বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (পর্ব-২)
সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (পর্ব-২)

Monday, 5 February, 2018 12:23pm  
A-
A+
সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (পর্ব-২)

সমাজটা যাচ্ছে কোথায় (পর্ব-২)
তারিকুল ইসলাম পলাশ


এক সময় মানুষ ইতিবাচক চিন্তা ও কাজ করতে অভ্যস্ত ছিল। গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা ছিল, ছাপা কাগজের প্রতি বিশ্বাস ছিল সঙ্গতকারণে ঢাহা মিথ্যা সবাই এড়িয়ে চলতো। সমাজে অনেকগুলি আস্থার জায়গা ছিল। আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ‘বানরের হাতে খোন্তা দেবার’ মতো অবস্থা হয়েছে। ফুলের মতো শিশুর দূর্ঘটনায় বিকৃত ছবি বা অসহায় ধর্ষিতাকে উপস্থাপন করছি, যা ইচ্ছে তাই পটাপট পোস্ট করছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমনকি বিখ্যাত ও প্রিয় ব্যক্তিত্বদের ভূয়া মৃত্যু খবরও ভয়াল রূপে ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তে। বিশ্বাস হারাতে বসেছে তখন হতে যখন পাঠ্য বইয়ের একই সাথে সমাজবিজ্ঞানে পড়েছি ‘জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস’, বিজ্ঞানে ‘সূর্যই সকল শক্তির উৎস’, ধর্মে ‘সর্বশক্তিমান ঈশ্বর’। তেমনিভাবে শিশু মনে “হাট টিমাটিম টিম তারা মাঠে পাড়ে ডিম, তাদের খাড়া দু’টি শিং....” ছড়া পড়ে অস্তিত্বহীন একটি প্রাণিকে অনর্থক খুঁজে ফিরেছি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে মনে আওড়াতাম “সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি.......”এখন কোনটি ভালো কোনটি মন্দ তা বোঝা ভার, ভালো-মন্দ সার্বজনীনতা হারিয়েছে অনেকাংশে। এক একজনের কাছে ভালো-মন্দের রূপ এক এক রকম। পাত্র-পাত্রীর প্রধান যোগ্যতা কত টাকার মালিক তারা, হোক তা সাদা বা কালো তাতে কিছু যায় আসে না। আজব কারবার! আধুনিক সভ্যতার যুগ চলছে, তার মানে আমরা ক্রমশঃ সভ্যতার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা আপনজনদের বেলায় সত্য, মিথ্যা, অসভ্যতাকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র ন্যায় আড়াল করে গর্ব করছি তাদের নিয়ে। একদা পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়-অনাত্মীয়, চেনা-অচেনা বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে সমীহ করে চলার রেওয়াজ ছিলো, সেগুলি এখন ব্যাকডেটেড মনে করে আধুনিক শিক্ষা ও সভ্যতার দিকে ধাবিত হয়ে আমরা আসলে কি শিখছি!

দেশ ও দশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী সমাজ বিরোধী ব্যক্তি সমাজের হর্তাকর্তা। সারা জীবন শুনে ও দেখে এসেছি ‘ব্যক্তির চেয়ে দল (সমষ্টি) বড়, দলের থেকে দেশ’। এখন স্লোগান উল্টে গেছে। গোষ্ঠী বা দল মাঝে থাকার কারণে তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু দুই মেরু সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। পৃথিবী একটু নড়ে উঠলে জীবন যায় যায়, সেখানে উল্টে গেলে কি হতে পারে, এই ভেবে ‘আত্মারাম খাঁচা ছাড়া’। এখনও যে, মনুষ্য প্রজাতির মানবিকতা বেঁচে আছে তা অবিশ্বাস্য!

কোনো মানুষ যে সৎ, নির্মোহ, নির্লোভ, নিঃস্বার্থে কিছু করতে পারে, তা অনেক দিনের সহচর ঘনিষ্ঠজনরাও সহজে বিশ্বাস করতে চায় না। অনেক সময় দেখা যায় দম্পতিদের মধ্যে বাক্য বিনিময় হয় এভাবে স্বামী: ‘জীবনে সব থেকে বড় ভুল তোমাকে বিয়ে করা; স্ত্রী: ‘আমি বলে তোমার সংসার করে যাচ্ছি, অন্য কোনো মেয়ে হলে একদিনও টিকতো না’। যা ছিলো কথার কথা। কিন্তু এখন হরহামেশাই তালাকের মতো একটি শব্দ দিয়ে তাসের ঘরের মতো পটাপট সংসার ভাঙ্গতে দেখে বুকটা ব্যথায় ভরে ওঠে।

কিছু শব্দ কেন সৃষ্টি হয়েছে আমি জানিনা, জানার ইচ্ছাও নেই আমার, বিষয়টি ভাষাবিদদের। অজ্ঞ বললে আমরা রেগে যাই (গা জ্বলে), আর বিশেষজ্ঞ বললে হই খুশি। বাঘ বা সিংহ বললে বুক টান হয়ে যায়, কুত্তা বললে কুঁকড়ে যায় মন। বনের রাজা সিংহদের দেখেছি, এক ডগের (সারমেয়) কাছে হার মানতে; দেখেছি দুই বাঘকে নাজেহাল হতে এক বানরের কাছে। দেখেছি বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতায় আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া, মেধার পরীক্ষায় প্রথম উত্তীর্ণ হতে হয় সুন্দরীদের। এগুলি দেখতে পারছি ঘরে বসে প্রযুক্তির কল্যাণে।

এতো সুযোগ-সুবিধা পাবার পরেও প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ধারায় শিক্ষা, জ্ঞান আমাদের মনুষ্য প্রজাতির বিবেক, নৈতিকতা কেনো জাগ্রত হয়ে মানবিক হচ্ছে না তা সত্যিই দূর্বোধ্য। মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য কি, যেখানে মনুষ্যত্বই মানুষের প্রথম গুণাবলী কিন্তু তা আজ ডাইনোসারের মতো হারাতে বসেছে এ ধরণী থেকে। তা হলে বর্তমানে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া দু’পায়ের মনুষ্যত্বহীন বিবর্তীত এই প্রজাতির নাম কি হবে?


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP