বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »উন্নয়নশীল দেশের পথে জন্মভূমি বাংলাদেশ.....
উন্নয়নশীল দেশের পথে জন্মভূমি বাংলাদেশ.....

Tuesday, 27 March, 2018 05:10pm  
A-
A+
উন্নয়নশীল দেশের পথে জন্মভূমি বাংলাদেশ.....

তারিকুল ইসলাম পলাশ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী
এইড ফাউন্ডেশন

উন্নয়নশীল দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে স্বদেশ, কেন জানি মানুষ নগদে বিশ্বাসী হয়ে গেছে। গেছেই বা বলছি কেন! আমাদের পূর্বসূরীরাও যে গাছ-পালা তাদের কাজে লাগাতো না, তাকে আগাছা বলতো। আধুনিক বিজ্ঞান মতে, আগাছা বলে কিছু নেই। সকল বৃক্ষেরই কোনো না কোনো গুণ আছে। প্রচলিত কথা আছে ‘যার কোনো গুণ নেই; তার নাম বেগুন’ আসলে কি তাই? মূর্খের মতো আমড়া কাঠ দিয়ে ঢেঁকি বানিয়ে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতায় ‘আমড়া গাছের ঢেঁকি’ বলে ব্যঙ্গ করছি অতি গুণ সমৃদ্ধ একটি ফলজ বৃক্ষকে।

ইউরেনিয়াম অতি মহামূল্যবান ধাতু। একজন সাধারণ মানুষের কাছে তা মূল্যহীন, ছাইয়ের সাথেও তুলনীয় নয় কিন্তু এর সুফল বা কুফল দু’টিই মেলে তাদের ভাগ্যে, আমার মনে হয় দেশের উন্নয়ন সূচক পরিবর্তনের বিষয়টি ঠিক তেমনই। চিরন্তন সত্য, মৃত্যু অনিবার্য তা প্রতিরোধের উপায় এখনো অনাবিষ্কৃত, তাই সকল প্রাণির আয়ুসীমা নির্দিষ্ট। সেই মহামূল্যবান সময় অবলীলায় অপচয় করে আমরা কি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছি না! অতি আগ্রহে অধিকাংশ সময় ব্যয় করছি অন্যের দোষ-গুণ বিচার করে। কেউ ভালো থাকলে, ভালো কিছু করলে চোখ টাটায়, হিংসা হয়, হায়-হুতাশে রাতের আরামের ঘুম হয় হারাম।

আমরা উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে যাচ্ছি। প্রকৃত অর্থে উন্নত দেশের প্রধান সূচকের মানদন্ড হওয়া উচিত একটি ভূখন্ডে সাধারণ মানুষ কতটা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হয়ে সুখি ও সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ একদিন উন্নত রাষ্ট্র হলে তখন হয়তো আমাদের মতো সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষের বসবাসের উপযোগী হবে দেশটি কিন্তু মজার বিষয় তা হয়তো আমাদের দেখার সুযোগ হবে না। তাই বলে কি নিজের বিবেক বিসর্জন দিয়ে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেব? কয়জন মানুষ জীবদ্দশায় স্বীকৃতি পেয়েছে বরং উল্টোটা হয়েছে বেশি, তারপরও তাদের অগ্রযাত্রা কেউ রোধ করতে পারেনি। সকল মাকে সন্তান জন্মের সময় মৃত্যুর মুখোমুখী হতে হয়। নারীরা ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে খুশি মনে তা বরণ করছে অবলীলায় তাইতো এখনো টিকে আছে মানব প্রজাতি এ ধরণীতে।

সেই অধিকাংশ নারীরা গৃহস্থলী কাজে ব্যস্ত থাকেন কিন্তু তাঁর নেই কোনো অর্থনৈতিক ভেল্যু। কিছু সংখ্যক এ গণ্ডি ছেড়ে বের হলেও অধিকাংশরাই পরিবার ও দেশের অর্থ অপচয় করে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এসে স্বামী ও সংসারের সেবাদাসী হয়ে গৃহস্থলী কাজে লেগে পড়ে আদাজল খেয়ে। তা হলে দেশের সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে কি করে?

দেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক ঘরে বন্দী থাকে, বাদবাকির অধিকাংশের একহাত ব্যস্ত থাকে নিজেকে রক্ষা করতে, অন্য হাত থাকে অমূলক কাজে। তাইতো এদেশে তৃতীয় হাত হিসেবে অজুহাত বহুল ব্যবহৃত। আর মুখটি ব্যস্ত থাকে পক্ষে-বিপক্ষে পথে, ঘাটে, মাঠে, কাজে-অকাজে সর্বত্র যুক্তি তর্ক করে। আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষভাবে অজ্ঞ হয়ে উঠি। চমৎকার! তাইতো হিংসা-বিদ্বেষ রাগের নীল বিষ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র, বুঝি না এগুলি মনের মধ্যে উদ্ভব হলে তো নিজের মনযন্ত্রণা বাড়ে, অন্যের কোনো লাভ-ক্ষতি হয় বলে মনে হয় না। তবে তা কেন করে চলছি অবলীলায়!

বাস্তব অবস্থা ব্যাংকসমূহের তারল্য সংকটের ফলে হুহু করে বাড়ছে ডলারের দাম ও সুদের হার। কয়েকদিন পর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ফলে অধিকাংশ মানুষের তা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। হঠাৎ করে অতি নিয়ম-কানুনের জালে আবদ্ধ হয়ে বিপুল পরিমান ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে হিমসিম খাচ্ছে মানুষ। নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বকেয়া কর এককালীন পরিশোধের চাপে। উন্নত দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণ কর প্রদান করে কারণ মৌলিক চাহিদাগুলি রাষ্ট্র নিশ্চিত করে, নিম্নমধ্যম আয়ের একজন নাগরিকের যে সুবিধা পাওয়ার কথা তার কতটুকু সেবা আমরা পাচ্ছি?

একজন সমাজকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক হিসেবে একান্ত ব্যক্তিগত ভাবনা: দেশের উন্নয়ন সূচক পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু কাজ নিষ্প্রোয়জন হয়ে পড়বে ফলে যে সকল উন্নয়ন সংস্থা গতানুগতিক কাজের সাথে যুক্ত তারা পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে না পারলে অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে কারণ চলমান অধিকাংশ দাতা সংস্থাগুলি তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে অথবা সেবার পরিধি পরিবর্তন করবে। সেবাকাজের দানের অর্থের উপর নানা ধরনের কর আরোপের ফলে দাতারাও নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অস্তিত্ব রক্ষার্থে অনেক সংস্থাকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে হচ্ছে। ফলে উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আলাদা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থাসমূহ এক সংকটময় সময় অতিবাহিত করছে। তারল্য সংকটের ফলে ঋণ প্রবাহ স্থবির হয়ে এক জটিল সমীকরণে পড়েছে সংস্থাসমূহ..... জানিনা এর পরিসমাপ্তি কোথায়? গন্তব্য অনিশ্চিত জেনেই পথ চলতে হয়। যেখানে মহাজগতের গোলক ধাঁধাঁর মধ্যে পৃথিবী ধূলিকণার ন্যায়, মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নিজ কক্ষপথে শূন্যে ঘুরছে। পৃথিবীর জন্ম রহস্যের মত প্রতিনিয়ত মহাজগতে কত শত গ্রহের জন্ম হচ্ছে আবার হারিয়েও যাচ্ছে, সেখানে মানুষ হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব কতটুকু?


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP