বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (তৃতীয় পর্ব)
সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (তৃতীয় পর্ব)

Thursday, 8 February, 2018 04:39pm  
A-
A+
সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (তৃতীয় পর্ব)

সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (তৃতীয় পর্ব)
তারিকুল ইসলাম পলাশ

‘সমাজটা যাচ্ছে কোথায়’ এর প্রথম পর্বে অনেকে পরবর্তী প্রজন্মকে ঢালাওভাবে দায়ী করে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা, শঙ্কা, হতাশা ব্যক্ত করেন। পরবর্তী প্রজন্মের একজন অভিযোগের সুরে বলেছে, ‘সমাজের গুটিকয়েক শিশুদের কর্মকান্ড দেখে এভাবে উপস্থাপন করা কতটা যুক্তিযুক্ত? আমি বলেছিলাম, ‘সমাজকর্মী হিসেবে সমাজের কোনো বিষয় মনকে নাড়া দিলে তা লিখুনির মাধ্যমে প্রকাশ করি, কাউকে হেয় করা উদ্দেশ্যে নয়।’

আমি ইতিবাচক একজন মানুষ তাই সহজে কাউকে আঘাত দিতে চাইনা; আর কাঁদা মাটির মত শিশুদের তো নয়ই। তোমাদের দোষ দেব কেন? অভিভাবক হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত আগুনের ন্যায় টাকা (অর্থ) বিছানার নিচে অলস ফেলে রাখলে কৌতুহল ভরপুর শিশুরা তার যথাযথ ব্যবহার না জেনেই অপ্রয়োজনীয় অর্থের যদি মালিক বনে যায় স্বাভাবিকভাবে তার কাছে নানাছলে মধু আহরণে ছুটে আসবে বিভিন্ন জাতের-বর্ণের মৌমাছি বা কীট-পতঙ্গ। ফলশ্রুতিতে ফুলের মত মেধাবী একটি নাম হয়তোবা সুগন্ধ না ছড়িয়ে দূর্গন্ধ ছড়াবে ‘ঐশী’র মত; দোষটি কার? 

সর্বজন স্বীকৃত; বয়স কমানোর হিড়িকে প্রকৃত জন্ম তারিখ হারিয়েছে অবলীলায়, এখনও চলছে সে ধারা। বুদ্ধি হবার পূর্বেই নিজের শিশুদের বয়স চুরির ফাঁদে ফেলে তাকেই সততার শিক্ষা দিচ্ছি, যা সত্যিই হাস্যকর!

অনেক সময় শিশুদের ইচ্ছা অনিচ্ছার গুরুত্ব না দিয়ে আমাদের শীর্ষ চৌকশ মেধাবী সন্তানদের পাঠিয়ে দিচ্ছি সামরিক কর্মকর্তা বানানোর কারখানায় কিন্তু যে শিশু বা তার পরিবার অন্য পেশাজীবী হবার স্বপ্ন দেখে তাদের বিকল্প চিন্তা করা উচিত। আমার মনে হয় স্কুল হিসেবে ওটি কিছুটা সচল হলেও কলেজ হিসেবে অচল অথচ আমরা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌঁড়াচ্ছি তার পিছে। প্রমাণিত সত্য অধিকাংশ শিশু কাদা মাটির ন্যায়, তাকে যেভাবে খুশি সে ভাবে গড়া যায়। গড়ায় ত্রুটি নিয়ে পুড়ে নিরেট হলে পরে তা সংশোধন করা আসলেই দুরূহ।

০৩ (তিন) বছর এর মধ্যে একজন শিশুর মস্তিস্কের কোষ-কলার বিকাশ ঘটে ৭৫ ভাগ। তাই স্বাভাবিক ভাবে তখন সে আশেপাশের যা দেখে তাই দিয়েই তার ফাঁকা হার্ডডিক্স (মস্তিস্ক) পূরণ করে। পর্যায়ক্রমে অনুকরণ করে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সহপাঠি, বন্ধু ও তাদের পরিজন; এভাবেই তার গন্ডিটা বিকশিত হয়ে একটি কাঠামোতে দাঁড়ায়। ০৬ তলার ভিত্তির উপর ০৪ তলা বানানো যায় কিন্তু ০৪ তলা ভিত্তির উপরে ০৬ তলা চাপালে তার ধ্বংসের অনিবার্যতায় একদিন নিজের পরিবারসহ অনেক নিকটজনের জীবন ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এটি নিশ্চিত জেনেও অবলীলায় তাই করে যাচ্ছি। নিজের প্রাণ প্রিয় শিশুদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না, ধ্বংস করছি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। এ দায় কার? পরিত্রাণের উপায়ই বা কি?


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP