বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপ চায় নাগরিক সমাজ
সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপ চায় নাগরিক সমাজ

Saturday, 14 February, 2015 11:59  
A-
A+
সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপ চায় নাগরিক সমাজ
হরতাল-অবরোধের মধ্যে চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে আলাপ-আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের পক্ষে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন, সহিংসতা বন্ধ ও আলোচনা শুরুর উদ্যোগ সমান্তরালভাবেই নিতে হবে।
সেটা কীভাবে সম্ভব, কোন পক্ষের আগে ঘোষণা দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক সিইসি বলেন, ‘কে কীভাবে কী করবেন, তা রাজনীতিকদেরই নির্ধারণ করতে দেওয়া উচিত। তবে সংবিধানের রক্ষক ও রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নেবেন বলে আমাদের আশা।’
অবশ্য নাগরিক সমাজ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে না। তাদের ডাকা হলে যাবে এবং আলোচনা শুরু হলে বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখতে তারা প্রস্তুত আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানে নাগরিক সমাজের এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ টি এম শামসুল হুদাকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। বাকি সদস্যরা হলেন এম হাফিজউদ্দিন খান, এ এস এম শাহজাহান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আকবর আলি খান, সি এম শফি সামি, রাশেদা কে চৌধূরী ও রোকিয়া আফজাল রহমান, সৈয়দ আবুল মকসুদ, শাহদীন মালিক, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, আহসান এইচ মনসুর ও বদিউল আলম মজুমদার।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ কমিটিতে আরও কয়েকজন সদস্য যুক্ত হবেন। তাঁদের সম্মতি নিয়ে পরে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কাউকে এ কমিটিতে রাখা হচ্ছে না।

এর আগে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে চিঠি পাঠিয়ে চলমান সহিংসতা বন্ধ করে সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল।

ওই চিঠি পাঠানোর পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারদলীয় নেতারা নাগরিক সমাজের কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। পরদিন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নাগরিক সমাজের সংলাপ অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। 

এর পরও নাগরিকদের এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুল হুদা বলেন, অনেক সময় রাজনীতিকেরা প্রকাশ্যে যা বলেন, সেটাই সব নয়। এ উদ্যোগ নিয়ে যে এত কথা হচ্ছে, তার মানে হলো সবাই এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। তা ছাড়া চিঠিটির সঙ্গে যে ফরোয়ার্ডিং দেওয়া হয়েছিল, অনেক ক্ষেত্রেই আলোচনা হয়েছে সেটিকে ভিত্তি করে। তার সঙ্গে যে মূল চিঠিটি ছিল, সেটির ভাষ্য বিবেচনায় নেওয়া হলে কোনো সমস্যা হতো না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সেই চিঠিটি পড়ে শোনান এবং সেটিই তাঁদের অবস্থান বলে উল্লেখ করেন।

সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও বিদেশি কূটনীতিকেরা কিছু কিছু উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। সেটার সঙ্গে নাগরিক সমাজের উদ্যোগের কোনো যোগাযোগ আছে কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সাবেক সিইসি বলেন, ‘বিদেশিরা এসে আমাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করুক, এটা সম্মানজনক নয়। নিজেদের সমস্যা সমাধানের পথ নিজেদেরই বের করতে হবে। সেই পথ হতে হবে স্থায়ী সমাধানের। রাজনৈতিক দলের বারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা-যাওয়ার পালাবদলে সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, এটা কেউই চায় না।’দেশের সব সক্রিয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। জামায়াতে ইসলামীও তার অংশ হবে কি না, জানতে চাইলে শামসুল হুদা বলেন, সেটা 

রাজনৈতিকভাবেই ঠিক হবে। প্রধান দুই দলের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এখন এসব নিয়ে ভাবার সময় নয়। এখনকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা। সে জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। আর আলোচনা শুরুর জন্য সংঘাত বন্ধ করা অনিবার্য। সংঘাত মানে অবরোধ-হরতাল, পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যার পাশাপাশি গ্রেপ্তার-নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যা।

উদ্বিগ্ন নাগরিকদের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, জানতে চাইলে শামসুল হুদা বলেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে তাঁদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, আলোচনা করবেন। মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমকে সেগুলো জানাবেন। এ কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁরা কমিটি গঠন করেছেন।গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এম হাফিজউদ্দিন খান, সি এম শফি সামি, বদিউল আলম মজুমদার, শাহদীন মালিক, আহসান এইচ মনসুর প্রমুখ।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP