বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »বাঙালী ও ইয়াংকিরা বর্তমানে সমগোত্রীয়
বাঙালী ও ইয়াংকিরা বর্তমানে সমগোত্রীয়

Thursday, 18 January, 2018 05:57pm  
A-
A+
বাঙালী ও ইয়াংকিরা বর্তমানে সমগোত্রীয়

নীতি-নৈতিকতার প্রসঙ্গ 
আবু বকর সিদ্দিক

নীতি-নৈতিকতায় বাঙালী ও ইয়াংকিরা বর্তমানে সমগোত্রীয়। কারণ আমেরিকার ইয়াংকিদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কখনো কোনো নীতিবোধ কাজ করেনি। তারা ছলে বলে কৌশলে নিজের নিজের আখের গুছিয়ে ধণশালী হয়েছে। এই লুটেরা ইয়াংকিরা বহু বছর ধরে তাদের লুট-তরাজের রাজত্ব চালিয়ে গেছে। ইউরোপ থেকে যে অধিবাসিগণ আমরেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলো তারা অধিকাংশই সামজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে ছিলো অপরাধি। অন্যরা হত দরিদ্র পরিবার থেকে ভাগ্য অন্বেষণে গিয়েছিলো সেখানে। তখন আমেরিকা বৃটিশ রাজের শাসনাধীন ছিলো। ইতিহাস বলে তারা যত রেড ইন্ডিয়ানদের হত্যা করেছে তত পশু-পক্ষীও হত্যা করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে এরা কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। তবে নেটিভ আমেরিকানদের জনসংখ্যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর থেকে মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহের প্রকোপে ব্যাপক হ্রাস পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে আটলান্টিক মহাসাগর তীরস্থ উত্তর আমেরিকার তেরোটি ব্রিটিশ উপনিবেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই এই উপনিবেশগুলি একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে উপনিবেশগুলি তাঁদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ঘোষণা করে এবং একটি সমবায় সংঘের প্রতিষ্ঠা করে। মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মার্কিন বিপ্লবী যুদ্ধ(১৭৭৫-১৭৮৩) হল গ্রেট বৃটেনের বিরুদ্ধে আমেরিকার তের উপনিবেশের বিদ্রোহ। প্রথমে এই লড়াই শুধু উপনিবেশে সীমাবদ্ধ থাকলেও ফরাসি ও স্প্যানিশদের আগমনের ফলে তা ইউরোপ, ক্যরিবীয় পেট্রিয়ট মিলিশিয়া ও বৃটিশ নিয়মিত সৈন্যবাহিনীর মধে ১৭৭৫ সালে লেক্সিংটন কনকর্ডের যুদ্ধ সংগঠিত হয়। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিদ্রোহী রাজ্যগুলি গ্রেট ব্রিটেনকে পরাস্ত করে। এই যুদ্ধ ছিল ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসে প্রথম সফল ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা যুদ্ধ যার মাধ্যমে আমিরিকা স্বাধীনতা পায়। এই দিক থেকেও বাংলাদেশ ও আমেরিকার স্বাধীনতার মিল রয়েছে, কারণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের যাতাকল থেকে মুক্তির জন্য ন’মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিলো।।

নবগঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাতীয়তা ছিলোনা। তারা বৃটিশ, স্প্যানিশ, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় ইত্যাদি জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলো। এবং সে কারলে আমিরিকার স্বাধীনতার পর সেখানে বহু বছর ধরে গ্রহযুদ্ধ সংগঠিত হয়। তবে এই দ্বিধাবিভক্ত উইরোপিয়দের মধ্যে রেড ইন্ডিয়ান নিধনের ব্যাপারে মতানক্য হতে দেখা যায়নি। আমেরিকার জনগণ শুরু থেকেই বাহুবলের মাধ্যমে নিজেকে টিকিয়ে রাখা ও সমাজে প্রতিষ্ঠা করাই ছিলো তাদের লক্ষ্য, যা আজো অব্যাহত রয়েছে। তাই সেই সমাজে দয়া-মায়া, নীতি আদর্শে চর্চা ছিলো না কখনো, আজো নেই। এমনকি ধর্মীয় চেতনাবোধও তাদের প্রখর ছিলো না। তাই অধুনা বিশ্বমানবতার ধ্বজাধারী এবং সভ্য জাতির তকমাধারী আমেরিকায় কতটুকু মানবতার ও সভ্যতা বিরাজমান তা সকলের বিবেচ্য।

কিস্তু এই ক্ষেত্রে মার্কিনীদের সাথে বাংলাদেশীদের বিরাট পার্থক্য রয়েছে। ভারতীয় ভূখন্ডে অবস্থিত বঙ্গভূমির অধিবাসিগণ যুগযুগ ধরে বাঙালী জাতীয়তাবাদের পরিচয় বহন করে। একভাষা, একই অবয়ব, একই রং ধারণ করে তারা বহু শতাব্দি সম্পৃতির সাথে বসবাস করে আসছে। যুগে যুগে নানা জাতি এই দেশকে তাদের করতলগত করলেও সামাজিক বন্ধন, ব্যক্তিগত জীবনাচার এবং ধর্মীয় সস্কৃতিতে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু চতুর ইংরেজ এই জাতির মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের শাসন ক্রিয়া চালিয়ে গেছে। আমাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করে লোভী আর স্বার্থপর বানিয়ে গেছে। আমাদের ঘুষ খাওয়া শিখিয়েছে। দূর্নীতি করার সকল কলাকৌশল দেখিয়ে গেছে। আমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি, অতিমাত্রায় ধার্মিক বনেছি, অবৈধ বিত্তবৈভবে আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি। রাজনীতি দূর্বৃত্তায়নে ছেয়ে গেছে। আমরা যেনতেন প্রকারে নেতৃত্ব চাই, ধণ সম্পদ চাই, বহুতল ভবন গড়তে চাই। আমরা আমেরিকার ইয়াংকিদের মতো ভুলে গেছি নীতিবোধ, নৈতিকতাকে দিয়েছি জলাঞ্জলি। আমরা ধর্মকে অপকর্মের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শিখেছি এবং বাণিজ্যে রূপান্তর ঘটিয়েছি। আমরা সুশিক্ষাকে কুশিক্ষার মোড়কে আবদ্ধ করেছি। আমরা সারল্যকে দূর করে কুটিল হয়েছি, বয়স্কদের সম্মান জানাতে ভুলে গেছি, শিশুদের প্রতি মমত্ব হারিয়ে ফেলেছি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা ব্যক্তি স্বার্থে এতটাই বেপরোয়া যে আমাদের চরিত্র এখন ইয়াকিংদের মতো দস্যুবৃত্তিতে ভরা। আমরা এখন আমেরিকার মতো অশুভ, ভন্ডামি আর মিথ্যাচারের অনুসারী। কি রাজনীতি, কি সমাজনীতি, কি ব্যক্তিজীবন সর্বত্রই একই চিত্র।

কিন্তু এতো কিছুর পরও আমি হতাশ নই এই জন্যে যে, এসব অনাচার দূরাচারের মাঝেও যদি আমেরিকা উন্নতির চরম শিখরে উঠতে পারে তবে বাংলাদেশও হয়তো একদিন উন্নত দেশে পরিনত হবে। তখন আমরা প্রকৃত বাঙালী সত্তাতে খুঁজে ফিরবো দেশময়, এটুকুই দুঃখ। 


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP