বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» স্পটলাইট »গোপালগঞ্জে ছাত্রের নেতৃত্বে ১১ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে মারপিট
গোপালগঞ্জে ছাত্রের নেতৃত্বে ১১ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে মারপিট

Tuesday, 16 August, 2016 11:57am  
A-
A+
গোপালগঞ্জে ছাত্রের নেতৃত্বে ১১ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে মারপিট
ডেস্ক : গোপালগঞ্জে মেবাইল ব্যবহারে বাধা দেয়ায় এক ছাত্রের নেতৃত্বে ১১ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন উলপুর পিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক রতন চন্দ্র পাল, সহকারী শিক্ষিকা বনানী রায়, মানসী বিশ্বাস, অর্জুন সরকার, আয়ূব মোল্লা, অখিল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া, স্বপন কুমার বিশ্বাস,শামীম সরদার,সমশের আলী মোল্লা, বিনয় সরকার অনাদী
আহত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস (৫০) ও সহকারী শিক্ষিকা বনানী রায়কে (৩৬) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সাজ্জাদ মিনা ও মোছা মিনা নামে দু’ জনকে আটক করেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে দুপুরে উলপুর পিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক অখিল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া জানান, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাই ব্যবহার নিষেধ রয়েছে। গত ১৪ অগষ্ট ৯ম শ্রেণির ছাত্র জামিল মিনা জনি স্কুলে মোবাইল নিয়ে আসে। বিষয়টি জনির সহপাঠীদের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন। প্রধান শিক্ষক শ্রেণি শিক্ষক সমশের আলী মোল্লাকে মেবাইল উদ্ধার করে তার কাছে রেখে দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।মোইল নিয়ে টিফিন পিরিয়ডে সিদ্ধান্ত হবে বলেও প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষকে জানান। শ্রেণি শিক্ষক জনির কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করে তার কাছে রেখে দেন। সমশের আলীর ক্লাস শেষে ওই ছাত্র মোবাইল ফেরৎ চায়। ওই শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে মোবাইল ফেরৎ নেয়ার কথা বলে। জনি প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে মোবাইল ফেরৎ চাইলে টিফিনের সময় দেয়া হবে বলে প্রধান শিক্ষক জানান। জনি প্রধান শিক্ষকের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে জনিকে ধাপ্পর দেন। এতে জনি প্রধান শিক্ষকের ওপর পাল্টা আঘাত করে প্রধান শিক্ষককে শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জনিকে মারধর করে। জনির পিতা হোসেন মিনা ও তার তাদের লোকজন বিষয়টি ২৪ আগষ্ট মিমাংসা করে দেবেন বলে জানান। ১৫ আগষ্ট স্কুল বন্ধ ছিলো। কিন্তু এর মধ্যেই তারা ¯ু‹লের শিক্ষদের ওপর হমালার পরিকল্পনা করে। আজ মঙ্গলবার সকালে ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা স্কুলের যাওয়ার জন্য উলপুর বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এ সময় জনি ও তার পিতা হোসেন মিনার নেতৃত্বে ইউপি মেম্বর রইচ মিনা, এলাকাবাসী এনায়েত মিনা, আনোয়ার মিনা,শাহাবুদ্দিন, মোছা মিনা, স্কুলের সাবেক ছাত্র সজিব মিনা, রাজিব মিনা, রানা মিনা, লিপ্টন মিনা,বেলায়েত মিনা, সাজ্জাদ মিনা সহ ১৪ /১৫ জন লাঠি, রড, হকিস্টিক নিয়ে শিক্ষক ও ম্যাডামদের ওপর হমলা চালিয়ে বেদম পিটিয়ে আহত করে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস বলেন,মোবাইল ব্যবহারে বাধা দেয়ায় জনি ও তার পিতা হোসেন মিনার লোকজন ৯ জন শিক্ষক ও ২ জন শিক্ষিকাকে পিটিয়েছে। আমরা এ ঘটনার পর গোপালগঞ্জ শহরে চলে আসি। ছাত্র অভিভাবকরা এ ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের গ্রেফতারের মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বিষয়টি পুলিশ সুপার এস.এম এমরান হোসেনেকে জানানের পর তিনি আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে থানায় মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন। বিকেলে আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযুক্ত উলপুর ইউপির ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার রইচ মিনা বলেন, শিক্ষকদের উপর হমলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ বিষয়টি মিমাংসা করার উদ্যোগ গ্রহন করেছি। তবে মারপিটের সময় আমি ছিলাম না। আমি এলাকার মেম্বর ও ব্যবসা বানিজ্য করি । এ কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে ফাঁসতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ সেলিম রেজা বলেন, এ ঘটনায় পর্যন্ত আমরা ২ জনকে আটক করা হয়েছে। শিক্ষদের অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় মমলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার তদন্তে ও দোষীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP