুদ্ধের শেষ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
 
মোদি এখন নয়াদিল্লির নেতা। রাষ্ট্রযন্ত্রেরও প্রধান নেতা তিনি। তারপরও বিধানসভা তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি থাকবে না, তা নির্ভর করছে এক ও একমাত্র কিন্তুর ওপর। সেই কিন্তুর নাম কেজরিওয়াল। 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP