বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »আঞ্চলিক ভাষার অপব্যবহার
আঞ্চলিক ভাষার অপব্যবহার

Sunday, 21 January, 2018 01:21pm  
A-
A+
আঞ্চলিক ভাষার অপব্যবহার

আঞ্চলিক ভাষার অপব্যবহার
আবু বকর সিদ্দিক

আমার যতটুকু জ্ঞান তাতে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার সাহিত্যে স্বীকৃত নয়। তবুও সাহিত্য রচনা বা ব্যবহারিক ভাষায় আঞ্চলিক ভাষা বা শব্দ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত একেবারে যে নেই তাও বলবো না। মাইকেল মধুসুদন দত্তের “বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ” নাটকে পাত্রপাত্রীর সংলাপে যশোরের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় হলেও ভূমিকা বা বর্ণনার ক্ষেত্রে তার ব্যবহার হয়নি কোথাও। লালন শাহের গানের মধ্যে ছন্দ মিলের প্রয়োজনে কিছু অপ্রচলিত আঞ্চলিক শব্দ পাওয়া যায়। যদিও পুঁথিগত বিদ্যা তার ছিলোনা বলেই আমরা জানি। কিন্তু কি চমৎকার ভাবেই না সাহিত্যের ভাষায় তার রচনাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। কবিতায়, উপন্যাসে, ছোট গল্পে ও নাটকে প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভাষা বা শব্দ প্রয়োগে সমৃদ্ধশালী বাংলা ভাষার কোনো অঙ্গহানী না ঘটে তার দিকে লেখকগণের সজাগ দৃষ্টি থাকে। সেহেতু ভাষা সকল বিতর্কের উর্দ্ধে থেকে সাবলীল গতিতে বয়ে চলতে পারে আর উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গী এক থাকে। এ ধারা চলে আসছে বিদ্যাসাগর পরবর্তী আধুনিক বাংলাভাষা সৃষ্টির পর থেকেই। মাইকেল মধুসুদন দত্ত, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলামসহ পূর্বাপর সকলেই এই একই ধারা অনুসরণ করেছেন, আর তাদের রচনায় ভাষা পেয়েছে মাধুর্য, হয়েছে প্রাঞ্জল।

স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের জাতীয়তা বোধ যেমন জাগ্রত হয়েছে তেমনি আঞ্চলিকতা বোধেরও সৃষ্টি হয়েছে। এই বোধগুলি আবার অন্ধত্বে রূপও পেয়েছে, যা এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কোনো কিছুতেই অন্ধত্ব যে শুভ ফল দেয় না তা সকলেই অনুমেয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। ইদানিং এর একটা অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যেনতেন ভাবে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ ঘটিয়ে নিজের বা নিজেদের মহত্মের প্রমাণ দিতে উন্মুখ। ফেসবুকের কারণে তা সহজ হয়েছে। কিন্তু এই প্রবণতা আত্মঘাতি, যা ভাষাকে বিকৃত করবে, সংঘাতের জন্ম দেবে। তাই অতি আবেগ, অতি আঞ্চলিকতা, অতি জাতীয়তাবোধকে পরিহার করতে হবে, এবং তা এখনই। 


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP