বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »সুখ উপলব্ধি আর দুঃখ সঙ্গী
সুখ উপলব্ধি আর দুঃখ সঙ্গী

Monday, 9 April, 2018 02:21pm  
A-
A+
সুখ উপলব্ধি আর দুঃখ সঙ্গী
ফাহমিদা  : প্রতিদিন কত ঘটনা দেখি-শুনি, নিজেদের জীবনের পরতে-পরতে নানান পরিস্থিতিকে আমাদের সামাল দিতে হয়, একবারও কি ভাবি এত সামাল কেন দিতে হয়? কেন শান্ত নদীর মতো বয়ে যায় না? উত্তর প্রতিদিন খুঁজি, কখনও পাই কখনও পাই না, কখনও ছেড়ে দেই নিজেকে চলন্ত গতির আবেগের কাছে। যেখানে দুঃখ বা নিত্যদিনের জীবনধারণ দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে সেখানে সুখটাকে সামনের একটা আয়না না করে কেউ কি সমাধানের কোনও পথ কখনও খুঁজে পায়? অনেক প্রশ্ন! 
ক্লান্ত একজন পথিককে দেখলাম, খুব বিরক্তি নিয়ে এক আনারস বিক্রেতার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছেন, দেখলাম কিছুক্ষণ পর আনারস খাচ্ছেন আর হাসছেন। হয়তো সেই মুহূর্তে ব্যস্ত জীবনের সুখ-দুঃখের দোলাচলে খাওয়ার মধ্যে দিয়ে সুখের উপলব্ধিতে কিছু সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। এভাবেই আমাদের নিত্যদিন চলে কিছু একটার আশায়। মানুষ আগের মতো নেই। সাধারণ ভাবনার সরলতা নেই, আছে যেকোনোভাবে হোক, সমাধানের পথপরিক্রমানির্ভর জীবন এখন।
কিন্তু তুমি তো মানুষ, তুমিই তো ভীষণভাবেই কাল্পনিক মনোবৃত্তির হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
কল্পনা ছাড়া তার বেঁচে থাকা কঠিন, তাকে চলতে, বলতে, হাঁটতে সবসময় কাল্পনিক একটা ধারণাকে নিয়েই আগাতেই হয়, যেখানে চাওয়ার জায়গাগুলো, সে সাজাতে পারে, ভাঙতে পারে, জোড়া লাগাতে পারে, কিন্তু কল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তাকে একইসঙ্গে বাস্তবতাকেও গ্রহণ করার মানসিক শক্তি অর্জন করতে হবেই।

ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে, নইলে হোঁচট খেতে খেতে নিজেকে আর দাঁড় করানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একসময় মনে হতে পারে, তবে কি আমি আজ অসহায়? না, তুমি অসহায় হবে কেন? তোমার সম্মান বজায় রাখা তোমারই দায়িত্ব।
এমনভাবে কথা বলো, যেন কোনও তিক্ততা তোমাকে দূরের না করে দেয়।
খুব বাস্তব সত্য মেনে নাও, কাউকে দূরের হতে দিও না! সেটা যেকোনও বয়সের জন্যই প্রযোজ্য।
কী বড়, কী ছোট, সবাইকেই সমঝোতার সহজটাকে কাছের করতেই হবে।
কে চায় তিক্ততা? কে চায় প্রতিমুহূর্তের অবসন্নতা? কে চায় অকারণ কলহ? কেউ চায় না, তাহলে হয়ে যায় কেন?
ওই যে ভাবনার দেয়াল, সে দেয়ালের ধার ঘেঁষেই রয়েছে পাহাড়ের মতো উঁচু এক চেনা, আবার অজানা এক বাস্তবতা; যা মিলতে নাও পারে কল্পনার সঙ্গে, তার সঙ্গে সমঝোতা ভীষণ জরুরি। তাই প্রয়োজন ব্যস্ত থাকা নিজের সঙ্গে নিজের, নিজেকে প্রয়োজনীয় করে রাখা। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা একটা বোকামি। প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্বতা নিয়েই এই পৃথিবীতে এসেছে, কখনও সচল ছিলাম আজ অচল ভাবাটা অবান্তর, এই কল্পনা নিছক একটা অবাস্তব ভাবনা, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, এটা সত্যি একটা সময় মানুষের পথ পরিক্রমা বদলে যায়, প্রত্যেক মানুষ একা হয়ে যায়, এই একাকিত্বকে জয় করে সবার সঙ্গে মিলে থাকার নামই জীবন!
বোঝাপড়া করে নাও এই সত্য কাল্পনিক বাস্তবতার সঙ্গে, তবেই না অভিযোগগুলোর ছুটি হবে।

প্রাণ খুলে হাসতে পারবে!
ভাবতে চেষ্টা করো তুমি হাসলে জগৎ হাসে। আর সুখের যে উপলব্ধি, তাকে আরও বেশি করে আপন করে দুঃখকে জয় করো, দেখবে অনেক প্রশ্ন আর জীবনের নিত্যদিনকে বিরক্ত করতে পারছে না কেউ। দেখবে মন খারাপের অবসর নেই, সবটাই চর্চা।

লেখক: সংগীতশিল্পী


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP