বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ নিয়ে ভাবনা-
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ নিয়ে ভাবনা-

Sunday, 24 June, 2018 07:36pm  
A-
A+
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ নিয়ে ভাবনা-

তারিকুল ইসলাম পলাশ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, এইড ফাউন্ডেশন

যুক্তিসঙ্গত কারণে ফেসবুকে লেখা-লেখি করতে ইচ্ছা হয়না তবু একান্ত প্রয়োজনে অবসরে সুযোগ পেলেই ঢু মারি কিন্তু বিরক্তিকর পোস্ট এড়ানোর সুযোগ নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য জীবন্ত কিংবদন্তীদের মৃত্যুর গুজব ফেসবুকে ভাইরাল হলে তাকেই বিবৃতি দিতে হয় ‘আমি বেঁচে আছি’ তাই খবরের সনাতনী পদ্ধতির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল প্রসঙ্গে আসি-

সেই কিশোরকালে আমার নেতৃত্বে ‘সূর্যসেনা ক্লাব’ গঠিত হয়েছিল। ক্রিকেট তখনো আমাদের দেশে এতটা জনপ্রিয় হয়নি, ফুটবলের উন্মাদনা ছিল সর্বত্র। জুনিয়র হিসেবে ঝিনেদাতে তখন আমাদের উল্লেখযোগ্য একটি ফুটবল টিম ছিল। আমি তেমন ভালো খেলতে না পারলেও মাঝে মধ্যে মাঠে নামলে স্বাভাবিকভাবে অধিনায়ক হতাম। প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি খেলাতে সহজ গোল মিস হলে ইচ্ছা করে পরবর্তী ম্যাচ গুলোতে আমি খেলিনি, এটা ছিল আবেগ। তবে কোচের দায়িত্ব পালন করে সফল হয়েছিলাম।

সেই ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার খেলার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে ‘আর্জেন্টিনা’র সমর্থক হয়েছিলাম। সমর্থন পরিবর্তনের তেমন কোনো কারণ সৃষ্টি হয়নি বলে তা অব্যাহত আছে; হয়তো বাকি জীবনেও থাকবে ! কারণ এটা আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য কোনো বিষয় বলে কোনোদিন মনেই হয়নি। তবে মজার বিষয় আমাদের পরিবারে ব্রাজিলের সাপোর্টারই বেশি। হ্যাঁ আমরা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পছন্দের দলের জার্সি গায়ে দিতাম, পতাকা তুলতাম, উন্মাদনা ছিল, তর্ক-বিতর্কও ছিল কিন্তু বর্তমানে যা হচ্ছে তা কল্পনাও করিনি; একি অসভ্যতা! নির্ভেজাল বিনোদনকে শালীনতা, ভদ্রতা ও সভ্যতার গন্ডি অতিক্রম করে নির্মল আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হচ্ছে। যাকে আদর করে ভিন গ্রহের মানুষ বলা হয় তার ছবি এডিট করে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে যা অপরাধ, অন্য পক্ষও তা অনুকরণ করছে।

আমরা যদি ম্যারাডোনার ভাষ্য দেখি তিনি খেলা শুরু হবার পূর্বে তার প্রিয় দলের দূর্বলতা ও গ্রুপের অন্য দেশের সবলতা চিহ্নিত করে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার পার হবার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাই বলে কি তিনি তার দল থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন! বরং মাঠে থেকে উৎসাহ দিয়েছেন আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা ঘটে; আর্জেন্টিনা যেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। তার মত ঠোট কাঁটা মানুষ খেলোয়াড়দের কোনো দোষারোপ করেননি, সমালোচনা করেছেন নীতি নির্ধারণীর, কোচও খেলা শেষে দুঃখ ও ক্ষমা চেয়েছেন। বিপক্ষের টিম আর্জেন্টিনার ৩-৪-৩ সেটে খেলার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। এটি ভদ্রলোকদের খেলা মনঃকষ্ট থাকলেও বিজয়ী দলকে পরাজিত দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দনজানাতে হয়, হাতে হাত মেলাতে হয়। আর আমরা ফুটবল ভক্ত ও অনুরাগী হয়ে বোদ্ধার মত বিশেষ অজ্ঞের ন্যায় যা খুশি তাই বলে ও লিখে চলেছি অবিরাম; যা লজ্জা ও দুঃখজনক।

হ্যাঁ গত দিন আর্জেন্টিনার নিষ্প্রাণ জঘন্য খেলা ও পরাজয় মনকে ব্যথিত করেছে, খেলা দেখার প্রতি সেই তীব্র আকাক্সক্ষাই যেন মরে গেছে। তবু কখন যেন মনের অজান্তে ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করতে টিভির সামনে বসে মনোমুগ্ধ শ্বাসরুদ্ধকর সময় অতিবাহিত হলো। ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা দেখে সত্যই মুগ্ধ হলাম। নাইজেরিয়ার জয় নানা সমীকরণের মতো আশার আলো জাগিয়ে তোলে। রোনালদোর মতো বা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের মত মেসি জ্বলে উঠে শেষ ষোলতে উঠলেও এ টিম নিয়ে কি স্বপ্ন পূরণ সম্ভব? বুঝি না এত নাটকীয়তার পরও কাপ কেন নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে!

স্বপ্ন দেখি রাশিয়ার মতো চমক! নিশ্চয় একদিন উপহার দেবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ, বেঁচে থাকলে তখন স্বাভাবিকভাবে সমর্থন পরিবর্তন হবে। লাল সবুজের পতাকায় ছেঁয়ে যাবে পুরো বিশ্ব তখনো কি আমরা কেউ এমন করবো বা বলবো আমাদের দেশ ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের নিয়ে? ক্রিকেটে সে অবস্থানে থেকে একই কাজ করছি আমরা অনেকে। আমরা শুধু নিজেদের দোষারোপ করছি কেন? পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে দেখেছি একজন খেলোয়াড়কে পূঁজা করতে পরক্ষণে আবার তারই কুশপুত্তলিকা দাহ করতে বা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতে। কোনোটিই শুভ লক্ষণ নয়, যা পরিত্যাগ করা উচিত।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP