বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »দ্য ডেইলি স্টার সাংবাদিকতার নীতিমালার মান ভেঙে পেশাগত অসদাচরণ করেছে: প্রেস কাউন্সিল
দ্য ডেইলি স্টার সাংবাদিকতার নীতিমালার মান ভেঙে পেশাগত অসদাচরণ করেছে: প্রেস কাউন্সিল

Thursday, 8 March, 2018 10:06am  
A-
A+
দ্য ডেইলি স্টার সাংবাদিকতার নীতিমালার মান ভেঙে পেশাগত অসদাচরণ করেছে: প্রেস কাউন্সিল
বাংলাদেশ টাইম : ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সাংবাদিকতার নীতিমালার মান ভেঙেছে এবং পেশাগত অসদাচরণ করেছে বলে রায়  এসেছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের কাছ থেকে।

এজন্য পত্রিকাটির একজন প্রতিবেদককে ভর্ৎসনার পাশাপাশি সতর্ক করে দিয়ে ভবিষ্যতে এমন সংবাদ প্রকাশের আগে ডেইলি স্টারের সম্পাদক আরও সাবধানতা অবলম্বন করবেন বলে প্রত্যাশা করেছে এই বিচারিক কমিটি।

পত্রিকাটির নয়টি সংবাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার (জনসংযোগ) প্রশান্ত কুমার মজুমদারের এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেস কাউন্সিলের এই রায় আসে।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য রিয়াজ উদ্দিন ও স্বপন দাস গুপ্ত গত বছরের ১৯ অক্টোবর, ৭ নভেম্বর এবং ২৯ নভেম্বর শুনানি নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার রায় দেন।

এই রায়ের একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ টাইম ডটকম। রায় পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ডেইলি স্টারকে তা হুবহু তাদের পত্রিকায় ছাপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিয়াদির আর্জি, প্রতিপক্ষের জবাব, ফরিয়াদির প্রতিউত্তর এবং যুক্তিতর্কগুলো বিস্তারিতভাবে রায়ে তুলে ধরে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত দিয়েছে প্রেস কাউন্সিল।

ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য
রায়ে বলা হয়েছে, “ফরিয়াদির অভিযোগ, প্রতিপক্ষের জবাব, প্রতিউত্তর এবং পক্ষগণের দাখিলী কাগজপত্র এবং তাদের বক্তব্য বিবেচনা করে বিজ্ঞ সদস্যদের সাথে একমত হয়ে বিচারিক কমিটি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, প্রতিপক্ষের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ভিত্তিহীন সংবাদ প্রতিবেদন দাখিল করে এবং দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিলের সংবাদের (BSMMU Nurse Recruitment proof not found against anomalies or assault by VC) শেষ অংশ পরিবেশন করে সাংবাদিকতার নীতিমালা মান ভঙ্গ করেছেন এবং জনগণের রুচির বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন, যা পেশাগত অসদাচরণ ব্যতিত অন্য কিছু নয়।

“তাই প্রতিপক্ষের স্টাফ করেসপন্ডেন্টের তদ্রুপ গর্হিত আচরণের জন্য ভর্ৎসনা করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেওয়া হল। প্রতিপক্ষ দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ভবিষ্যতে তদ্রুপ সংবাদ বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের পূর্বে অধিকতর সাবধানতা অবলম্বন করবেন বলে এই বিচারিক কমিটি প্রত্যাশা করে।”

রায়ে বলা হয়েছে, “ডা. জাকারিয়া (বিএসএমএমইউর সদ্যপ্রয়াত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া স্বপন) সাহেবের মন্তব্য গ্রহণ করে প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফল ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন। এই সংবাদ প্রচারের ফলে নিশ্চিতভাবে উপাচার্যের ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যাহত করা হয়েছে এবং এতে উপাচার্যের সামাজিক মর্যাদা, সুনাম এবং খ্যাতি ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

“ডা. জাকারিয়ার বক্তব্য থেকে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট কর্তৃক অনুসন্ধান কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন তিনি মানেন না। এহেন আচরণের জন্য তার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একটি দায়িত্বশীল পদে থাকার নৈতিক অধিকার তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।”

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়ার পরেও অনৈতিকভাবে ডা. জাকারিয়ার মন্তব্য নিয়ে মূল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন বলে বিচারিক কমিটির কাছে মনে হয়েছে।

“প্রতিপক্ষ সম্পাদক দেশের একজন খ্যাতিমান সম্পাদক। সংবাদের এই অংশটুকুর প্রতি তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে বলে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয়েছে। এ ব্যাপারে সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারা এহেন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।”

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের ‘সরবরাহ করা’ খবর যাচাই ছাড়া প্রকাশ করেছিলেন মাহফুজ আনাম, তা ভুল ছিল বলে পরে স্বীকার করেন তিনি।

ওই স্বীকারোক্তির পর বিভিন্ন মামলায় মাহফুজ আনামকে আদালতে যেতে হয়েছিল জামিন নিতে।

রায়ে বলা হয়েছে, “প্রতিপক্ষ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক আচরণবিধি অনুসারে প্রতিবাদপত্র ছাপায়নি তাই তাদের এরূপ আচরণ সাংবাদিকতার রীতিনীতির পরিপন্থি। প্রতিবাদপত্র গ্রহণ করার পর প্রতিপক্ষের পুনঃযাচাই করার কোনো সুযোগ নেই, তাও করা হয়েছে কাউন্সিলের নোটিস প্রাপ্তির পর। এটা কোনো অবস্থাতেই বিচারিক কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”

ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে মামলা বিদ্বেষ প্রসূত বলে প্রতিপক্ষের আইনজীবীর দাবি সঠিক নয় উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, “কারণ ফরিয়াদি কোন কোন পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করবেন এটা তার নিজস্ব ব্যাপার, এ ব্যাপারে কাউন্সিল কমিটি কোনো মন্তব্য করতে পারেন না।

“সামগ্রিক বিবেচনায় দেখা গেছে প্রতিপক্ষের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশন করে প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত অনুসরণীয় আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।”

এই রায় পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশ করে সেদিনের পত্রিকার একটি কপি প্রেস কাউন্সিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রেস কাউন্সিল।

প্রেস কাউন্সিল বলেছে, “ফরিয়াদি ইচ্ছা করলে যে কোনো পত্রিকায় তার নিজ খরচে রায়টি হুবহু ছাপাতে পারবেন, সেক্ষেত্রে একটি অনুলিপি কাউন্সিলে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।”

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ গত ১৮ জানুয়ারি রায় লেখেন। প্রেস কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং আরেক সদস্য স্বপন দাশ গুপ্ত গত ১৮ জানুয়ারি ওই রায়ে একমত পোষণ করে সই করেন।

রায়টি পাওয়ার কথা স্বীকার করে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বুধবার রাতে বলেন, “যেহেতু ১৫ দিন সময় আছে, তাই আমরা উকিলের পরামর্শ নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজির মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, “এই ঘটনা (তাকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ) আমাকে সামাজিকভাবে খুবই হেয় করেছে, এই রায়ের মাধ্যমে তা কিছুটা হলেও লাঘব হল।

“রায়ে আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট, ব্যথাটা আমার আছে। এটা (রায়) আমার জন্য কিছুটা বেদনা লাঘব। আমি একটা সার্টিফিকেটের মতো পেলাম।”

প্রেস কাউন্সিল থেকে পক্ষে রায় পাওয়ার পর ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান অধ্যাপক কামরুল হাসান।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP