বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »বাল্যবন্ধু পংকজ এর সাথে স্বপ্নের কিছুক্ষণ...
বাল্যবন্ধু পংকজ এর সাথে স্বপ্নের কিছুক্ষণ...

Monday, 30 July, 2018 12:40pm  
A-
A+
বাল্যবন্ধু পংকজ এর সাথে স্বপ্নের কিছুক্ষণ...

তারিকুল ইসলাম পলাশ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী
এইড ফাউন্ডেশন

বাস্তবে ঘটলেও আমার কাছে স্বপ্নের মতো। নিকট প্রতিবেশী সহপাঠি বাল্যবন্ধু পংকজ এর সাথে সম্ভবত প্রায় দুই যুগ পরে যোগাযোগ ও দেখা। এ আধুনিক যুগে যা একেবারেই অবিশ্বাস্য! আমরা ছেলেবেলায় একসাথে এহেন কাজ নেই যা করিনি। এক কথায় বলা যেতে পারে আমরা ছায়া সঙ্গী ছিলাম। শুধু দুইজন দুই স্কুলে পড়তাম বলে কিছু সময় আলাদা থাকা হতো। এতো ঘনিষ্ঠজনদের সাথে মাঝে মাঝে কোন কারণে এমন দূরত্ব সৃষ্টি হলে সংগোপনে নিজেকে গুটিয়ে ফেলি অভিমানের মোটা চাঁদরে...পংকজের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল।

পংকজ ছিল অসম্ভব মেধাবী, প্রচন্ড একগুয়ে, বুদ্ধিমান, পড়াশোনাতেও প্রথম, হাতের লেখা ছিল মুক্তদানার মতো। ওর শরীরে (পৈত্রিক) জমিদার আর (মাতৃকুল) কে.পি বসুর রক্ত বহমান, সঙ্গতকারণে উভয় চরিত্র তার মধ্যে বিরাজমান। কলেজ জীবন শেষে ও চলে গেল ময়মনসিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, জাপানে গবেষণা শেষ করে কানাডাতে স্থায়ী বসতি গড়েছে, সেখানে করছে গবেষণার কাজ।

২৬ জুলাই ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে দুপুরের আহার শেষে রুটিন মাফিক ১৫ মিনিট নিবিড় বিশ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিরক্তিকরভাবে বেজে উঠলো ল্যান্ডফোন। সচরাচর অসময়ে কেউ আমাকে বিরক্ত করে না। অনেকটা মেজাজ খারাপ করে ফোনটা ধরলাম-আমিরুলের কন্ঠ, ‘পংকজ এসেছে’।

আসতে বলেই ঘরে পরা পোষাকেই ছুটে চললাম বাসার গেটে। অনেকদিন পর দেখা, চিনতে ক্ষণিক সময় লাগলো, জড়িয়ে ধরলাম উভয়ে। কত মল্লযুদ্ধে (মাটেম), দস্যু বনহুর পরে সুড়ঙ্গ কাটা, খাটের নীচে-বাড়ির ছাদে বসে পড়াশোনা, ফল ও বই চুরি, কত কি! অসংখ্য স্মৃতি এসে জট বাঁধলো মুহূর্তে...

পংকজ যেহেতু কৃষিবিদ ও গবেষক ঝটপট ওর কাছ থেকে এ বিষয়ে আমার জ্ঞানের ক্ষুধা কিছুটা নিরাময় করলাম। ওর জীবনের বাহ্যিক অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মৌলিক বিষয় একই রকম আছে। বাস্তবতা, সুখের সংজ্ঞা, জীবনবোধ, সততার কষ্টের আনন্দসহ নানান কিছু নিয়ে জমজমাট আড্ডা হলো ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে গেলাম সেই সোনালী অতীতে। স্বল্প সময়ের জন্য এসেছে তাই মাপা সময়, তাও আবার লক্ষী বৌয়ের হাতে বাঁধা, মাঝে মাঝে স্বভাবসুলভ বিদ্রোহ করে আবার সুবোধ বালকের মত বৌয়ের শাসন মুগ্ধ হয়ে বরণ করে। সন্ধ্যায় নির্ধারিত এক ঘন্টার আড্ডার পরিকল্পনা করে যার যার কাজে চলে গেলাম।

কাজে মনোনিবেশ করতে পারছি না কখন বাজবে সন্ধ্যা ৬.০০টা। এবার জন্মদিনে পাওয়া অসংখ্য বইয়ের মধ্যে পড়ার জন্য চারটি বই নির্বাচন করেছিলাম, এছাড়া ঢাকা থেকে আনা ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় এডাব’ বইটি নাড়াচাড়া করতেই অনেকদিন পর আবার ছেলেবেলার নতুন বইয়ের সেই ঘ্রাণ পেলাম। ঝমঝম বৃষ্টি হচ্ছে, নদীতে পানি টইটম্বুর, কদমের সুঘ্রাণে অফিস ঘর মৌ মৌ করছে। নতুন বইয়ের সুবাসে ভেসে গেলাম সেই সোনালী অতীতে পংকজ আর আমি নতুন বই পেলে কিনা করতাম, গল্প উপন্যাস হলে কে আগে পড়বে তা নিয়ে কত কি! তার সেদা গন্ধ থাকতে থাকতে পড়া শেষ করা চাই। ক্লাসের ইংরেজি আর অংক বইতে আমি প্রথম প্রথম হাত দিতাম না আর পংকজ ছিল ঐ দুটিতেই পটু। আমি লেখা-পড়ার বিষয়ে ওর কাছে অনেক তালিম নিয়েছি। শিক্ষকরা আমাকে বাংলার অধ্যাপক বলতো, সত্য কথা বলতে কি বাংলা বইটি নতুন থাকতেই একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে ক্লাসে যা ঝালাই হতো তাই সই, তাই আমার পাঠ্যবিষয়ের বেসিক খুব দূর্বল যা আমাকে এখনও ভোগায়।

আজ কেন জানি অফিসের কাজের চাপ অনেকটা কম মনে হচ্ছে...নতুন একটি বই নিয়ে পড়া শুরু করলাম। বিকালে যথাসময়ে চলে এসেছে পংকজ সাথে তার পুত্র একদম পংকজের ছোটবেলার ফটোকপি। ক্যাম্পাসের চিত্র দেখে সবাই মুগ্ধ। চারিদিকের ভিডিও ও ছবি তোলাতে ব্যস্ত সবাই। বৌদির পছন্দের কদম ফুল পংকজ নিজ হাতে তুলে ভালোবাসার নিদর্শন ধরে রাখার জন্য ভিডিও করার তাগিদ দিলো। চিলেকোঠা হতে তুললো টাটকা কাগজী লেবু, মনে পড়ে গেলো ছেলেবেলার লেবু চুরির স্মৃতি....

সময় নির্ধারণ করে আড্ডা শুরু হলো। দুপুরের আড্ডা দীর্ঘায়িত হবার কারণে পারিবারিক অনুষ্ঠানে ওর অংশগ্রহণ হয়নি। রাতেরটাও এমন হলে মহা সমস্যা, আলোচনায় উঠে এলো অনেক কিছু কেপি বসুর বাড়িটা নিয়ে কি করা যায়, দেশের উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখা যেতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি।

গভীর কৌতূহলে আবিষ্কার করলাম ছোটোবেলা হতে গোড়া নাস্তিক হয়ে গেছে পরিপূর্ণ আস্তিক। টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে চিলেকোঠার ছাতির নীচে বৃষ্টির ছিটা এসে সকলকে সামান্য ভিজিয়ে দিচ্ছে ওটাও উপভোগ করছি সানন্দে। আড্ডা জমে উঠতেই ওর ফিরে যাওয়ার তাড়া শুরু হলো। আর নিচে ততক্ষণে বন্ধু রিন্টু সুলতান সোলেমান কোসেম একসাথে দেখার জন্য হাজির। এখন হতে নিয়মিত যোগাযোগের আকাক্সক্ষা নিয়ে ভঙ্গ দিতে হলো ক্ষণিকের সঙ্গ.....


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP