বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» মুক্তমত »বৃক্ষপ্রেমীদের অন্তর কেঁদে উঠে, তীব্র প্রতিবাদে
বৃক্ষপ্রেমীদের অন্তর কেঁদে উঠে, তীব্র প্রতিবাদে

Thursday, 18 January, 2018 05:43pm  
A-
A+
বৃক্ষপ্রেমীদের অন্তর কেঁদে উঠে, তীব্র প্রতিবাদে

জীবনের জন্য বৃক্ষই মূখ্য
তারিকুল ইসলাম পলাশ

ঝিনাইদহের প্রাচীন কড়ই গাছ গুলি রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার যখন সচেতন এলাকাবাসী, তখন খবর প্রকাশ হয় এ গাছগুলির অংশ ঐতিহাসিক যশোর রোডের সব কড়ইগাছ কেটে চার লেনের মহাসড়কে উন্নীতকরণের মহাপরিকল্পনা। দেশের বৃক্ষপ্রেমীদের অন্তর কেঁদে উঠে, তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে; বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের পরিকল্পনা স্থগিত করেছিল। খুশি হলেও একটি পত্রিকায় সংবাদ পড়ে হতভম্ব হয়েছিলাম ‘বাধা ২,৩১২ টি রেইনট্রি গাছ, চারলেনে উন্নীত হচ্ছে না যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক’ জীবনের জন্য বৃক্ষই মূখ্য, সেখানে অসহায়, নিরীহ, নির্বাক বৃক্ষ তথাকথিত উন্নয়নের প্রতিপক্ষ যা হাস্যকর! 

ক’দিন আগে তখন আমরা কলকাতায় হঠাৎ করে খবর পেলুম ঐতিহাসিক যশোর রোডের সব গাছ কেটেই সড়ক উন্নয়ন হবে, সড়কটি যেখানে যুক্ত হবে পশ্চিমবঙ্গের সে অংশের মহাসড়ক স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করলাম, সেই একই বয়সী কড়ই গাছগুলিকে রাস্তার মাঝখানে রেখেই ডিভাইডারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিবেশ সচেতন মানুষের দাবীর কল্যানে বৃক্ষ ও সড়ক উভয়ের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে করা হয়েছে পরিকল্পনা।

দেশের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার অজুহাতে বিনামূল্যে প্রাপ্ত সাইবার ক্যাবল সংযোগ গ্রহণ না করে এখন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নিতে হচ্ছে, আমরা সেই হতভাগা জাতি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের ইতিবাচক উন্নয়ন দূরূহ হয়ে পড়বে।

আমরা কি করছি, কাঁদা ছুড়া-ছুড়ি করছি, পৃথিবীতে ডিম আগে না মুরগী আগে এসেছে এই নিরর্থক বিতর্ক করে চলছি। বিজ্ঞের মত সমাধান দিচ্ছি মাথায় টিউমার হয়েছে মাথা কেটে বাদ দিয়ে দাও! লোভের বশীভূত হয়ে একসাথে সব ডিম পেতে গিয়ে হাঁসটিই মেরে ফেলছি। আমি ইচ্ছা করে কিছু লিখতে চাইনি, কারণ এসব নিয়ে অনেক লিখেছি কাজ করেছি, যেখানে সাধারণ মানুষের মতামত মূল্যহীন ও অনর্থক তা নিয়ে লিখে লাভ কি! তাই রাজ দরবারে এক সন্তানের দাবীদার দুই নারীর মধ্যে প্রকৃত মাতার মতো সন্তানটি অন্তত বেঁচে থাকুক সে আকাক্সক্ষা নিয়ে দাবী ছেড়ে দিয়েছি। মানুষ জাতীয়ভাবে সংগঠিত হচ্ছে আর আমরা নিজেদের পান্ডিত্য জাহির করতে সত্য মিথ্যা যাচাই না করে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে যা খুশি তাই বলে ও লিখে চলেছি। ‘নিজে সাধু’ এই আত্মঘাতী প্রবণতায় অন্যের ও পরবর্তী প্রজন্মের ঘাড়ে দোষ দিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি যা সত্যিই দুঃখজনক।

গাছ কাটা আর না কাটার দ্বন্দ্বে না গিয়ে পরিবেশ বিষয়ক স্থপতি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলে সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা করুন। আমরা জানি লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আপনারা ইউরোপ-আমেরিকা স্ট্যাডি ট্যুরে যাবার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। পাশে পশ্চিমবঙ্গের সরকার অধিকাংশ বৃক্ষগুলিকে রেখে কিভাবে চারলেন মহাসড়ক উন্নয়ন করেছে তা দেখে আসুন, শিক্ষা গ্রহণ পূর্বক এর ভালো-মন্দ দিকসমূহ সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত নিন, যা প্রকৃত অর্থে গণ মানুষের কল্যাণে আসে।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP