বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »শক্তির দেবী মা’কালীর পাদদেশে জুয়ার আড্ডা....
শক্তির দেবী মা’কালীর পাদদেশে জুয়ার আড্ডা....

Sunday, 18 March, 2018 09:35pm  
A-
A+
শক্তির দেবী মা’কালীর পাদদেশে জুয়ার আড্ডা....







সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (চতুর্থ পর্ব):
তারিকুল ইসলাম পলাশ

ধর্মের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে একান্ত বাধ্য না হলে মন্তব্য এড়িয়ে চলি, কারণ বাম প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার সময় দেখেছি একটি দর্শনকে নাস্তিক উপাধি দিয়ে তাৎক্ষণিক কুপোকাৎ করার প্রবণতা। যেহেতু ধর্মীয় লেবাস নেই তাই এ বিষয়ে কথা বলা অমূলক।

সামাজিক জীব হিসেবে ধর্মীয় অনুশাসন, কৃষ্টি-কালচার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সঙ্গত কারণে জ্ঞান অর্জন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রার্থনা এবং প্রচলিত ধর্মের মৌলিক গ্রন্থসমূহ সুযোগ পেলে অধ্যয়ন করি।

কোনো ধর্মীয় গ্রন্থে অসামাজিক কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, কিন্তু আফসোস আমরা তা অবলীলায় করে চলছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কল্যাণকর এমনকি ধর্মীয় কাজে অর্থের জন্য অসামাজিক কার্যক্রম থেকে উপার্জিত অর্থ গ্রহণ করতেও কুণ্ঠিত হচ্ছি না। টাকার প্রয়োজনে তা সাদা কি কালো, বৈধ না অবৈধ তা মান-বিচার নেই; এ কেমন ধর্মপালন ?

আমি নিজেই প্রতারিত হয়েছি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে সহায়তার মানসে নির্ভেজাল বিনোদনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা দেখতে যেয়ে অশ্লীলতায় মুখ লুকানো দায় হয়ে পড়েছিল।

সমাজে নানা ধরনের জনসমষ্টি থাকবে, তাদের চাহিদা মেটানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তাইতো সকল দেশের সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ন্ত্রিতভাবে সকল চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা থাকে কিন্তু এ কেমন অনাচার। সাধারণ জনসমষ্টির মধ্যে উন্মুক্ত অসামাজিক কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতা সমাজকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের আবাসস্থল কৃঞ্চনগর পাড়ার সন্নিকটে, কর্মক্ষেত্র ষাটবাড়িয়া সংলগ্ন। স্বাভাবিকভাবে ঋষি সম্প্রদায়ের জীবনাচরণ, কৃষ্টি-কালচার ও উৎসবের সাথে পরিচিত। অফিস পূঁজা মন্দির সংলগ্ন গঙ্গাতলা হওয়াতে বারো মাসে তেরো পার্বন উৎসব এখানে চলতে দেখি। এগুলো আমি ব্যক্তিগতভাবে অনতিদূর হতে উপভোগ করি। এদের অসংখ্য গুণের সাথে কিছু সমস্যা যেমন- অপ্রয়োজনে জটলা, হট্টগোল, উন্মুক্ত পায়খানা ও স্নান ব্যবস্থা, পূঁজা পার্বন ও উৎসবে অনিয়ন্ত্রিত শব্দযন্ত্রের ব্যবহার, রাস্তার উপর দোকান বসানো, গরমকালে গাছের ছায়ায় রাস্তার উপর খালী গায়ে শুয়ে-বসে থাকা, কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, শিক্ষার প্রতি অনীহা অনেক চেষ্টা করেও এগুলোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়নি, তাই এগুলো সব গা সহা হয়ে গেছে।

কিন্তু চিরা-চরিত প্রথা ভেঙ্গে এবার বড় (১৪ হাত) কালী পুঁজোতে যা হচ্ছে তা দেখে বিষ্মিত ও হতভম্ভ। শক্তি দেবীর পাদদেশে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের জুয়ার আড্ডাসহ উন্মুক্ত অসামাজিক কর্মকান্ড, যেখানে সর্ব বয়স ও স্তরের মানুষ অবাধে যাতায়াত করছে। সামনে পূঁজা অর্চনা, পিছনে রমরমা জুয়ার আড্ডা সমাজটা যাচ্ছে কোথায়?


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP